kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিশেষ লেখা

রাজনীতিকরা চাইলে এত দিনে নিরাপদ সড়ক হতো

ইলিয়াস কাঞ্চন, চেয়ারম্যান, নিরাপদ সড়ক চাই

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




রাজনীতিকরা চাইলে এত দিনে নিরাপদ সড়ক হতো

ইলিয়াস কাঞ্চন

আমরা পাকিস্তানের নিষ্পেষণে ছিলাম ২৪ বছর। সেখান থেকে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে উদ্ধার হতে পেরেছি। কিন্তু ২৮ বছরে কেন আমরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পারলাম না, এটা ভাবনার বিষয়। যারা সরকারে এসেছে তাদের ভাবতে হবে।

বিজ্ঞাপন

যে সংস্থাগুলো আছে সড়ক নিরাপদ রাখার দায়িত্বে, তাদের ভাবতে হবে। যাঁরা গাড়ি চালাচ্ছেন, রাস্তায় চলছেন—তাঁদের সবারই কিন্তু একটা বোধোদয় হওয়া উচিত।

এই বোধোদয়ের জায়গাটা নাড়া দেওয়ার কাজটি করতে পারেন যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁরা। প্রত্যেকের যে প্রভাব তাঁদের নিজ এলাকায়, তিনি যদি প্রতিজ্ঞা করতেন—আমার এলাকায় একটি মানুষকেও সড়ক দুর্ঘটনার আহত হতে দেব না, মৃত্যুবরণ করতে দেব না, তাহলেই হয়। কিন্তু এই কাজটি তাঁরা করেন না। তাঁরা উল্টোটা করেন। নিজেরাই আইনকে অশ্রদ্ধা করেন।

উল্টো পথে গাড়ি নিয়ে চলেন। তাঁদের কর্মীরা মোটরসাইকেলে রাস্তা দাবড়িয়ে বেড়ান। হেলমেট পরেন না।

আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে কী বোঝায় তা অনেকেই বোঝে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যার মধ্যে আছে, সে কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না। সে কখনো স্বার্থপর হতে পারে না। সবার সুখ-শান্তির কথা সে বিবেচনা করবে। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে ছাত্ররা যে হাফ ভাড়ার সুবিধা পেয়ে আসছে, সে জায়গায়ও বাস মালিকরা হাত দিচ্ছেন।

স্বাধীন দেশে কেন তাঁদের মধ্যে এই সচেতনতা আসে না—আমি গাড়ির ব্যবসা করব। আমার গাড়ির মাধ্যমে যেন একটি মৃত্যুর ঘটনাও না ঘটে। এটাই তো হওয়ার কথা। আমি ভালো চালক নিয়োগ দেব। গাড়িটাকে ফিট রাখব। যাতে জনসেবা হয়, সেভাবেই আমি গাড়িটি পরিচালনা করব। সেগুলো কি করছেন তাঁরা?

দেশের সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ, আমাদের দেশে চালক যে পদ্ধতিতে (অবৈজ্ঞানিকভাবে) তৈরি হচ্ছে সেটা। যেহেতু তারা ইনস্টিটিউটে যায় না, একজন চালকের দায়িত্ব-কর্তব্য, আইন-কানুনের জ্ঞান, ধৈর্য—এগুলো শিখতে পারে না। গাড়ি চালাতে গেলে তার নিজের যে ফিটনেস দরকার তা-ও সে জানে না। তার দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি, ধৈর্য—সেগুলো সে শেখেনি। এগুলোই তো মূল।

আরেকটি বিষয় হলো, পরিবহন খাতটিই গড়ে উঠেছে অনিয়মের মধ্য দিয়ে। কোনো সরকারই একে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনেনি। আমাদের পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতির এটা একটা বড় কারণ।

এ অবস্থায় সড়কে আইন না মানার প্রবণতা সবার মধ্যে ঢুকে গেছে। শুধু চালকরা নয়, যাত্রী-পথচারী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপিরা সড়কের নিয়ম-কানুন মানেন না। যার যতটুকু ক্ষমতা আছে, সবাই যেন সেটা সড়কে এসে প্রদর্শন করছে।

হাফ পাসের বিষয়টি শতভাগ যৌক্তিক। আজকের শিক্ষার্থীরা যাদের কাছে হাফ পাস দাবি করছে, তাঁরাও কিন্তু হাফ পাসে বাসে চলেছেন। এই প্রচলন চলে আসছে ১৯৬৯ সাল থেকে। সেই সময় শুধু বাসে নয়, ট্রেন, লঞ্চ, এমনকি বিমান ও সিনেমা হলেও হাফ পাস ছিল। আজকে যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তাঁরাও কিন্তু হাফ পাস ব্যবহার করেছেন। তাহলে আজকে কেন হাফ পাস যৌক্তিক হবে না! তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্মুদও কিন্তু বলেছেন, তিনি ছাত্রাবস্থায় হাফ পাস ব্যবহার করেছেন। তখন তো কেউ (মালিকরা) প্রণোদনা চাননি। এখন হঠাৎ করে বলছেন প্রণোদনা লাগবে।

সরকারের লোকজনই তো বলছে এটা যৌক্তিক দাবি। তাহলে মেনে নিতে এত গড়িমসি হলো কেন?

নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন হোক এটা কে না চায়? শুধু ঢাকা শহরের জন্য না। সারা দেশের জন্য আন্দোলন করছে তারা।

নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন করতে হলে পরিবহন খাতের নেতাদের ভয় পেলে চলবে না। তাঁরা আসলে এই খাতটিকে যতটা উন্নত করার কথা ছিল, সে রকম উন্নত করতে পারেননি। তাঁরা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদরা যদি যার যে দায়িত্ব তা পালন করতেন, তাহলে এত দিনে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন হয়ে যেত।

 



সাতদিনের সেরা