kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অজেয় আকাঙ্ক্ষা পূরণের লড়াই

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে

১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অজেয় আকাঙ্ক্ষা পূরণের লড়াই

আকার-আকৃতিতে তিনি এমন দৈত্যাকার যে রোমান গ্ল্যাডিয়েটরের সাজ-পোশাকেও দিব্যি মানিয়ে যাওয়ার মতো। নিজেদের ব্যাটিং কোচ ম্যাথু হেইডেনের তুলনায় বাবর আজমরা বিশালাকার না হয়েও মাঠের প্রভাববিস্তারী পারফরম্যান্সে শতভাগ সফল যোদ্ধার মর্যাদাই পেয়ে আসছেন। না হলে অ্যারন ফিঞ্চ কেন বলবেন যে, ‘এই টুর্নামেন্টের কথা যদি বলেন, তাহলে পাকিস্তানের স্কোরলাইন ৫-০!’

সুপার টুয়েলভ পর্বের সব ম্যাচ জিতে আসরের একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে শেষ চারে আসা অপ্রতিরোধ্য পাকিস্তানের সামনে আজ প্রতিরোধের দেয়াল তুলে দাঁড়াতে তৈরি অস্ট্রেলিয়াও। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও সম্ভাবনার অঙ্কে অনেকেই পিছিয়ে রেখেছিলেন তাদের।

বিজ্ঞাপন

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে শুরু করার পরও ইংল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণে তৈরি হওয়া জনমতের কথাও ভুলে যাননি ফিঞ্চ। আজ দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাবরদের মুখোমুখি হওয়ার আগে সচেতনেই সে কথা মনে করিয়ে দিতে চাইলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক, ‘১০ দিন আগেও আমাদের শুনতে হয়েছে যে আমরা বুড়োদের দল। আর এখন বলা হচ্ছে দারুণ অভিজ্ঞ দল!’

এই দলে অভিজ্ঞদের কেউ কেউ আসর শুরুর আগে ছিলেন চরম নাজুক অবস্থায়ও। ব্যাট হাতে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য আইপিএলের আমিরাত পর্বে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের একাদশে জায়গা হারানো ডেভিড ওয়ার্নার পরে দলের সঙ্গে মাঠে যাওয়ার অধিকারও হারিয়েছিলেন। তবে চলতি বিশ্বকাপে এই বাঁহাতি ওপেনারও হারানো ছন্দটা ধরে ফেলেছেন। এখন পর্যন্ত আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে পাল্টা আঘাতে প্রতিপক্ষকে ছন্নছাড়া করে দিতে অস্ট্রেলিয়ার দুর্ধর্ষ পেস আক্রমণ তো আছেই। বোলিং বৈচিত্র্যের সঙ্গে দারুণ কার্যকারিতা যোগ করা পাকিস্তানও এই বিশ্বকাপে ব্যাটিংয়ে এমন ধারাবাহিক যে আজ জমজমাট এক ক্রিকেট যুদ্ধই যেন অপেক্ষায়।

যে যুদ্ধে মুখোমুখি দুই দলের জন্য সুযোগ বহুকালের অজেয় আকাঙ্ক্ষা পূরণেরও। সেই কবে, ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টির তৃতীয় বিশ্ব আসরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া পাকিস্তান এরপর আর কখনোই পায়নি ফাইনালের নাগাল। এক যুগ পর আবার তাদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন ঝলমল করছে বাবরের দলের ধারাবাহিকতায়। তুলনায় পারফরম্যান্সের নামা-ওঠা দেখতে দেখতে আসা অস্ট্রেলিয়ার জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এত দিন ধরে হতাশার সমার্থকই হয়ে আছে। ২০১০ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে হওয়া আসরের ফাইনালে উঠলেও পল কলিংউডের ইংল্যান্ডকে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার আনন্দে ভাসতে দেখেছিল তারা। হ্যাটট্রিক শিরোপাসহ (১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭) পাঁচবার ওয়ানডের বিশ্বকাপ জেতা অস্ট্রেলিয়ার তাই কখনোই কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা হয়নি।

তারা যখন এত বছর পর আবার খুব কাছাকাছি, তখন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নিজেকে ‘দুই দশকের ক্রিকেটযোদ্ধা’ বলে মনে করে আসা ম্যাথু হেইডেনকে নিজের দেশের বিরুদ্ধেই আজ যুদ্ধে নেমে পড়তে হচ্ছে একরকম। নিজে দুইবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার অনন্য অনুভূতির জোয়ারে ভেসেছেন। সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার আগে খেলেছেন ২০০৭ সালে হওয়া টি-টোয়েন্টির প্রথম বিশ্বকাপও। সেবার ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। নিজ দেশের হয়ে আপাতত আর বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ নেই হেইডেনের। সুযোগ যা আছে, তা এখন পাকিস্তানের হয়েই। সেটি লুফে নিতেও মরিয়া অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই বাঁহাতি ওপেনার এবার ম্যাচ শুরুর আগেই ভাঙছেন জুটিও!

টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল ওপেনিং জুটি তো তাঁর আর জাস্টিন ল্যাঙ্গারেরই। পরেরজনও আজকের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে হেইডেনের প্রতিপক্ষই। অস্ট্রেলিয়ান বলেই জানেন যে ল্যাঙ্গারও ট্রফির জন্য কতটা মরিয়া, ‘এবার আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলছি। যে দেশটি কিনা বিশ্বকাপ জেতার দিক থেকে উঁচু এক মান নির্ধারণ করে বসে আছে। তবে তাদের ক্যাবিনেটে এই ট্রফিটাই (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) এখন পর্যন্ত নেই। তাই বলতেই হয় অনেক কঠিন লড়াই-ই অপেক্ষা করে আছে। ’

এই লড়াইয়ে বাবর আজমরাও অস্ট্রেলিয়াকে বিদায়ের পথ দেখাতে কতটা তৈরি, সেটিও সগৌরবে ঘোষণা করতে ভুললেন না হেইডেন, ‘আমাদের এমন একঝাঁক খেলোয়াড় আছে, যারা দারুণ পারফরম করছে। ওদের চোখ শুধু সেমিফাইনালেই নয়, আরো দূরে। লক্ষ্যটা ওদের ফাইনালও জেতার। ’

এর আগে জিততে হবে সেমিফাইনালে। সেটি দুই দলের জন্যই অজেয় আকাঙ্ক্ষা হয়ে আছে বহুকাল!



সাতদিনের সেরা