kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন

দ. আফ্রিকা থেকে ‘বিচ্ছিন্ন হওয়ার’ চেষ্টা সবার

► একের পর এক দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
► নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



 দ. আফ্রিকা থেকে ‘বিচ্ছিন্ন হওয়ার’ চেষ্টা সবার

করোনাভাইরাসের আরো সংক্রামক ধরন ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগের জেরে একের পর এক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা সব অঞ্চলের দেশই রয়েছে। আর এভাবে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় গত মঙ্গলবার করোনার নতুন ধরন বি.১.১.৫২৯ শনাক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর প্রতিবেশী বতসোয়ানা, হংকং ও পরে বেলজিয়ামেও পাওয়া যায় করোনার ওই নতুন ধরনটি। শুক্রবার ধরনটিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) একে ওমিক্রন হিসেবে নামকরণ করে। এ ধরনের মাধ্যমে মহামারি ক্ষতিকর দিকে মোড় নেওয়ার আভাস দিচ্ছে বলেও মন্তব্য সংস্থাটির।

আগের যেকোনো ধরন, এমনকি ডেল্টার চেয়ে বেশি সংক্রামক ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, জাপান এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ভ্রমণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এই তালিকায় গত শুক্রবার যোগ দেয় অস্ট্রিয়া, জার্মানি, চেক রিপাবলিক, ইতালি, সাইপ্রাস ও নেদারল্যান্ডস। একে একে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, গুয়াতেমালা, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান ও মরক্কো একই পদক্ষেপ নেয়।

এদিকে বিভিন্ন দেশ এভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিতে থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পর্যটকরা। যেকোনো ফ্লাইটে দেশটি ত্যাগ করাই তাঁদের লক্ষ্য।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের যেসব দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে সেগুলো হলো—বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি (সোয়াজিল্যান্ড), লেসোথো, নামিবিয়া, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মালাওয়ি ও জিম্বাবুয়ে।

ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) এরই মধ্যে সাময়িকভাবে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু দেশে ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে। জোটের নির্বাহী বিভাগ ইউরোপিয়ান কমিশন করোনার নতুন ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু না জানা পর্যন্ত অঞ্চলটির দেশগুলোর সঙ্গে স্থায়ীভাবে ফ্লাইট নিষিদ্ধের প্রস্তাব করেছে।

নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি : আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পাশাপাশি দেশটির নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন গভর্নর ক্যাথি হকুল। এর ফলে তিনি নিজ ক্ষমতাবলে প্রয়োজন হলে কম জরুরি এমন সেবার পরিসর সীমিত করে কভিড রোগীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দিতে পারবেন। আগামী শুক্রবার থেকে এসব পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা : ওমিক্রন শনাক্তের জেরে বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা। এভাবে ‘তড়িঘড়ি করে’ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে ‘নিষ্ঠুর ও অন্যায্য’ অভিহিত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জো ফালা। কোনো দেশের নেতার নাম উল্লেখ না করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে কিছু দেশের নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য কোনো বলির পাঁঠা খুঁজছেন। ’ তাঁর মতে, এভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ভুল হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা মানুষকে ভুল ইঙ্গিত দেবে এবং তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি ও মানদণ্ডের পরিপন্থী।

করোনার নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ থেকে এখনই তড়িঘড়ি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সতর্ক ভারত : সারা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ ছড়ানো ওমিক্রন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উদ্বিগ্ন। গতকাল শনিবার বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। অন্তত ৫০ বার জিনের বিন্যাস বদল করে বর্তমান রূপ নেওয়া ওমিক্রন সম্পর্কে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিশদ খোঁজখবর নিয়ে আরো সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন মোদি।

এখন পর্যন্ত যেসব দেশে ওমিক্রনের হদিস মিলেছে, সেখান থেকে আসা বিমানযাত্রীদের কভিড পরীক্ষা যাতে সঠিকভাবে হয় এবং তাঁদের স্বাস্থ্যের ওপরও যাতে নজর রাখা হয়, সেই নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও বিদেশে যাতায়াত আগামী দিনে কতটা শিথিল করা হবে, সে বিষয়টি কর্মকর্তাদের পর্যালোচনা করে দেখতেও বলেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যে ঢুকলেই পিসিআর টেস্ট : যুক্তরাজ্যে দুই ব্যক্তির শরীরে ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গতকাল ঘোষণা করেছেন, সে দেশে প্রবেশকারী সব ভ্রমণকারীকে তাদের আগমনের পরে দ্বিতীয় দিনের শেষে পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে। নেতিবাচক পরীক্ষার ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের স্বেচ্ছায় বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বরিস জনসন জানান, দোকানপাট ও গণপরিবহনে মাস্ক পরার বিধি কঠোর করা হবে। এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘নতুন ধরনের বিরুদ্ধে প্রচলিত টিকা কতটা কার্যকর হবে, তা আমরা জানি না। তবে তা যে অন্তত কিছু সুরক্ষা দেবে, তা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে। ’

ব্রিটিশ সরকারের জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক উপদেষ্টা গ্রুপের (এসএজিই) সদস্য ক্যালাম সেম্পলও গতকাল বলেছেন, এটা কোনো বিপর্যয় নয়। প্রদত্ত টিকা গুরুতর অসুস্থতা থেকে কিছু সুরক্ষা দেওয়ার কথা।

এর আগে গতকালই যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জানান, দেশটিতে দুজনের শরীরে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন পাওয়া গেছে। উভয়েই আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে গিয়েছিল।

এদিকে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি ফ্লাইটে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে এসে পৌঁছানো ৬১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কেউ ওমিক্রনে সংক্রমিত কি না, ডাচ কর্তৃপক্ষ তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়। সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা