kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

পোশাক শ্রমিকরা যে কারণে রাজপথে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



 পোশাক শ্রমিকরা যে কারণে রাজপথে

একদিকে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দর, সঙ্গে ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে মাঠে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার আগের দিন বুধবারের মতো রাজধানীতে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেননি। আর মিরপুর এলাকার কারখানাগুলোও ছিল বন্ধ।

গত বুধবার মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশ বক্সে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বুধবার রাতে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বুধবার শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তবে গতকাল কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে পারেননি।

গতকাল বিকেলে শ্রম ভবনে ডিআইএফইর কার্যালয়ে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় একটি বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত না হওয়ায় বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে। তবে আগামী রবিবার বৈঠকটি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

মিরপুরে আইডিএস পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক নেতারা বলেন, ওই কারখানায় এখনো ২০১৮ সালের মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরিও পান না। মানা হয় না মাতৃত্বকালীন ছুটি আইন। রাত-দিন কাজ করলেও দেওয়া হয় না হাজিরা বোনাস। এ ছাড়া তিনজন তদারকি কর্মকর্তার অশোভন আচরণের অভিযোগও আছে দীর্ঘদিনের।

শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে শ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পোশাককর্মীরা দিশেহারা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়ার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম আরো বেড়েছে। এই বিষয়গুলো শ্রমিকদের জীবনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বেতন না বাড়ালে তাদের পক্ষে সংসার চালানো অসম্ভব।’

বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, ‘এই সময় শ্রমিক অসন্তোষ মোটেও ভালো কথা নয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এর কারণ অনুসন্ধান করে দেখতে পারে।’

বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, ‘শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি থাকলে তা মালিকপক্ষের কাছে কিংবা কারখানা অধিদপ্তরের কাছে জানাতে পারে। তা না করে রাস্তায় নেমে আসা মোটেও যৌক্তিক নয়।’

 



সাতদিনের সেরা