kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সিটিং-গেটলক বন্ধে চেষ্টা, অব্যাহত থাকছে ‘ওয়ে বিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




সিটিং-গেটলক বন্ধে চেষ্টা, অব্যাহত থাকছে ‘ওয়ে বিল’

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় গতকাল ছিল সিটিং সার্ভিস বাস শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘট। মিরপুর ১ নম্বরে শ্রমিকরা বাস থামিয়ে রাস্তার পাশে লাইন করে রাখছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী গত রবিবার থেকেই রাজধানীতে চলা বাসের সিটিং ও গেটলক সেবা বন্ধ হওয়ার কথা। তবে ঢাকা মহানগরীর বেশ কিছু সড়কে চার দিন ধরেও সিটিং ও গেটলক বাস চলতে দেখা যায়। এসব বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হয়েছে। এতে যাত্রী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় সাময়িক সময়ের জন্য মিরপুরে গত দুই দিন বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

বিজ্ঞাপন

আবার বাসে হাফ পাসের দাবিতে গতকাল বুধবার মহাখালীর আমতলী ও মিরপুর-১০ নম্বরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। মঙ্গলবারও উত্তরা ও শনির আখড়া এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। যদিও ছাত্রদের বিক্ষোভের সঙ্গে মিরপুরে শ্রমিকদের বাস না চালানোর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। রাজধানীতে সিটিং ও গেটলক সার্ভিস বন্ধে জোর দিতে গতকাল বিকেলে সংগঠনটির কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে অংশ নিয়ে ঢাকার বাস মালিকরা বলছেন, তাঁদের দিক থেকে সিটিং ও গেটলক সার্ভিস বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সূত্র বলছে, শ্রমিকরা সিটিং সার্ভিস চালালে বাস থেকে আয়ের হিসাব পরিষ্কার হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে বাস মালিকদের ভাড়া থেকে আয়ের হিসাব কম দেখানোর সুযোগ থাকে না। তাই শ্রমিকরা চাচ্ছে না সিটিং ও গেটলক সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ হোক।

বাস না চলায় মিরপুরবাসীর দুর্ভোগ : গতকাল সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুরে বাস চালায়নি শ্রমিকরা। তবে দুপুরের পর থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে। এতে করে আফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১, ১২, কালশী, পূরবী, সিরামিক রোডে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

অল্প কিছু বাস মিরপুর-১২ নম্বর থেকে ছেড়ে গেলেও তাতে যাত্রীবোঝায় ছিল। বেশির ভাগ বাস মিরপুর-১২ নম্বরের প্রধান সড়কে পার্কিং করে রাখা হয়। আবার পূরবী সিনেমা হলের সামনে কিছু শ্রমিক দাঁড়িয়ে ছেড়ে যাওয়া বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। সকাল সাড়ে ৮টায় পুলিশ এসে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।

শ্রমিকরা বলছে, মালিকদের পক্ষ থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আর সিটিংয়ে বাস চালিয়ে যে ভাড়া ওঠে তা দিয়ে তেল খরচই তোলা যায় না। চালক-হেলপারের বেতন আসে না। ভাড়া থেকে টাকা কম এলে বাসের মালিকরা তো পকেট থেকে বেতন দিচ্ছেন না।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সমপাদক ও মিরপুরের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির তপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাত্রীদের সঙ্গে গতকালের (মঙ্গলবার) কিছু বাগবিতণ্ডার কারণে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ রেখেছিল। আজ (গতকাল) সব ঠিক হয়ে গেছে। আমরা আজ মিটিং করেছি। আমাদের সংগঠন থেকে সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বাস বন্ধ করতে জোর দেওয়া হচ্ছে। ’

থাকছে ওয়ে বিল : সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বাস বন্ধ হলেও ওয়ে বিল বন্ধ হচ্ছে না। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সমপাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘ওয়ে বিলের সঙ্গে বাসের ভাড়া আদায়ের কোনো সমপর্ক নেই। ওয়ে বিল রাখা হয় বাস মালিকদের হিসাব বুঝে রাখার সুবিধার জন্য। যাত্রীরা কিলোমিটার হিসাব করে, বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দেখে ভাড়া দেবেন। ’

সংগঠনটির সাংগঠনিক সমপাদক হুমায়ন কবির তপন বলেন, ‘সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বাস বন্ধ করা হলেও ওয়ে বিল সিস্টেম চালু থাকবে। তা না হলে কতজন যাত্রী বাসে উঠেছিল, এতে কী পরিমাণ ভাড়া এসেছে সেই হিসাব পাওয়া যাবে না। আর ছাত্রদের হাফ পাসের আন্দোলনের সঙ্গেও শ্রমিকদের বাস চলাচল বন্ধ রাখার কোনো সমপর্ক ছিল না। ’

হাফ পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন : গতকাল মহাখালীর আমতলী ও মিরপুর-১০ নম্বরে বাসে হাফ পাসের দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। আমতলীতে সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

হামলার শিকার সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রেজায়ে রাব্বি জায়েদ বলেন, ‘হাফ পাসের দাবিতে আমাদের চলমান আন্দোলনে তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের ছেলেরা হামলা চালিয়েছে। এতে আমি আহত হই। হামলার পর ওরা আর আমাদের সেখানে বিক্ষোভ করতে দেয়নি। উপস্থিত পুলিশও আমাদের সাহায্য করেনি। ’

মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বাঙলা কলেজ ও রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ এসে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে আনে। মিরপুরে চলা সব বাসে আগামী দুই দিনের মধ্যে হাফ পাস চালু হবে এমন আশ্বাসে দুপুরে তাঁরা বিক্ষোভ বন্ধ করেন।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বিআরটিএর অভিযান : বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিতই চলছে বিআরটিএ অভিযান। গতকাল ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিআরটিএ ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এসব আদালত গতকাল মোট ২৩০টি ডিজেল ও ২৬টি সিএনজিতে চলা বাসে অভিযান পরিচালনা করেন। এতে ৬০টি ডিজেলচালিত বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দুই লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।



সাতদিনের সেরা