kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

যতই সমালোচনা হোক, মানুষের জন্য কাজ করে যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




যতই সমালোচনা হোক, মানুষের জন্য কাজ করে যাব

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়া দেশের জন্য এক বিরল সম্মান অর্জন। গতকাল রবিবার একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে গতি নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এ গতি কেউ যেন আর রোধ করতে না পারে। অনেক রকম চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ছিল, থাকবে। সেগুলো মাথায় নিয়ে আমাদের চলতে হবে। যতই সমালোচনা হোক, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং করে যাব।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রায় পুরো অংশেই ছিল বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সার্বিক প্রেক্ষাপট এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো। তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশের যে মর্যাদা পেয়েছি, এটা বাংলাদেশের জনগণেরই অবদান। আমি দেশবাসীর প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাই, তাঁরা বারবার নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছেন বলেই আমরা দেশের এত উন্নয়ন করতে পেরেছি, এ বিরল অর্জন আমরা দেশের জন্য আনতে পেরেছি। কেবল উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে বলে নয়, সর্বক্ষেত্রেই বিশ্বে আজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটা বিরাট অর্জন।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টির জন্য নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়েছে। এই করোনা মহামারিও মোকাবেলা করতে হয়েছে। বিশ্বের অর্থনীতির চাকা যখন স্থবির, তখন আমরা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। এর ফলাফল, দেশের অর্থনীতি গতিশীল রেখে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা। এ জন্য আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করেছি। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের মানুষ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম একটা সুন্দর জীবন পাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার সময় পেয়েছিলেন। পাকিস্তানের একটি প্রদেশ ছিল বাংলাদেশ। সেই প্রদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রে রূপ দেওয়া, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে মাত্র সাড়ে তিন বছরেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। সুদীর্ঘ বছর পর এবার আমরা বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি আনতে পারলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হতো। জাতির পিতাকে হত্যার পর যাঁরা ক্ষমতায় এসেছিলেন জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ বা বেগম জিয়া, তাঁরা কেউ দেশকে উন্নত করতে চাননি। ক্ষমতা তাঁদের কাছে ছিল ভোগের বস্তু ও বিলাসবহুল জীবন। সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কেউ এগিয়ে আসেননি।

তাঁর সরকারের অগ্রগতির জন্য পরিকল্পিত নীতি এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নকে কৃতিত্ব দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ এবং এরই আলোকে নেওয়া পরিকল্পনাগুলোর কারণে বাংলাদেশের বড় ধরনের উত্তরণ ঘটেছে। আমার বিশ্বাস ছিল, সরকারের এই পরিকল্পিত প্রচেষ্টার একটা সুফল বাংলাদেশ পাবে; যে কারণে সমালোচনায় কান না দিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেই আশু, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়েছে।’

‘মুজিব চিরন্তন’ থিম নিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে মুজিব জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানমালায় পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অংশগ্রহণ এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, সৌদি বাদশাহ, ব্রুনেইয়ের সুলতানসহ ১৯৪টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের অভিনন্দন জানিয়ে অডিও-ভিডিও বার্তা পাঠানোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্যই এ সম্মান আমরা পেয়েছি।’

 

 



সাতদিনের সেরা