kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জনসমাগম ও আক্রান্ত দেশের যাত্রী নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জনসমাগম ও আক্রান্ত দেশের যাত্রী নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ

দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে যেসব দেশে এরই মধ্যে নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে, সেসব দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিলসহ চারটি সুপারিশ করেছে কভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। গতকাল রবিবার পরামর্শক কমিটির ৪৮তম সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সুপারিশের আলোকে করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকাল মঙ্গলবার একটি আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। এর আগে জরুরি উদ্যোগ হিসেবে দেশের সব প্রবেশপথে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ-নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় যা আছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত অন্যান্য আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য জনসমাগম নিরুৎসাহ করতে হবে। প্রয়োজনে বাইরে গেলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সব ধরনের জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক পার্টি ইত্যাদি) ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কমসংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদসহ সব উপাসনালয় ও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

যেসব দেশে এই ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (সব মাদরাসা, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সেবাগ্রহীতা, সেবা প্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

করোনা উপসর্গ/লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন ও করোনা পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কভিড-১৯-এর লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে। এ ছাড়া অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালে বাধ্যতামূলক নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কভিড-১৯ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করার লক্ষ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য মাইকিং ও প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ/মন্দির/গির্জা/প্যাগোডার মাইক ব্যবহার করার এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর/ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

পরামর্শক কমিটির সুপারিশে যেসব দেশে ওমিক্রন সংক্রমণ ছড়িয়েছে, সেসব দেশ থেকে যাত্রী আগমন বন্ধ করা, ওই দেশগুলোতে ভ্রমণের সাম্প্রতিক (গত ১৪ দিন) ইতিহাস থাকলে তাদের বাংলাদেশে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা, কভিড-১৯-এর টেস্ট পজিটিভ হলে আইসোলেশনে রাখা, জনসমাগম কমানো ও কভিড-১৯-এর পরীক্ষায় জনগণকে উৎসাহিত করতে বিনা মূল্যে পরীক্ষা করার সুপারিশ করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ভেরিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেশের সব পোর্ট অব এন্ট্রিতে (স্থল, সমুদ্র, বিমান ও রেলওয়ে) সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত কারিগরি ও পরামর্শক কমিটি বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া এ সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈঠক করছে। দেশের সবার জন্য মঙ্গলজনক হয়—এমন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো কারণ নেই।



সাতদিনের সেরা