kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

৭,৩০০ মোটরসাইকেল ক্রেতার টাকা আটকে আছে

এস এম আজাদ   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৭,৩০০ মোটরসাইকেল ক্রেতার টাকা আটকে আছে

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্টে বিশেষ মূল্যছাড়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির পাঁচ দফা ক্যাম্পেইন চালানো হয়। ক্যাম্পেইনে ৪৫ হাজার গ্রাহক পণ্যের অর্ডার দেন। চার দফায় ক্যাম্পেইনের পণ্য ডেলিভারিও দেওয়া হয়। তবে পঞ্চম দফায় সাত হাজার ৩০০ গ্রাহকের অর্ডারের মোটরসাইকেল দিতে পারেনি আলেশা মার্ট। এসব অর্ডারের বিপরীতে গ্রাহকদের অন্তত ২০০ কোটি টাকা আটকে গেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিতে। উত্তরা মোটরসের তেজগাঁও এলাকার ডিলার এসকে ট্রেডার্সের কাছ থেকে মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে গ্রাহকদের দিয়েছে আলেশা মার্ট। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে নজরদারি এবং বকেয়া বাড়ায় আগস্ট মাস থেকে আলেশা মার্টকে মোটরসাইকেল দেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনুসন্ধান শুরু করলে ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিতে সময় নেয় অলেশা মার্ট। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বনানীর প্রধান কার্যালয়ে কাস্টমার কেয়ার কার্যক্রম বন্ধ হলে শীর্ষ কর্তাদের পালিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা দেয় নতুন সংকট। সিআইডির অনুসন্ধান, আলেশা মার্ট ও ভুক্তভোগী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়া আলেশা

মার্টের বনানী ও তেজগাঁও অফিসে ভিড় করছেন শত শত গ্রাহক। গত বুধবার রাতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী তাঁদের অর্ডারের পণ্য বুঝে পেতে কিংবা অর্থ ফেরত পেতে আলেশা মার্টের অফিসে অবস্থান নেন। তাঁরা ফের আগামী রবিবার থেকে ওই অফিসে অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছেন।

আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, সব মিলিয়ে তাঁরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের চেক দিয়ে ঘোরানোর কারণে আস্থা রাখতে পারছেন না তাঁরা। কিছু গ্রাহক পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ করলেও মামলা না করে টাকা ফেরত চাইছেন। আর পুলিশ বলছে, গ্রাহকরা মামলা না করলে এবং অনুসন্ধানে জালিয়াতির প্রমাণ না মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।

বনানী অফিসে আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মনজুর আলম শিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূল্যছাড়ে মোটরসাইকেল বিক্রি বন্ধ এবং প্রায় এক হাজার ৯০০ কোটি টাকার লোন আটকে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের কম্পানির সম্পদ থাকার পরও মর্টগেজ লোন পাচ্ছি না। সিসি লোনও পাচ্ছি না। গ্রাহকরা ছাড়া আর কেউ আমাদের কাছে টাকা পাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আলেশা হোল্ডিংয়ের অধীনে আলেশা মার্টসহ ২৫টি প্রতিষ্ঠান আছে। আমরা ৪৫ হাজার গ্রাহকের বেশির ভাগকেই অর্ডারের পণ্য দিয়েছি। বাকি আছে সাত হাজার ৩০০ জন। অল্প অল্প করে সেটাও দেওয়া শুরু করেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ছয় দফার ক্যাম্পেইন করতে চেয়েছি। আমরা গ্রাহকদের টাকা সরাইনি। ব্যাংকে ডিপোজিট করেছি। লোন পেলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

সিআইডির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক অভিযোগ পাওয়ায় আলেশা মার্টের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ও নিয়েছিল তারা। কিছু গ্রাহককে টাকা ফেরতও দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আলেশা মার্টকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জালিয়াতি ও অর্থপাচারের প্রমাণ পেলে মামলা করবে সিআইডি।

সিআইডির অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আইনগতভাবে অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন হলে আমরা অর্থপাচারের বিষয়ে তদন্ত করব।’

চার দফায় আলেশা মার্ট যেসব অর্ডারের পণ্যের ডেলিভারি দিয়েছে, তার মধ্যে বেশির ভাগ মোটরসাইকেল। উত্তরা মোটরসের তেজগাঁওয়ের এসকে ট্রেডার্সের কাছ থেকে বাজাজ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল নিয়ে গ্রাহকদের দিত তারা। তবে আগস্ট থেকে এসকে ট্রেডার্স আর মোটরসাইকেল দিচ্ছে না।

তেজগাঁওয়ে এসকে ট্রেডার্সের অফিসে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আল-মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আগস্ট থেকে আর বাইক দিচ্ছি না। কারণ আমরাও সমস্যায় আছি। ওই প্রতিষ্ঠানে আমাদের ৫৭ কোটি টাকা আটকা পড়েছে।’

গ্রাহকের ভিড় কমছে না

বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের প্রসাদ ট্রেড সেন্টারের চতুর্থ তলায় আলেশা মার্টের কার্যালয়ে গত সোমবার ও মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেছে, সামনে বসে দুজন গ্রাহকদের তথ্য নিচ্ছেন। পাশাপাশি গ্রাহকদের পণ্য দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন কিছু কর্মী। কিন্তু আশ্বস্ত না হয়ে সেখানে দিনভর শতাধিক গ্রাহককে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের একটি দল। তাঁরা গত বুধবার রাতে ওই অফিসেই অবস্থান করেন। কবির আহমেদ, তারেক ও রিয়াদ জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪ জন মিলে একটি গ্রুপ করেছেন তাঁরা। তিন মাস আগে আলেশা মার্টের দেওয়া চেক নিয়ে এখন তাঁরা ঘুরছেন।

তাঁরা আরো বলছেন, আলেশা মার্টের অচলাবস্থা দেখে আস্থা পাচ্ছেন না তাঁরা। তিন মাস প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের বেতন হয় না। অনেকে চাকরি ছেড়েছেন। তাই টাকা ফেরত পেতে বিভিন্ন মহলের সহায়তা চাইছেন গ্রাহকরা।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আসাদুজ্জামান বলেন, এখানে পুলিশের খুব বেশি কিছু করার নেই। মামলা হলে পুলিশ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। শোনা যাচ্ছে, কেউ টাকা পাচ্ছে, আবার কেউ পাচ্ছে না।

 



সাতদিনের সেরা