kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

তালিকায় মাত্র ৩৭ দেশ

গণতন্ত্র না থাকলে নিরাপত্তা সরঞ্জাম বেচবে না ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণতন্ত্র না থাকলে নিরাপত্তা সরঞ্জাম বেচবে না ইসরায়েল

প্রকৃত গণতান্ত্রিক দেশ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাইবার নিরাপত্তা পণ্য বিক্রি করবে না ইসরায়েল। গণতান্ত্রিকভাবে দুর্বল বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা পণ্য বা সরঞ্জাম দিয়ে ভিন্নমত দমন, নজরদারি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নেয়।

ইসরায়েলের ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্যাটালিস্টে গত ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “যে দেশগুলোতে প্রমাণিত গণতন্ত্র আছে, যেমন : ইউরোপ ও ‘ফাইভ আইস কোয়ালিশনের’ সদস্য (অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র)—তারাই শুধু ‘সাইবার নিরাপত্তা পণ্য’ কেনার সুযোগ পাবে।

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ক্যাটালিস্ট জানায়, ইসরায়েলের কম্পানিগুলোকে বিশ্বের ১০২টি দেশের কাছে সাইবার

প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ মাসের শুরুর দিকেই এই সংখ্যা নামিয়ে মাত্র ৩৭টিতে আনা হয়। এই দেশগুলোর গণতন্ত্র পরীক্ষিত বলে তারা মনে করছে।

ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি করতে পারে এমন ৩৭টি দেশের নাম জানা গেছে। ওই দেশগুলোর মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ছাড়া বাকিগুলো ইউরোপীয়।

হালনাগাদ এই তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব, মেক্সিকো, মরক্কোর মতো ৬৫টি দেশকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইউএই, সৌদি আরব, মেক্সিকো, মরক্কো ইসরায়েলি প্রযুক্তি ফার্ম এনএসও গ্রুপের নজরদারি পণ্য ব্যবহার করে কয়েক মাস আগে আলোচনায় এসেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ইসরায়েলের এনএসও গ্রুপ ও ক্যান্ডিরুর ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাইবার পণ্য রপ্তানিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করে। এনএসও গ্রুপ ও ক্যান্ডিরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এমন কিছু দেশের সরকারকে নজরদারি সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে যারা সেগুলো বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী, শিক্ষাবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে।

তালিকা থেকে বাদ পড়া সব দেশের নাম জানা যায়নি। তবে গত আগস্ট মাসে ইসরায়েলি দৈনিক হারেেজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত মে মাসেই ইসরায়েল বাংলাদেশের কাছে সাইবার প্রযুক্তি পণ্য বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে বিদেশি একটি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে ইসরায়েল থেকে বাংলাদেশের মোবাইল ফোনে নজরদারি করার প্রযুক্তি কেনার অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ সরকার তা নাকচ করে দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তখন বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলের কাছ থেকে আমরা কিছু কিনিনি। ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্কও নেই। ’



সাতদিনের সেরা