kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রামপুরায় ছাত্রের মৃত্যু

পুলিশের দুই মামলা আসামি ৮০০

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের দুই মামলা আসামি ৮০০

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাঈনুদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই থানায় মোট তিনটি মামলা করা হয়েছে। গত দুই দিনে রামপুরা ও হাতিরঝিল থানায় এই তিন মামলা করা হয়।

এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে রামপুরা ও হাতিরঝিল থানায় দুটি মামলা করে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে অজ্ঞাতপরিচয় ৮০০ উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও জনতাকে আসামি করা হয়। রামপুরা থানায় করা অন্য মামলার বাদী বাসচাপায় নিহত মো. মাঈনুদ্দিন দুর্জয়ের মা রাশেদা বেগম।

পুলিশের দুটি মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রামপুরা ডিআইটি সড়কে ছাত্র-জনতা বেআইনি সমাবেশ ঘটিয়ে দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় রাস্তায় দাঙ্গা, সড়কে চলমান গাড়ি ভাঙচুর ও পেট্রলবোমা দিয়ে গাড়িতে আগুন ও পথচারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করেছে।

এর আগে মাঈনুদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার গ্রিন অনাবিল পরিবহনের সংশ্লিষ্ট বাসের চালককে আসামি করে রামপুরা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় বাসের চালক সোহেল (৩৫) এবং তাঁর সহকারী চান মিয়া ও সুপারভাইজার গোলাম রাব্বি ওরফে বিন

রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঘটনার দিন উত্তেজিত জনতার মারধরে আহত বাসচালক সোহেল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। পুলিশের দুই মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর মতিঝিল বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকালে হাতিরঝিল থানায় করা মামলার বাদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ কে এম নিয়াজউদ্দিন মোল্লা। তিনি এজাহারে অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও জনতা’কে আসামি করেন।

থানার ওসি আব্দুর রশিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে একই ধারায় ৪০০ থেকে ৫০০ উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র-জনতাকে আসামি করে রামপুরা থানায় মামলা করেন এসআই মারুফ হোসেন। মামলায় গত সোমবার রাতে সাতটি বাস পোড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে রামপুরা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই শিক্ষার্থী (মাঈনুদ্দিন) নিহত হওয়ার পর উচ্ছৃঙ্খল জনতা সাতটি বাসে আগুন ও ভাঙচুর চালায়। সব আসামি অজ্ঞাতপরিচয়। এখনো এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তবে ফায়ার সার্ভিসের তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ঘটনায় ৯টি বাস পুড়েছে। এ সময় আরো তিনটি বাস ভাঙচুর করার পাশাপাশি আগুনে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ডিআইটি রোড পূর্ব রামপুরায় গ্রিন অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হয় একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মাঈনুদ্দিন। সে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে এ দুর্ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ছাত্র-জনতা। ঘটনার পর সেখানে বাস আটকে ভাঙচুর করা হয় এবং ৯টি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

 



সাতদিনের সেরা