kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন জাহাঙ্গীর

জাহাঙ্গীর আলম

বঙ্গবন্ধু ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার হওয়া গাজীপুরের সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘অজান্তে ভুল হতে পারে। ভুলের জন্য ক্ষমা চাই। আমার মন-প্রাণজুড়ে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু বা আওয়ামী লীগকে আমি অসম্মান বা কটূক্তি করতে পারি না।

বিজ্ঞাপন

আমার পদ চাই না। আমি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক হিসেবে থাকতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যেন আমাকে পুনর্বিবেচনা করেন। ’

দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার প্রেক্ষাপটে গতকাল শনিবার দুপুরে গাজীপুর নগরের ছয়দানা এলাকায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এভাবেই বলছিলেন গাজীপুরের এই আলোচিত মেয়র। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের পর গত শুক্রবার রাতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্লাহ খান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে নিজের মনগড়া বক্তব্য দিয়ে জাহাঙ্গীর যে অপরাধ করেছেন, ওই অপরাধের শাস্তি তিনি পেয়েছেন। এতে আওয়ামী পরিবার, সারা দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের লোক খুশি। গাজীপুরের মানুষ এ সিদ্ধান্তে উল্লসিত। কারণ তাদের অন্তরে জ্বালা ছিল। ’

তিনি আরো বলেন, ‘গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগে অতীতেও কোনো বিভাজন ছিল না, এখনো নেই। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। এ দলের গঠনতন্ত্র রয়েছে। সেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল পরিচালিত হয়। ’

মেয়র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কারের পর এক পক্ষের আনন্দ মিছিলের মধ্যে তাঁর সমর্থকরা রাত থেকেই বাসায় ভিড় করেন। গতকাল সকালেও মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মেয়রের বাসভবনে হাজির হন। এরপর দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে আসেন জাহাঙ্গীর।

ওই সময় মেয়র জাহাঙ্গীর আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল ও আংশিক তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমি কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছিলাম। বলতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে যদি আমার কথাগুলো বলতে পারতাম তাহলে তিনি সঠিকটা জানতেন। সঠিক তথ্য পেলে আমি অবশ্যই সত্য ও ন্যায়বিচার পেতাম। ’

মেয়র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার অভিভাবক হিসেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আমি মাথা পেতে নিয়েছি। তিনি যদি আমাকে বিনা দোষে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে বলেন, আমি ঝুলতে রাজি আছি। ’

তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হয় বলবেন, আত্মসমর্পণ করব। বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য যদি আমার জীবন দিতে হয় প্রস্তুত আছি। আমার পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করব না। তবু আমাকে যেন মিথ্যা অপবাদ দেওয়া না হয়। ’

মেয়র আরো বলেন, ‘যে অডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, তা আমার মূল কথা বাদ দিয়ে কেটে কেটে আংশিক কথা দিয়ে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। যে কথাটুকু প্রধানমন্ত্রীর কাছে বললে প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলবেন না। প্রতিপক্ষ সেটিই করেছে। ’

দিনভর আলোচনায় জাহাঙ্গীর : মেয়র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কারের খবরটি গতকাল দিনভর ছিল আলোচনায়। দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর মেয়র পদ থাকবে কি না, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না—দিনভর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ছিল এ গুঞ্জন। হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড-রেলস্টেশন, অফিস-আদালত, চায়ের আড্ডাসহ সর্বত্র আলোচনায় ছিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

 



সাতদিনের সেরা