kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পাঁচ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



পাঁচ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মেলায় অবশেষে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৬ নভেম্বর এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যসচিব মো. আজিজুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়েছে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলামও পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

 ওই পরীক্ষায় দুই লাখ চাকরিপ্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত পাঁচটি ব্যাংকে (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) ২০১৮ সালভিত্তিক অফিসার ক্যাশের এক হাজার ৫১১টি শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ১০০ নম্বরের পরীক্ষাটি অনিবার্য কারণবশত বাতিল করা হলো। পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ ও সময়সূচি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে।

একই সঙ্গে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের দুই পদের লিখিত পরীক্ষাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেন্টারের তিন কর্মীই ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেছেন। তাঁরা হলেন আইসিটি টেকনিশিয়ান (হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার) মোক্তারুজ্জামান রয়েল, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পারভেজ মিয়া ও অফিস সহায়ক দেলোয়ার হোসেন।

গত শনিবার পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় রয়েলের সঙ্গে পারভেজও প্রশ্ন সরবরাহ করেছেন। আগের তিনটি পরীক্ষায় প্রশ্ন বের করতে ভূমিকা রাখেন দেলোয়ার। এঁদের পেছনে রয়েছেন প্রশ্ন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। এ তথ্য যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। প্রশ্ন সংগ্রহ করে পরীক্ষার আগে উত্তর তৈরি করে দিয়ে বুথ বসিয়ে মুখস্থ করানোর কারবার নিয়ন্ত্রণ করছিলেন ব্যাংকাররা। এঁদের মধ্যে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা সোহেল রানা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও উত্তরে চাকরি পেয়েছেন। এরপর নিজেই সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ব্যাংকার, পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মী ও সহযোগীদের নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশেই তাঁরা ১১টি বুথ তৈরি করেন। পাঁচ থেকে ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে পরীক্ষার আগের রাত থেকে তাঁরা প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করেন। ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতির তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এমদাদুল হক খোকন, সোহেল রানা এবং ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল জাবের ওরফে জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। সব মিলিয়ে পাঁচ ব্যাংকারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তা শামসুল হক শ্যামল, আহছানউল্লার কর্মী রয়েল এবং পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান মিলনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকাল খোকন, সোহেল ও জাহিদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এদিকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার পাঁচ ব্যাংকারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ওই কর্মকর্তারা হলেন জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখার অফিসার শামসুল হক শ্যামল, সিনিয়র অফিসার এমদাদুল হক খোকন ও সোহেল রানা এবং রূপালী ব্যাংকের সাভার শাখার সিনিয়র অফিসার জানে আলম মিলন। এর আগে গত বুধবার পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

রূপালী ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা এহতেশামুজ্জামান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকায় রূপালী ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবারই বরখাস্তের ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়। সব প্রক্রিয়া শেষ করে বৃহস্পতিবার বরখাস্তের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। ’

জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক মো. আনিস বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আমাদের শাখার যে কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়নি। তবে বরখাস্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ’ যোগাযোগ করা হলে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত ওই তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে এখনো চিঠি ইস্যু করা হয়নি।

এদিকে আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটির আইটি শাখার তিন কর্মীকে গত বুধবার বরখাস্ত করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. মোশরাফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে শিগগিরই দুটি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের দুই পদের লিখিত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারি পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার কারণে তিন ব্যাংকের দুটি পদের পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না।   তবে ব্যাংকের আর কোনো নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটিকে দেওয়া হবে না।

ডিবির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা শাহদাত হোসেন বলেন, আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ছয়জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির দুই পরীক্ষা স্থগিত : প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অন্তর্ভুক্ত তিন ব্যাংকের দুই পদের লিখিত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (আইটি) এবং জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাটাবেইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদের পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র অফিসার (আইটি) পদের পরীক্ষা আগামী ১৩ নভেম্বর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাটাবেইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদের পরীক্ষা ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ ও সময়সূচি যথাসময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অফিসার (জেনারেল) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (জেনারেল) পদের পরীক্ষা আজ শুক্রবার যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।



সাতদিনের সেরা