kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মহেশখালী ও মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী

প্রকল্প সমন্বয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ গঠন করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকল্প সমন্বয়ের জন্য কর্তৃপক্ষ গঠন করুন

কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়ী এলাকায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মাতারবাড়ী ও মহেশখালী এলাকায় অনেক প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব কাজ বিচ্ছিন্নভাবে না করে একটি কর্তৃপক্ষের আওতায় করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়ী এলাকায় এখন ৩৭টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের দায়িত্বে আছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। মাতারবাড়ীতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। সেটির দায়িত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। গ্যাসলাইন, রাস্তাঘাট এবং এলএনজি টার্মিনাল হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর আলাদা আলাদা করে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যেভাবে কাজ করছে, নতুন কর্তৃপক্ষ সেভাবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনেরও কথা বলেন। মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। সব সংস্থা যার যার মতো করে কাজ করবে, এতে কোনো বাধা নেই। তবে সব সংস্থার তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন। একনেক বৈঠকে মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। বৈঠকে সংশোধনী প্রস্তাবের অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

পরিকল্পনামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আলাদাভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। হাওর অঞ্চলে এলিভেটেড রাস্তা করতে গিয়ে এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

১০ প্রকল্প অনুমোদন : হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক নির্মাণসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক নির্বাহী কমিটি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ১৮ হাজার ৯৩২ কোটি চার লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চল দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল। এখন আওয়ামী লীগ সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। চীনের ঋণে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাতারবাড়ী বন্দর হওয়ার কারণে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এই বন্দরটি চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে—অবকাঠামোগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির আধুনিকীকরণ; আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; নড়াইল শহরাংশের জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প; এস্টাবিলিশমেন্ট ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্প; রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২; সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; খুলনা জেলার পোল্ডার নং-১৪/১ পুনর্বাসন প্রকল্প; দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ প্রকল্প; মাতারবাড়ী ২ গুণ ৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোর ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনাসচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন-আল-রশীদ এবং আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।

 



সাতদিনের সেরা