kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রথম শিরোপার অপেক্ষা

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথম শিরোপার অপেক্ষা

বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে ফিঞ্চ ও উইলিয়ামসন। ছবি : আইসিসি

দ্বিতীয় সেমিফাইনাল দেখতে আসার ঝক্কিটা এত সহজে কারো ভুলে যাওয়ার কথা নয়। পাকিস্তানি সমর্থকের এমন ঢল নেমেছিল যে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে শুরু হওয়া যানজটে কাছে-দূরের প্রায় সবাইকেই নাকাল হতে দেখেছেন আইসিসির মিডিয়া ম্যানেজার রাজশেখর রাও। তবে আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে কাউকে তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলে আশ্বস্ত করেও যেন কিছুটা দুঃখিত তিনি। দুঃখটা ফাইনাল নিয়ে মানুষের উন্মাদনার ছবিটা দেখতে না পারার।

বিজ্ঞাপন

সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে ভারত। শেষ চার থেকে পাকিস্তানও। অথচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই দুই দেশের অভিবাসীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বা নেবে, স্বাভাবিক। তাতে ফাইনালের অন্যতম অনুষঙ্গ দর্শক উন্মাদনাও খসে পড়েছে এর মধ্যেই। যদিও চূড়ান্ত সাফল্যের দুয়ারে পৌঁছতে এর কোনো ভূমিকাই নেই। সে জন্য লাগে মাঠের ক্রিকেটে সেরা পারফরম্যান্স। সেই সূত্রেই আজ শিরোপার লড়াইয়ে নামার অপেক্ষায় অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড। এখন পর্যন্ত তাদের যা পারফরম্যান্স, তাতে আছে জমজমাট লড়াইয়ের নিশ্চয়তাও।

তা ফাইনাল-পূর্ব আবহ যতই নিস্তরঙ্গ হোক না কেন, এই দুই দেশের কভিড প্রটোকল এমন কড়া যে এবার বিশ্বকাপ কাভার করতে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের কোনো সাংবাদিকও আসেননি। ফাইনালের আগের দিন দুই দলের অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিতির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যে কোনো সংবাদমাধ্যম সেখানে গেল না, এর পেছনেও আইসিসির কড়া কভিড নীতিমালা। সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত হতে হলেও যে দরকার আছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কভিড নেগেটিভ হওয়ার সনদ। উপমহাদেশের দুই ক্রিকেট পরাশক্তির বিদায়ে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ অনেকটাই হারিয়ে গেছে বলেই কিনা কাল অ্যারন ফিঞ্চ আর কেন উইলিয়ামসনের সংবাদ সম্মেলন হলো ‘হাইব্রিড’ মডেলেই। অর্থাৎ ভার্চুয়ালিই।

কভিড বাস্তবতায় বদলে যাওয়া পৃথিবীতেই আজকের দুবাই খুঁজে নিতে চলেছে নতুন এক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি দ্বিতীয় হলেও নিউজিল্যান্ডের জন্য কুড়ি-বিশের ফাইনাল এই প্রথম। তবে কখনোই শিরোপা না জেতার দিক থেকে দুই দলই এক জায়গায়। ওয়ানডে বিশ্বকাপের পাঁচ-পাঁচটি ট্রফি থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে টি-টোয়েন্টির শ্রেষ্ঠত্ব এখনো অধরাই। সেটি ধরার জন্য মেগ ল্যানিংয়ের সঙ্গে কথা বলে অনুপ্রাণিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন কি না, ফিঞ্চের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হলো সেটিও। অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের এই অধিনায়ক একাই জিতেছেন পাঁচটি বিশ্বকাপ, যার চারটিই টি-টোয়েন্টির।

এবার পুরুষদের ক্রিকেটেও অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার টি-টোয়েন্টির ট্রফি উপহার দিতে চাওয়ার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে ফিঞ্চও ফিরে যেতে চাইবেন না। কিন্তু প্রতিপক্ষ যে নিউজিল্যান্ড, যাদের তিনি নিজেই গত ছয় বছরে হওয়া বিশ্ব আসরগুলোর সেরা দলের স্বীকৃতিও দিয়ে ফেলেছেন। দেওয়ারই কথা। ২০১৫-র পর ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দলের জন্য এই ছয় বছরের মধ্যে এটি চতুর্থ ফাইনাল। মাঝখানে গত জুনে ভারতকে হারিয়ে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জেতার পথে ফাইনাল জিততে না পারার মানসিক বাধাও অতিক্রম করে এসেছে কিউইরা।

এই ফাইনালের আগে তাই অন্য রকম বিশ্বাসেই ভর দিয়ে থাকার কথা কেন উইলিয়ামসনদের, যিনি নিজের দলকে ‘একার নয়, এগারো’র বলেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তা-ও আবার এমন এক দল, যে দলের ডেভন কনওয়ে হাতের চোট নিয়ে ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ার পরও অনুশীলনে অনুপস্থিত নেই, বরং অনুশীলনে সতীর্থদের সহযোগিতা করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, এই দলটির সবাই একে অন্যেরও। সেই সঙ্গে মাঠে পারফরম্যান্সের ফুল ফোটানোর ছবি তো আছেই।

তেমন ছবি আছে অস্ট্রেলিয়ারও। তাই ফিঞ্চকেও বেশ গর্বের সঙ্গেই বলতে শোনা গেল, ‘এই আসরে আমাদের ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, দলের ১১ জনই কোনো না কোনোভাবে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে অবদান রেখেছে। কাজেই এটি বলতে পারবেন না যে আমাদের দলটি একজনের। ’

শেষ বিচারে ফাইনালের দুই দল যেন একই বিন্দুতে। দুই দলই একজনের নয়, ১১ জনের। নিস্তরঙ্গ আবহেও যা ছড়াচ্ছে নিশ্চিত ধুন্ধুমার প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজও। আজ রাতে সেই লড়াই খুঁজে নেবে নতুন এক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকেই।



সাতদিনের সেরা