kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

নটর ডেমের ছাত্রের মৃত্যু

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিরাপদ সড়কের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ময়লার গাড়ির ধাক্কায় বুধবার নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাঁর সহপাঠীরা গতকাল মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে নগর ভবনে যান। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাঈম হাসানের (১৭) মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত চালকের শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে কলেজের ছাত্ররা। কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সাড়ে ১১টার দিকে তারা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে এসে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সেখান থেকে তারা নগর ভবনে অবস্থান নেয়।

নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রধানত ছয় দাবিতে গতকাল সড়কে নামে। দাবিগুলো হলো—সবার জন্য নিরাপদ সড়ক, ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পর পাস হওয়া আইন বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া, নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করা, নাঈমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, গুলিস্তানের মতো ব্যস্ততম সড়কে পদচারী সেতু স্থাপন করা এবং সব ধরনের ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভকালে ছয় দফা দাবি মেনে নিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। শিক্ষার্থীরা বলে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাঈমের খুনিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

দুপুর দেড়টার পর জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল নিয়ে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেয় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা সরাসরি মেয়রের কাছে দাবি জানানোর জন্য নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে ফটকের পাশের ছোট দরজার তালা ভেঙে শিক্ষার্থীরা ভেতরে ঢুকে ‘মেয়র তোমার দেখা চাই’ স্লোগান দিতে থাকে।

শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে তারা ছাত্রদের আশ্বস্ত করে নগর ভবন ছেড়ে যেতে বললেও তারা অবস্থান থেকে সরেনি। এমনকি নটর ডেম কলেজের শিক্ষকরাও একাধিকবার মাইকে তাদের অবস্থান তুলে নিতে বলেন।

পরে বিকেল ৪টার দিকে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এসে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ছাত্রদের দাবি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি ছাত্রদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ‘নাঈম আমার সন্তানের মতো, আমি নাঈমের খুনির ফাঁসি চাই।’ পরে ছাত্ররা সেখান থেকে অবস্থান তুলে নেয়।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘ঢাকা নিরাপদ শহর হবে—এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল। নিরাপদ সড়ক করতে আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। ঘটনাস্থলে এ বছরের মধ্যেই নাঈমের নামে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে।’

বিকেল সাড়ে ৪টার পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে থেকে অবস্থান তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।

গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় গত বুধবার দুপুরে নিহত হয় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাঈম হাসান। দুর্ঘটনার পর পর গাড়িচালক রাসেল খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চালক রিমান্ডে

শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে চাপা দেওয়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়িটির চালক রাসেল মিয়াকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়ার আদালতে সাত দিনের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

চালকসহ দুজন চাকরিচ্যুত, একজন  সাময়িক বরখাস্ত

অবৈধভাবে গাড়ি বরাদ্দ নিয়ে তা চালানোয় ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. হারুন মিয়া এবং গাড়ি চালানোর কাজে সহযোগিতা করায় মো. আব্দুর রাজ্জাককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া বরাদ্দ করা গাড়ি নিজে না চালিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যকে চালাতে দেওয়ায় গাড়িচালক (ভারী) মো. ইরান মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত রাতে ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিএসসিসির একটি সূত্র জানায়, নাঈম হাসানকে চাপা দেওয়ার সময় গাড়িতে আরো তিনজন শ্রমিক ছিলেন।

নাঈমের বাড়িতে মেয়র তাপস

গতকাল শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের বাড়ি গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি দায়ী চালকের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি ওই শিক্ষার্থীর কামরাঙ্গীর চর এলাকার বাড়িতে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময়  সেখানে উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুল ইসলামও নাঈমের পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।



সাতদিনের সেরা