kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দুর্ভাবনার মাঝে সম্ভাবনার খোঁজে বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্ভাবনার মাঝে সম্ভাবনার খোঁজে বাংলাদেশ

প্রথমে অপঘাত, এরপর আত্মঘাতও। কাছাকাছি সময়ের মধ্যে এমন জোড়া ধাক্কায় যেখানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ, পারল না এর ত্রিসীমানায় ঢুকতে। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষে তাই সহজ জয়ের তীরই দেখতে পাচ্ছে পাকিস্তান।

অথচ সম্ভাবনাময় দুটি জুটিতে ২০২ নয়, সফরকারীদের আরো বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার প্রয়োজন মেটার আভাসই ছিল। প্রথমে লিটন কুমার দাসের সঙ্গে অভিষিক্ত ইয়াসির আলী চৌধুরীর জুটি জমে গেল। ৬৯ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়া হয়ে যাওয়ার পর যখন সেটি আরো বড় হওয়ার অপেক্ষা, তখনই অপঘাত। ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ভোগানো ফাস্ট বোলার শাহীন শাহ আফ্রিদির বাউন্সারে বল হেলমেটে লাগল ইয়াসিরের। তবু খেলা চালিয়ে যেতে থাকলেন তিনি। কিন্তু পারলেন না বেশিক্ষণ আর। এক ওভার পরই মাঠ ছেড়ে গেলেন। মাঠ থেকে যেতে হলো হাসপাতালেও।

সেখানে গিয়ে সিটি স্ক্যান করিয়ে নিশ্চিতও হলেন যে তিনি বিপদমুক্ত। অবশ্য এমন দুর্ঘটনায় ইয়াসির মাঠ ছাড়ার আগেই ২০১৮-র পর আবার টেস্টের দুয়ার খুলে যায় নুরুল হাসানের। ইয়াসিরের ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামার পর লিটনের সঙ্গে আরেকটি সম্ভাবনাময় জুটিও দাঁড়িয়ে যায়। দারুণ তিনটি বাউন্ডারিতে ঘটনাচক্রে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানোর ইঙ্গিতই দিচ্ছিলেন নুরুল। কিন্তু এর পরই যেন মেরে খেলার ভূত মাথায় চাপল তাঁর। হয়ে উঠলেন আত্মঘাতীও। অফস্পিনার সাজিদ খানকে ছক্কা মারার চেষ্টায় ধরা পড়লেন লং অনে। তাতে ভাঙে ৬১ বলে ৩৮ রানের জুটি, লিটনকে সঙ্গ দিয়ে যাওয়ার মতো আর কোনো স্বীকৃত ব্যাটারও অবশিষ্ট নেই তখন।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসও তাই মুখ থুবড়ে পড়ে দ্রুতই। পাকিস্তানকে ২৫০-৩০০ রানের টার্গেট দেওয়ার লক্ষ্যেও আর এগোনো যায় না। ১৫৭ রানে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হওয়াতে পাওয়া যায় ২০১ রানের (প্রথম ইনিংসের ৪৪ রান) লিড। চতুর্থ দিনের শেষেও জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট ভাঙেনি বলে রান তাড়া অনেকটা স্বস্তিতেই অর্ধেক কাজ সেরে রেখেছেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলী (১০৫ বলে ৫৬*) ও আব্দুল্লাহ শফিক (৯৩ বলে ৫৩*)। ৩৩ ওভারে তাঁরা স্কোরবোর্ডে তুলে দিয়েছেন ১০৯ রান। ১০ উইকেট হাতে নিয়ে আজ শেষ দিনে জিততে তাঁদের লাগবে ৯৩ রান। অলৌকিক কিছু না ঘটলে এই টেস্টে বাংলাদেশের জেতার আর কোনো সম্ভাবনাই নেই।

৪ উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে দিনের শুরুতেও বড় এক ধাক্কাই খায় বাংলাদেশ। প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে শুরু করেন মুশফিকুর রহিম। তবে এক বল পরই হাসান আলীর অফস্টাম্পের সামান্য বাইরের বল ব্যাট উঁচিয়ে ছেড়ে দিয়ে বিপদও ডেকে আনেন। বল তাঁর ধারণার চেয়েও বেশি সুইং করে অফস্টাম্পে আঘাত হানে। স্বাগতিকরাও সঙ্গে সঙ্গেই ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারানো দল।

ইয়াসিরের সঙ্গে এসে যোগ দেওয়া লিটনও অল্পের জন্য বেঁচে যান। আগের বলেই একটুর জন্য শর্ট লেগ ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ যায়নি তাঁর। পরের বলেই বেরিয়ে এসে মারতে যান বাঁহাতি স্পিনার নুমান আলীকে। ব্যাটে-বলে হয়নি, আবার মোহাম্মদ রিজওয়ানও গ্লাভসে বল জমাতে না পারায় মিস হয় স্টাম্পিংয়ের সুযোগ, লিটনের রান তখন ৮। এর মধ্যে আবার হাসানের বলে বোল্ড হতে হতেও বেঁচে যান ইয়াসির। তাঁর ব্যাটের ভেতরের কানায় ছুঁয়ে লেগস্টাম্প ঘেঁষে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে। দিনের প্রথম ঘণ্টায় এ রকম বেশ কিছু শিউরে ওঠা মুহূর্তের পর উইকেটে থিতু হয়ে যান লিটন-ইয়াসির। এরপর সেই দুর্ঘটনা। সাজিদ দ্রুতই মেহেদী হাসান মিরাজকে বিদায় করার পর উইকেটে যাওয়া আত্মঘাতী নুরুলের আরেকটি সম্ভাবনার অপমৃত্যু। উইকেটে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া লিটনকে (৮৯ বলে ৫৯) প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরির পর এবার ফিফটির পর থামান শাহীন। তাঁর ২৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এই প্রথম দুই ইনিংসেই ৫০-র বেশি রান করলেন এই ব্যাটার।

প্রথম ইনিংসে দলের বিপর্যয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন, এবার অপঘাত ও আত্মঘাতের ঘটনায় তেমন কিছুর উপায়ও থাকেনি কোনো!



সাতদিনের সেরা