kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইউপি নির্বাচন

গুলি, সংঘর্ষে নিহত ৬

বিশেষ প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



গুলি, সংঘর্ষে নিহত ৬

গতকাল কক্সবাজার সদর উপজেলায় এক ভোটকেন্দ্রে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পরে গুলিবিদ্ধ একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয় (ওপরে)। চাঁদপুর সদর উপজেলায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করছেন এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর ছেলে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্যাপক সহিংসতা, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাসহ নানা অনিয়ম ও বর্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের ৮৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। ভোটের আগের রাত এবং ভোট চলাকালে সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেটসহ কমপক্ষে ৩৩৭ জন।

সংঘর্ষ চলার সময় একজন মারা গেছেন হার্ট অ্যাটাকে।

বিজ্ঞাপন

নিহতদের মধ্যে নরসিংদীর রায়পুরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনজন। কক্সবাজার, কুমিল্লার মেঘনা ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একজন করে নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ও বিজিবিকে গুলি ছুড়তে হয়েছে। কয়েকজন সাংবাদিকও মারধরের শিকার হয়েছেন। কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাও হয়েছে। একটি কেন্দ্রে ইভিএম ছিনতাই হয়েছে। এসব কারণে প্রিজাইডিং অফিসাররা ১০টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন। আবার অনেক ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল ভালো।

এই নির্বাচনে হতাহতের ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়, সেটিই করা হয়েছে। তারা কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বিশাল এলাকা নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে। ইউপি নির্বাচনে ঝগড়াঝাটি হয়েই থাকে। বেশ কয়েকটি জায়গায় হতাহতের ঘটনা আমরা দেখছি। দোষীদের এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ’

সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছয়জন মারা গেছেন। এর জন্য কমিশন ব্যথিত। আজ যে ছয়জন মারা গেছেন তাঁরা কেউ আমাদের ভোটকেন্দ্রে মারা যাননি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যেই ধাওয়াধাওয়ি, তাঁদের মধ্যেই সহিংসতায় তাঁরা মারা গেছেন। ১০টি কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। ওই ১০টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়েছে। এগুলোতে পরবর্তী সময়ে ভোটগ্রহণ হবে। অন্যান্য কেন্দ্রের রেজাল্ট নিয়েও যদি ডিসিশন না হয় তখন পরবর্তী সময়ে ভোট নেওয়া হবে। আমরা মনে করি পুরো দেশে ভালো ভোট হয়েছে। ’

দ্বিতীয় ধাপের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর আগে ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা প্রায় আড়াই শ। গতকালের তিনজন ছাড়াও এর আগে নরসিংদীতে দুইবারে ছয়জন, মাগুরায় চারজন, মেহেরপুরে দুজন, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দুইবারে দুজন এবং কক্সবাজার, সিলেট, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী ও ফরিদপুরে একজন করে নিহত হন।

আর প্রথম ধাপের দুই দফা নির্বাচনে ভোটের দিন ছয়জন এবং ভোটের পরে একজন—মোট ৭ জন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

রায়পুরায় ভোট শুরুর আগেই তিনজন নিহত : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউপিতে গতকাল ভোট শুরুর আগেই নির্বাচনী সহিংসতায় তিনজন নিহত হন। তাঁরা হচ্ছেন ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে সালাউদ্দিন মিয়া (৩০), সোবহানপুর গ্রামের হক মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (২৫) ও বটতলীকান্দি গ্রামের হাজি সিরাজ মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (২২)। নিহত সালাউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান প্রার্থী রাতুল হাসান জাকিরের সমর্থক এবং দুলাল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল হকের সমর্থক। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী কাচারিকান্দি এলাকায় তিনজন এবং ৪ নভেম্বর সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুর এলাকায় তিনজন নিহত হন।

জানা যায়, নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে বুধবার দুপুর থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার বাঁশগাড়ী, মির্জারচর, পাড়াতলী, নিলক্ষা ও হাইরমারা ইউনিয়নের সব চেয়ারম্যান প্রার্থীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে নজরদারিতে রাখে। রাত দেড়টার পর তাঁরা ছাড়া পান। রাত সাড়ে ৩টায় বাঁশগাড়ীর বালুয়াকান্দি, বটতলীকান্দি, সোবহানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণ ও পাল্টাপাল্টি গুলি বর্ষণ শুরু হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত সালাউদ্দিনের স্ত্রী আঁখি বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে আমাদের ঘরের সামনে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই শব্দে ঘর থেকে বাইরে বের হন সালাউদ্দিন। এর পরই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ’

এদিকে নিহত জাহাঙ্গীরের বোন ফুলমালা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোর ৬টার দিকে দিঘলিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে জোর করে সিল মারা হচ্ছে শুনে জাহাঙ্গীর বাড়ি থেকে বের হন। তিনি বদলবাড়ি খালের ব্রিজের কাছে গেলেই নৌকার প্রার্থীর লোকজন জাহাঙ্গীরকে গুলি করে। ’

নিহত দুলালের বাবা সিরাজ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে মারামারির খবর পেয়ে বাড়ি থেকে বের হলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রায়পুরায় এই ঘটনার পরও দুপুরে চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষ হয়। ব্যালট বক্স ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের কারণে একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

কুমিল্লা : মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরো অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। ওই ইউনিয়নের মাতাবেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের খিরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ চলাকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন।

এ ছাড়া উপজেলার চালিয়াভাঙ্গা ইউপিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল লতিফ ও বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হুমায়ুন কবিরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

মানিকারচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে শাওন আহমেদ (২৫) নিহত হন। তিনি উপজেলার ভল্লাবেরকান্দি গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হারুন অর রশিদের সমর্থক।

 

জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে একদল বহিরাগত হঠাৎ করেই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে। বহিরাগতদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। পুলিশ গুলিও ছোড়ে। এতে শাওন আহমেদের সঙ্গে যশ মিয়া ও নাজমুল আলম নামের অপর দুজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশসহ আরো অন্তত ২০ জন আহত হন। একই সময়ে কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন ও বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন অর রশিদের সমর্থকদের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়।

কক্সবাজার : কক্সবাজারে ২১টি ইউপির নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা ও নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়ন ও উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের দুইটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে ইউনিয়ন দুটির ফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ কেন্দ্রেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ।

সকালে খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে শেখ কামাল ও আবু বকর সিদ্দিক নামের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মেম্বার শেখ কামালের ছোট ভাই আকতারুজ্জামান পুতু (৩৫) গুলি ও দায়ের কোপে আহত হন। হাসপাতালে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। ওই কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়। একই ইউনিয়নের ধুরুংখালী মহাজনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম প্রতিপক্ষের বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত হন।

ফটিকছড়ি : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এমআরসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছুরিকাঘাতে মুহাম্মদ শফি (৩০) নামের এক যুবক নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সাত-আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যান্য সহিংসতা ও অনিয়ম : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতা ও ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টার সময় এক চেয়ারম্যান প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হন এবং অপর পাঁচজন আহত হন। মাগুরা সদর উপজেলার আঠারোখাদা ইউপির বাগডাঙ্গা সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভাইয়ের হামলায় সুজন বিশ্বাস নামের এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আহত হন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউপির কয়েকটি কেন্দ্রে আগে থেকেই ব্যালট পোপারে নৌকা প্রতীকে সিল মারা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। চাঁদপুরে ভোটকেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শেরপুরে ১৪টি ইউপির বিভিন্ন কেন্দ্রে দুপুর থেকে মেম্বার ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ২০ জন আহত হন। ব্যালট ছিনতাই, ব্যালট বক্স ভাঙচুর ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগে পাঁচটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সাতটি ইউপির মধ্যে বাংলাবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও বিদ্রাহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। সিপাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভাঙচুর ও ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়। পাশের একটি বাড়িতে ছিনতাই করা ব্যালটে সিল মারার সময় পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষ, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মহড়া, গুলিবিনিময়, জাল ভোট দেওয়া এবং ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। দুটি ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

জামালপুরে সদর উপজেলার মেষ্টা ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে জোর করে ব্যালটে সিল দেওয়ার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। একটি কেন্দ্রে ব্যালট বক্স ভাঙচুর হয়। বাতিল করা হয় ওই কেন্দ্রের ভোট। শাবাজপুর ইউপিতে সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

পটুয়াখালীতে সদর উপজেলার বদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও এবারের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুস সালাম রফিক আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে জোর করে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন।

মাদারীপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশকে ২০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে হয়। গাইবান্ধাতেও ৯ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। ব্যালট পেপারে জোর করে সিল মারা এবং প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে ধামরাইয়ের কয়েকটি ইউপির ভোটকেন্দ্রে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার জুড়ানপুর ইউপিতে কারচুপির অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন ও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। কেন্দ্র দখল ও জোর করে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ ওঠে বগুড়ার শেরপুরের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে। একটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ইউপির একটি কেন্দ্রে ভোট শুরু হওয়ার আগেই ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ ওঠে।



সাতদিনের সেরা