kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

আবার মৃত বাঘ উদ্ধার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার মৃত বাঘ উদ্ধার

সুন্দরবনের গভীরে একটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বন বিভাগের কর্মীরা রবিবার সন্ধ্যায় মৃত বাঘটি উদ্ধার করেন। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি রাজাখালী খালের পাশে মৃত বাঘটি পাওয়া যায়। বলা হচ্ছে, বয়সের কারণে শিকারে অসমর্থ হওয়ায় বাঘটি মারা গেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে একটি অসমর্থিত সূত্রে এমনও বলা হয়েছে, চোরাশিকারিরা বিষটোপ দিয়ে বাঘটি মেরে ফেলে থাকতে পারে।

২০২০ সালে সুন্দরবনে দুটি বাঘের মৃত্যু হয়েছিল। আর গত ২০ বছরে মারা গেছে ৪০টি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জেলেরা গভীর বনে মৃত বাঘটি দেখতে পান। তাঁরা খবর দিলে বন বিভাগের কর্মীরা সেখানে গিয়ে একটি মৃত বাঘ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা সেটি উদ্ধার করে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছি কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। বন বিভাগ বলছে, বাঘটির একটি দাঁত ক্ষয়ে গেছে, আর একটি দাঁত মাড়ির ভেতর ঢুকে গেছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম এ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, গভীর বনে একটি বয়স্ক মৃত বাঘ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, বয়স হওয়ার কারণেই হয়তো বাঘটি মারা গেছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

গত বছর (২০২০) সুন্দরবনে দুটি বাঘের মৃত্যুর খবর জানা গিয়েছিল। দুটিরই মৃতদেহ পাওয়া যায়। ওই দুটি বাঘের মৃতদেহও সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের আওতাধীন খুলনা রেঞ্জের আন্ধারমানিক ফরেস্ট ক্যাম্পের অদূরে এবং কোকিলমনি টহল ফাঁড়িসংলগ্ন কবরখালি চর থেকে উদ্ধার করা হয়। ২০১৯ সালের আগস্টে শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালীতে একটি মৃত বাঘ উদ্ধার করা হয়।

সুন্দরবন বন বিভাগের একাধিক সূত্র মতে, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশে বছরে একটি করে বাঘের মৃত্যু হয়েছে। মানুষের পিটুনির শিকার হয়ে এবং চোরাশিকারিদের আঘাতে এসব বাঘের মৃত্যু হয়। চলতি বছরও এ নিয়ে দুটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। ২০০১ থেকে এ পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে ২২টি এবং পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে ১৮টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বাঘ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি রাষ্ট্র নিজ নিজ দেশে বাঘের সংখ্যা ২০২২ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও সেই লক্ষ্য থেকে এখনো অনেক দূরে আছে। উল্টো অস্বাভাবিক মৃত্যু বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ ২০১৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে বাঘ রক্ষায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এটি ২০১৯ সালে শেষ হয়। এরপর সরকার নিজস্ব অর্থায়নে বাঘ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিল। তবে এখন পর্যন্ত আর কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হয়নি।

বাঘ তথা সুন্দরবনের প্রাণী সুরক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টিতে কর্মরত ওয়াইল্ড টিমের প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বেঙ্গল টাইগার দেশে বর্তমানে শুধু সুন্দরবনে বাস করে। এখানেই তার নিরাপদ বাসের ব্যবস্থা করতে পারলে সে ভালো থাকবে।

বাংলাদেশে ২০০৪ সালে পায়ের ছাপ গুনে করা জরিপে বলা হয়, বাঘের সংখ্যা ৪৪০। পরে ২০১৫ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ক্যামেরা ফাঁদের মাধ্যমে জরিপ করা হয়। তাতে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় মাত্র ১০৬। ২০১৮ সালে আবারও একটি শুমারি করা হয়, তাতে সংখ্যা দেখা যায় ১১৪। ২০২১ সালে আবার জরিপ করার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা ও শ্যামনগর প্রতিনিধি]



সাতদিনের সেরা