kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

বাস মালিকরা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে ভাড়া বাড়িয়েছেন

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাস মালিকরা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে ভাড়া বাড়িয়েছেন

মোজাম্মেল হক চৌধুরী, মহাসচিব, যাত্রী কল্যাণ সমিতি

সরকার ডিজেলে চলা বাসের ভাড়া বাড়ালেও সব বাসই নতুন হারের চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ ও কষ্ট বাড়ছে। প্রতিদিন রাস্তায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এসব নিয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সজিব ঘোষ

কালের কণ্ঠ : ডিজেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য থামছে না কেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী : গণপরিবহনের ভাড়া যেভাবে বাড়ানো হয়েছে সেটাকে আমরা কোনোভাবেই যৌক্তিক মনে করছি না। জ্বালানির মূল্য যে হারে বেড়েছে বাসের ভাড়া তার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হয়ে গেছে। দূরপাল্লার বাসে এই চিত্র বেশি ফুটে উঠেছে। বাসের মালিক ও সরকার মিলে একচেটিয়াভাবে এই ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। বাসের মালিকরা তাঁদের অন্য খাতের খরচ ভাড়ার মাধ্যমে যাত্রীর মাথায় চাপিয়ে দিচ্ছেন। পরিবহন মালিকরা সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে ভাড়া বাড়িয়েছেন।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে বাসের ভাড়া কত বাড়লে যুক্তিসংগত হতো?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী : ২০১৬ সালে জ্বালানির মূল্য যখন তিন টাকা কমানো হয়, তখন প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া কমেছিল তিন পয়সা। এখন জ্বালানির দাম বাড়ায় আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, সর্বোচ্চ প্রতি কিলোমিটারে ১৬ পয়সা ভাড়া বাড়ানো যেতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ : ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সিটিং ও গেটলক বন্ধ করার কথা বলেছে। কিন্তু বিষয়টি বাস্তবে হচ্ছে না, কেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী : তাদের এই উদ্যোগ সফল হবে না। সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বাস বন্ধ করার কোনো সদিচ্ছাই তাঁদের (বাস মালিক) নেই। তাঁরা সিটিং সার্ভিস বন্ধের নামে ইঁদুর-বিড়াল খেলছেন। এ ধরনের কোনো বাসই চলার কথা না। সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রীর পকেট কাটা হচ্ছে। বাসের ভাড়া নির্ধারণের সময় ধরেই নেওয়া হয় ৫৫ আসনের একটি বাসে ১০ থেকে ১৫টি আসন খালি থাকবে। সেই হিসাব করেই ভাড়া ঠিক করা হয়। খালি আসনের ভাড়াও অন্য যাত্রীরা দেন। বাসের মালিকরা সিটিং সার্ভিস বন্ধের কথা মুখে বলেন আর শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দেয়। সিটিং সার্ভিসে যাত্রীর চাহিদা আছে—এমন কথা বলে মালিকরা কিছুদিন পর আবার এটা চালু করেন।

 

কালের কণ্ঠ : বাসের ওয়ে বিল ব্যবস্থা কি তাহলে অবৈধ?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী : এটা অবশ্যই অবৈধ। এমনকি সড়ক পরিবহন আইনেও ওয়ে বিলের কোনো সুযোগ নেই। আট টাকার ভাড়া ২৫ টাকা নিতেই ওয়ে বিলের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। একজন ১৫ কিলোমিটার পথের জন্য যে ভাড়া দেবে, আরেকজন সাত কিলোমিটার পথের জন্য একই ভাড়া দেবে—এমনটা হতে পারে না।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি কি ওয়ে বিল বন্ধসহ শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের আন্দোলন সমর্থন করেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী : ধরেন রাজধানীর গুলিস্তান থেকে কাজলা এই সাত কিলোমিটার রাস্তার ভাড়া ১৫ টাকার জায়গায় আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা। সেখানে ছাত্ররা যদি অর্ধেক ভাড়া দেয় তাহলেও ওরা মূল ভাড়ার থেকে খুব একটা কম দিচ্ছে না। হাফ পাস ছাত্রদের অধিকার। একই সঙ্গে বাসে যাঁরা আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছ থেকেও অর্ধেক ভাড়া নেওয়া উচিত।

 

কালের কণ্ঠ : আপনার সংগঠন থেকে বলা হয়েছে, ঢাকায় বেশির ভাগ বাস তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে (সিএনজি) চলে। কিন্তু এখন তো সিএনজিতে চলে এমন স্টিকার লাগানো বাস চোখেই পড়ে না।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী : বহু বাস আছে যেগুলো সিএনজিতে চললেও ডিজেলচালিত লেখা আছে। এখন যদি সিএনজির দাম বাড়ে তাহলে আবার দেখবেন সব বাস সিএনজিচালিত হয়ে গেছে। সব সিএনজিচালিত বাসই এখন রাতারাতি ডিজেলচালিত হয়ে গেছে। এটা অন্যায়।

 

কালের কণ্ঠ : এসবের সমাধান কী?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী : গণপরিবহনের কেন্দ্র হচ্ছে যাত্রী। অথচ কোনো কিছুতেই যাত্রীর অংশগ্রহণ নেই। ১৫ জন মিলে ভাড়া বাড়িয়েছেন, যেখানে ৯ জনই হলেন বাস মালিকদের প্রভাবশালী নেতা। আর পাঁচজন হলেন আমলা। আমলাদের আমি জনগণ মনে করি না। আর বাসের এই নেতারা মন্ত্রীর কথাই শোনেন না। আমলাদের কথা আর কি শুনবেন। নতুন কমিটি করে বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সেই কমিটিতে সমপর্যায় যাত্রী ও ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকবে। তাহলেই কেবল যৌক্তিক ভাড়া ঠিক হতে পারে।

 



সাতদিনের সেরা