kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কুমিল্লায় কাউন্সিলর খুন

‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই আসামি নিহত

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই আসামি নিহত

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহাকে হত্যা মামলার দুই আসামি গত সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—সোহেলের ভাইয়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. সাব্বির হোসেন (২৮) ও ৫ নম্বর আসামি সাজন (৩২)।

পুলিশের ভাষ্য, সদর উপজেলার সংরাইশ বালুমহালসংলগ্ন এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। নিহত সাজন কাউন্সিলর সোহেলের বুকের বাঁ পাশে গুলি করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সোহেলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন সাব্বির।

সাব্বির নগরীর সুজানগর পানির ট্যাংক এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়ার ছেলে ও সাজন সংরাইশ এলাকার কাঁকন মিয়ার ছেলে। কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত পাঁচজনের মধ্যে এই দুজনও ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লা নগরীতে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার ৬ নম্বর আসামি মো. আশিকুর রহমান রকিকে নির্দোষ দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, গত ২২ নভেম্বর ঘটনার সময় তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি আনওয়ারুল আজিমের ভাষ্য মতে, মামলার আসামিরা সংরাইশ ও নবগ্রাম এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন খবর পেয়ে থানা ও জেলা ডিবি পুলিশ গত সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান শুরু করে। রাত প্রায় ১টার দিকে পুলিশ সদর উপজেলার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের সংরাইশ বালুমহাল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে সাব্বির ও সাজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওসির ভাষ্য, সাব্বির ও সাজনের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার আগের দিন রাতে সাজনের বাসায় কাউন্সিলর রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

ওসি আনওয়ারুল বলেন, সন্ত্রাসীদের গুলিতে এসআই মোনায়েম হোসেন, পুলিশ সদস্য রফিক মিয়া ও ফারুক মিয়া আহত হন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য ঢাকার পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি পাইপগান, পিস্তলের গুলি, গুলির খোসা ও কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। গতকালই নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার বাদী সৈয়দ মো. রুমন বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত সাব্বিরকে কেন্দ্র করে মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের বিরোধ ছিল। সাব্বিরকে কয়েক দিন আগে গভীর রাতে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক ব্যক্তির বাড়িতে দেখা যায়। এলাকার মানুষ চোর বলে তাঁকে ধাওয়া করলে শাহ আলম এসে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে সাব্বিরকে নিয়ে যান। বিষয়টি তাঁর ভাই পুলিশকে জানান। এ জন্য শাহ আলম তাঁর ভাইয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন।

রুমনের দাবি, ‘আমরা খুনের মদদদাতা, অত্যাধুনিক ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কারা সরবরাহ করল এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য কী—এসব জানতে চাই। সব কিছু জানতে প্রধান আসামি শাহ আলমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। ’

গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ড শুনানি আজ

মামলার ৬ নম্বর আসামি মো. আশিকুর রহমান রকি, ৭ নম্বর আসামি মো. আলম মিয়া, ৮ নম্বর আসামি জিসান মিয়া ও ৯ নম্বর আসামি মো. মাসুমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।

ওসি আনওয়ারুল বলেন, বুধবার (আজ) রিমান্ডের শুনানি হবে। রিমান্ডে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে খুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

গ্রেপ্তার মামলার ৪ নম্বর আসামি মো. সুমনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আসামি আশিকুরকে নির্দোষ  দাবি পরিবারের

মামলার আসামি আশিকুর রহমানের পরিবার গতকাল কুমিল্লা নগরীর একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তাঁকে নির্দোষ দাবি করেছে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আশিকুরের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সময় তাঁর বাবা আনোয়ার হোসেন, মা রানু বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আশিকুরের বাসা ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিকোনা এলাকায়।

গত শনিবার লালমনিরহাট থেকে আশিকুরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে।

সংবাদ সম্মেলনে আশিকুরের স্ত্রী দাবি করেন, ‘আমার স্বামী নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী। ‘রকি স্টোর’ নামে তাঁর কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। এই হত্যা মামলায় আমার স্বামীকে আসামি করায় আমরা অবাক হয়েছি। ’

জান্নাতুল ফেরদৌস দাবি করেন, গত ২২ নভেম্বর ঘটনার সময় তাঁর স্বামী-শ্বশুর রাজগঞ্জ বাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন। সেখানকার ব্যবসায়ীরা সবাই তাঁকে বাজারে দেখেছেন। এ ছাড়া বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

জান্নাতুল অভিযোগ করেন, একটি মহল তাঁদের এলাকাছাড়া করেছে। গত সোমবার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তাঁরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁর শাশুড়ি। আশিকুরের বাবা আনোয়ার হোসেন ও রানু বেগম বলেন, হয়রানি করতে তাঁদের সন্তানকে মামলার আসামি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলাও নেই। তাঁরা ছেলের মুক্তি দাবি করেন।

মামলার বাদী রুমন অবশ্য বলেন, পুলিশ মামলার তদন্ত করছে। আশিকুর দোষী না নির্দোষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

গত ২২ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর পাথরিয়াপাড়ায় নিজ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কাউন্সিলর সোহেল ও আওয়ামী লীগের কর্মী হরিপদ সাহা।



সাতদিনের সেরা