kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আনুষ্ঠানিকতা দ্রুতই সারল পাকিস্তান

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আনুষ্ঠানিকতা দ্রুতই সারল পাকিস্তান

মুশফিকুর রহিম যথারীতি সবার আগে অনুশীলনে নেমে গেলেন। নেটে ব্যাট করলেন লম্বা সময়। একই সময়ে তাঁর সতীর্থদের বেশির ভাগকে দেখা গেল ভলিবল খেলায় ব্যস্ত। এর কোনোটিই এমন বিরল কোনো দৃশ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ শুরুর আগের দিন এ রকমই তো হওয়ার কথা। পার্থক্য বলতে এবার সেসব হলো টেস্টের পঞ্চম দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পর।

দুই সেশন বাকি থাকতেই ফল হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমকেও দেখা গেল আরেক সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে চক্কর দিতে। হোটেলে ফেরার আগে দুই আম্পায়ারও তাঁদের সন্ধ্যার জগিংটা আগাম করে গেলেন। অবশ্য এমন ফুরসত মেলারই কথা ছিল। ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে পাকিস্তানকে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে করতে হতো আরো ৯৩ রান। প্রয়োজনীয় রান করতে তাদের লাগে দুই ঘণ্টারও কম সময়। দুই ওপেনারকে হারিয়ে তারা পৌঁছে যায় লক্ষ্যে। ৮ উইকেটের হার দিয়েই তাই বাংলাদেশকে শুরু করতে হয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় চক্র।

বিনা উইকেটে ১০৯ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করেন আবিদ আলী ও অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ শফিক। টেস্টের তৃতীয় দিনও এই দুই ওপেনার শুরু করেছিলেন কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪৫ রান নিয়ে। সেখান থেকে তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মমিনুল হকের দল এমন ঘুরে দাঁড়ায় যে পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে পায় ৪৪ রানের লিডও। পঞ্চম দিনেও সে রকম কিছুরই আশা করেছিলেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তবে ম্যাচে ফেরার জন্য প্রথম আধাঘণ্টায়ই কিছু একটা করার শর্তও জুড়ে দিয়েছিলেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান।

দুই পাকিস্তানি ওপেনার শেষ দিনের প্রথম ৩০ মিনিট নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়ার পর বাংলাদেশের কিছু করার ন্যূনতম সম্ভাবনাও হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। বাকি থাকে কেবল হারের আনুষ্ঠানিকতাই। যদিও দুটি মেডেন দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংই করছিলেন। আবার আবিদ-শফিকদেরও দলকে দ্রুত জয়ের তীরে পৌঁছে দেওয়ার তাড়া ছিল না। তাঁরা জয়ের পথে এগোচ্ছিলেন রক্ষণাত্মক ঢঙেই। মারার বল পেলেই শুধু চড়াও হচ্ছিলেন। প্রথম ইনিংসে তাঁরা দলকে দিয়েছিলেন ১৪৬ রানের সূচনা। এবার তার চেয়েও বেশি, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁদের ওপেনিং জুটি ১৫১ রানের।

জয় থেকে ৫১ রান দূরে থাকতে ভুল করে বসেন শফিক। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে ডেকে আনেন বিপদ, ৭৩ রানে হন এলবিডাব্লিউ। তাতে টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরির স্বপ্নও অপূর্ণই থেকে যায় তাঁর। একই সঙ্গে দশম পাকিস্তানি ব্যাটার হিসেবে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি থেকে ৯ রান দূরে থামতে হয় ম্যাচসেরা আবিদকেও। সোজা বলে তাঁকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন পুরো ম্যাচে অক্লান্তে ৭২ ওভার হাত ঘুরিয়ে যাওয়া তাইজুল ইসলাম। হারের ব্যবধানও আরো কমাতে পারতেন প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৭ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি স্পিনারই। পরের ওভারেই বাবর আজমের দেওয়া মাথা সমান উচ্চতার রিটার্ন ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি তিনি। ওই সময় পাকিস্তান অধিনায়কের রান ৫। অবশ্য তখন তো আর শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি নয় যে ম্যাচের পর তা নিয়ে হা-হুতাশ শোনা যাবে।

চতুর্থ দিনের শেষেই স্বাগতিকদের কপালে হার লেখা হয়ে গিয়েছিল। ক্রিকেটীয় অনিশ্চতার ছুতায় তবু শেষ দিনের সকালে বিশেষ কিছুর আশা ছিল। প্রথম ৩০ মিনিটে বিলীন হয়ে যায় তাও। একমাত্র স্বস্তি বলতে ১০ উইকেটে হারের লজ্জা এড়ানো!

 



সাতদিনের সেরা