kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

আইনি দিক খতিয়ে দেখছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইনি দিক খতিয়ে দেখছে সরকার

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা সংকটাপন্ন—বিএনপির এই বক্তব্যকে প্রকাশ্যে মানতে নারাজ সরকারের মন্ত্রী ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে গত মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সৃষ্ট গুজবের পর কিছুটা নতুন করে ভাবছে সরকার।

প্রাথমিকভাবে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দারের করা আগের আবেদনটি নিয়ে কাজ করছে আইন মন্ত্রণালয়। গতকাল তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানও এমনটি বলেছেন। দলের অন্য সূত্রও এমনটি আভাস দিয়েছে কালের কণ্ঠকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও কালের কণ্ঠকে বলেছেন, সরকারের দিক থেকে কিছুটা নমনীয়তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে করা ওই আবেদনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করার অনুমতি চাওয়া হয়। খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সরকারের নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে তাঁকে বাসায় থাকার অনুমতি দেওয়া আছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে হলে কী আইনি প্রক্রিয়া আছে তা খতিয়ে দেখতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে পরামর্শ পেলে এবং খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের মতামত পেলে এ বিষয়ে নমনীয় হতে পারে সরকার।

তবে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত এখনো তারা পায়নি।

সরকারি দল ও সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতি হলে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দেশে-বিদেশে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিষয়েও এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে সরকার। সব দিকে চিন্তাভাবনা করে যখন যা দরকার সে সিদ্ধান্ত দেবে সরকার।

গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। এই বয়সে শারীরিক কিছু জটিলতা থাকে; বিশেষ করে নারীদের। এ ছাড়া তিনি এর আগে শারীরিক সমস্যাগুলোর চিকিৎসা বিদেশে করিয়েছেন। তাঁর প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। দেশে তাঁর সর্বোচ্চ চিকিৎসা হচ্ছে। সরকার তাঁর সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করছে। বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় বিশ্লেষণ করছে। দোয়া করি, তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি প্রতিবেদনও দিয়েছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তাতে বলা হয়েছে, খালোদ জিয়াকে আইনানুগভাবে বিদেশে পাঠানো যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে স্বনামধন্য আইনজীবীদের মতামত নেওয়া যেতে পারে। একইভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি পৃথক মেডিক্যাল বোর্ড করার সুপারিশও করা হয়।

পাশাপাশি খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে বিএনপি যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়।

গত মঙ্গলবার রাতেই সারা দেশে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে খবর বের হয়। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ছুটিও বাতিল করে তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে বলা হয়। 

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কর্মসূচি, গুজব; শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার আন্দোলন ইত্যাদিতে আইন-শৃঙ্খলার যেন অবনতি না হয় তাই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। টহল ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তবে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আর যেন সহিংসতা না হয়, এ জন্য পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। অনুরূপভাবে রাজধানীতেও যেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সে জন্য টহল ও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। কাউকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।



সাতদিনের সেরা