kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইউপি নির্বাচন

যশোরে সহিংসতায় প্রার্থীর ছেলের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যশোরে সহিংসতায় প্রার্থীর ছেলের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল খালেক ধাবকের ছেলে মোস্তাক ধাবক। গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মোস্তাক গত মঙ্গলবার সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় তিন ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় ৪৯ জনের মৃত্যু হলো।

মোস্তাকের মৃত্যুর খবরে খালেকের কর্মী-সমর্থকরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল শনিবার সকালে নিজ গ্রাম উপজেলার সাতমাইল ও বাগআঁচড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিলসহ যশোর-সাতক্ষীরা সড়ক অবরোধ করে।

একই দিন শার্শার বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী ইউনিয়নের বালুণ্ডা গ্রাম থেকে ১০টি বোমা ও বোমা তৈরির এক ব্যাগ সরঞ্জামসহ

চারজনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের উছমানপুর ইউনিয়নের নাজিরদীঘি গ্রামে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নিজাম কারির নেতৃত্বে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সেলিম মিয়ার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। রাজবাড়ীর কালুখালীর মাজবাড়ী ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী শরিফুল ইসলামের নৌকা প্রতীকের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও চারজনকে আহত করা হয়েছে।

শার্শার সাতমাইল গ্রামে ও বাগআঁচড়া বাজারে সকাল ৮টা থেকে যশোর-সাতক্ষীরা সড়ক অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের আটকের আশ্বাস দিলে ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়। তবে বাগআঁচড়া বাজারের দোকানপাট বন্ধ ছিল।

বেনাপোলে গতকাল দুপুরে আটক চারজন হলেন বালুণ্ডা গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে আলা হোসেন, জাহিদ হোসেন, সজিব হোসেন ও আজগর আলী। তাঁরা পুটখালী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিনের সমর্থক।

এলাকাবাসী জানান, পুটখালীতে নাসির উদ্দিনের সমর্থকরা গত বৃহস্পতিবার রাতে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক মোক্তার মেম্বারকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা করে। পুলিশ জানায়, ১০টি বোমার মধ্যে পাঁচটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের উছমানপুর ইউনিয়নের নাজিরদীঘি গ্রামে গতকাল দুপুরে হামলার সময় আট থেকে ৯ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইদ্রিস মিয়া ওরফে ইদু মেম্বার ও তাঁর ভাগ্নে তোতা মিয়া বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইদ্রিস মিয়া জানান, তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম মিয়ার সমর্থক। এ কারণেই নৌকার প্রার্থী নিজাম কারি, তাঁর ভাই সেলিম, ভাগ্নে আলমসহ শতাধিক সশস্ত্র লোক তাঁর নাজিরদীঘির বাড়িতে হামলা চালিয়ে রামদা দিয়ে কোপায়। অভিযুক্ত নিজাম কারির মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

কুলিয়ারচর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা গুলির ঘটনা সম্পর্কে বলেন, এ অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে রাজবাড়ীর কালুখালীর মাজবাড়ী ইউনিয়নে আহতদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সকালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউসুফ হোসেনের দুই ছেলেসহ ১৬ জনকে চিহ্নিত করে এবং অচেনা আরো আট থেকে ১০ জনকে আসামি করে কালুখালী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির বাদী ইউনিয়নের চরকুলটিয়া গ্রামের মো. হাফিজুর রহমান খানের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি তাঁর ভাই আলতাফ, মামা অখিল মোল্লা ও মামাতো ভাই দুলালকে কোপায়। আলতাফের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আলতাফের মাথায় ১৪টি, অখিলের মাথায় চারটি ও কপালে তিনটি এবং দুলালের হাঁটুতে তিনটি সেলাই দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]

 



সাতদিনের সেরা