kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

হঠাৎ পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায়, পথে পথে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হঠাৎ পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায়, পথে পথে ভোগান্তি

বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গতকাল রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পোশাক শ্রমিকরা। এতে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হয় মানুষকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেতন-ভাতা বাড়ানো ও বকেয়া বেতনের দাবিতে হঠাৎ করে গতকাল বুধবার রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় নেমেছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। মিরপুর, কুড়িল বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। কুমিল্লার চান্দিনার হাঁড়িখোলা ও বেলাশহর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবস্থান নেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের হঠাৎ বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে রাজধানী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পথে পথে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

পোশাক খাতের মালিকরা অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন আছে। তবে শ্রমিক নেতারা বলছেন, ডিজেলের দাম ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাঁদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে আছেন তাঁরা।

মিরপুরে অবরোধ ভাঙচুর আগুন : কয়েক দিন ধরেই মিরপুরে শ্রমিকরা হাজিরা ভাতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া আদায়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। গত মঙ্গলবার বিক্ষোভের সময় স্থানীয়রা দুই পোশাক শ্রমিককে মারধর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে এবং বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গতকাল সকাল থেকে আবার রাস্তায় নামেন তাঁরা।

পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। তবে দাবি আদায় না হলে আজ বৃহস্পতিবার আবার আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা। দাবি আদায়ের আলটিমেটাম দিয়ে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বরে বিক্ষোভ স্থগিত করা হয়। এর আগে সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় সড়কে জড়ো হতে থাকেন আশপাশের পোশাক শ্রমিকরা। পরে সকাল ১০টার দিকে একে একে মিরপুর-১৩, মিরপুর-১০, কাফরুল, ইবরাহিমপুর এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।

মিরপুর ১৩ ও ১৪ নম্বর এলাকার পোশাক কারখানা থেকে আরো শ্রমিক দলে দলে বের হয়ে আসেন। এ সময় শ্রমিকরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অস্থায়ী দুটি অফিসে ভাঙচুর করেন। মিরপুর ১৪ নম্বরে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই আলী হোসেনের। এ ছাড়া বিক্ষোভের মধ্যেই মিরপুরে ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান আন্দোলনকারীরা।

শ্রমিক নেতা আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করেছি। দাবি না মানলে ফের আন্দোলনে যাব।’ মিরপুর ১৩ নম্বরের একটি কারখানার শ্রমিক সজল বলেন, ‘আমরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছি। এ সময় কারখানার মালিক লোক ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।’

মিরপুর মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে পোশাক শ্রমিকরা অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে তাঁরা রাস্তা ছেড়ে দেন। সড়কে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ।

কাফরুল থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কুড়িল বিশ্বরোডে অবরোধ : একই দাবিতে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা। তাঁদের বিক্ষোভের মুখে কুড়িল বিশ্বরোড-বাড্ডা সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার ওয়েমার্ট অ্যাপারেলস লিমিডেট কারখানার শ্রমিকরা। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মালিকপক্ষ দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দেন।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দুই মাস ধরে তাঁদের বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বকেয়া বেতন দেওয়া হচ্ছে কিস্তিতে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

ভাটারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল হক জানান, মালিকপক্ষ বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।

কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট : কুমিল্লা সংবাদদাতা ও চান্দিনা প্রতিনিধি জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল কুমিল্লার চান্দিনার হাঁড়িখোলা ও বেলাশহর অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন ‘ডেনিম’ নামের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দেয়। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই অবরোধ দুপুর দেড়টার দিকে প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা।

ময়নামতী হাইওয়ে থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ থেকে বেতন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

 



সাতদিনের সেরা