kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার

আগের বিদ্রোহীদের মনোনয়ন না দেওয়ায় এই ফল

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগের বিদ্রোহীদের মনোনয়ন না দেওয়ায় এই ফল

কাজী জাফর উল্যাহ

এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড় দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ একা মাঠে। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন পেয়েও জিততে পারেননি বিপুলসংখ্যক প্রার্থী। এ নিয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তৈমুর ফারুক তুষার

 

কালের কণ্ঠ : দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ৪২ শতাংশ নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। প্রায় ৪০ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এমন ফলাফলের কারণ কী মনে করেন?

জাফর উল্যাহ : গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয় পেয়েছেন এমন কোনো প্রার্থীকে এবার আমরা মনোনয়ন দিইনি। এমন ১২০ জনের মতো চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তাঁরা দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের মোট সংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। তাঁদের অনেকের জনপ্রিয়তা রয়েছে সত্য। কিন্তু আমরা তাঁদের কাউকেই প্রার্থী করিনি। তাঁরা এবারও বিদ্রোহী হয়েছেন। এ কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়ের সংখ্যা বেড়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে আপনারা কি জেনে-বুঝেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

জাফর উল্যাহ : দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দিনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কমাতে কঠোর সিদ্ধান্তের বিকল্প ছিল না। আসলে আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একটা পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। যাতে দলের সবাইকে শক্ত বার্তা দেওয়া যায় যে, বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে পারবেন না। এবারই সেটা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে কিন্তু অনেক বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে আমরা মনোনয়ন দিয়েছিলাম। এবার একজনকেও দেওয়া হয়নি।

কালের কণ্ঠ : তাহলে এখন তাঁদের ব্যাপারে দলের অবস্থান কী হবে?

জাফর উল্যাহ : বিদ্রোহীরা চেয়ারম্যান হলেও তাঁরা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুবিধাটা পাবেন না। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁরা অতীতে যে সুবিধা পেতেন, এখন তাঁরা সেটা পাবেন না। যাঁরা ভোট দিচ্ছেন তাঁরাও হতাশ হবেন। এবার কিন্তু বিদ্রোহী চেয়ারম্যানরা নিজের এলাকার জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারবেন না। তাঁদের প্রতি আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। তাঁদের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আমাদের ওপর অনেক চাপ ছিল। কিন্তু আমাদের দলের সিদ্ধান্ত অটল ছিল।

 

কালের কণ্ঠ : দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের কোনো ভুল ছিল কি?

জাফর উল্যাহ : না। প্রার্থী নির্বাচনে ভুল হয়নি। যাঁরা যোগ্য তাঁদেরই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জায়গায় দেখা গেছে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী আগেরবারে বিদ্রোহী ছিলেন। সে কারণে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া যায়নি।

কালের কণ্ঠ : অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিও তো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত, বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে আসা ব্যক্তিরাও তো নৌকা প্রতীক পেয়েছেন।

জাফর উল্যাহ : সে রকম ছিল। তবে সেটা কম ছিল। কিছু অভিযোগ ছিল এটা সত্য। কারণ দলের মধ্যেও তো রেষারেষি অনেক। একজন মনোনয়ন পান, বাকি পাঁচ-ছয়জন বঞ্চিত হন। তখন সবাই নানা অভিযোগ তোলেন। এটাও সত্য।

কালের কণ্ঠ : তৃণমূল থেকে প্রার্থীদের যে নামের সুপারিশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আসে, সেটাকে কি আপনারা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন? সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে?

জাফর উল্যাহ : তৃণমূলের তালিকাই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউনিয়ন থেকে যাঁদের নাম আসেনি তাঁদের মনোনয়ন দিচ্ছি না। অনেক সময় দেখা গেছে, তৃণমূল থেকে আসা তালিকায় জেলা কমিটি ১ নম্বরে যাঁকে রেখেছে তাঁর নাম ইউনিয়নের তালিকায় নেই। ফলে ১ নম্বরে থাকা প্রার্থীকে আমরা মনোনয়ন দিইনি। আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মতামতকেই গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি, যাঁরা প্রকৃত আওয়ামী লীগের লোক, যাঁরা আওয়ামী পরিবারের লোক, নৌকা অন্তঃপ্রাণ এই লোকগুলোকে আমরা মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদককে মনোনয়ন দিয়েছি। কিন্তু জয়ী হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে আস্তে আস্তে এটা কমে যাবে।

 

কালের কণ্ঠ : কোনো কোনো মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য তো বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন?

জাফর উল্যাহ : আমরা মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি যেন কোনোভাবেই বিদ্রোহীদের সমর্থন না দেন। যদি কেউ দেন তাহলে তাঁদেরও আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। যখন মন্ত্রী-এমপিদের কাছে যাবেন কিন্তু সাড়া পাবেন না তখন এমনিতেই বিদ্রোহী হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে বলে আমরা মনে করছি।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

জাফর উল্যাহ : আপনাকেও ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা