kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দুই মেরুতে পাকিস্তান-ভারত

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে

৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দুই মেরুতে পাকিস্তান-ভারত

তখন টি-টোয়েন্টি থাকলে নিশ্চয়ই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাজারে চড়া মূল্যেই বিক্রি হতেন রিকার্ডো পাওয়েল। মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য আতঙ্কের প্রতিশব্দ হয়ে ওঠা এই ক্যারিবীয়কে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন মঞ্চেও নিজের ঝলমলে উপস্থিতি জানান দেওয়া সেদিনের সেই তরুণ এখন তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের বার্ধক্যে এসে দাঁড়িয়েছেন।

কিন্তু এই উনচল্লিশে এসেও শোয়েব মালিকের ব্যাটে উনিশের তেজ। পড়ন্ত বেলায়ও রবিবার তারুণ্যের যে ঝিলিক তিনি দেখালেন শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ১৯৯৯ সালের ১৪ অক্টোবর ঠিক এখানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সেই সময়ে টি-টোয়েন্টি এসে এমন জমিয়ে বসা দূরের কথা, এ রকম কিছু আসবে বলে ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেনি কেউ। এই পাকিস্তান দলের অধিনায়ক বাবর আজমও কোলে ওঠার বয়স পেরিয়ে যাননি। তাঁর দুই সতীর্থ হায়দার আলী ও মোহাম্মদ ওয়াসিমরা তো তখনো পৃথিবীর আলোই দেখেননি।  

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ পথচলায় কত শীর্ষ তারকার অস্তাচলে ঢলে পড়া দেখা শোয়েব এখনো এমন সচল যে স্কটল্যান্ড ম্যাচে দিব্যি ছয় ছক্কা মেরে দিতে পারেন। মাত্র ১৮ বলে করে ফেলতে পারেন পাকিস্তানের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি ফিফটিও। তাঁর মতো পাকিস্তান দলও এমন দুরন্ত গতিতে ছুটছে যে এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তারা ১১ নভেম্বরের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষায়। তাদের যখন আরেকটি শিরোপায় চোখ রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়, তখন বিদায়ের বিষাদে ডুবে থাকা বিরাট কোহলির ভারত অপেক্ষায় সব নতুন করে শুরুর।

আগের দিন আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের জয়ে তাদের আগাম বাড়ি ফেরা নিশ্চিত হয়ে যায়। তবু গত রাতে ভারতকে নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলতে হয়েছে আসরের সবচেয়ে অর্থহীন ম্যাচটিই। নিয়ম রক্ষার দায় তাদের থাকলেও ছিল না ভারতের সেমিফাইনাল দেখার পরিকল্পনা করে আসা ভক্ত-সমর্থকদের। বার দুবাইয়ের সিটি ম্যাক্স হোটেল থেকে কাল সকালেই যেমন তাঁদের একাংশের ‘চেক আউট’ করার মিছিল। আরো আগেই নিজেদের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও এখনো দুবাইতেই আছেন বাংলাদেশের জন্য গ্যালারিতে গলা ফাটানো চেনা মুখ শোয়েব আলী। এখানে ভারতের কয়েকজন পাঁড় ভক্তের সঙ্গে উঠেছিলেন একই ঠিকানায়। সেখানেও একা হয়ে যাওয়া শোয়েব কাল ফোনে জানাচ্ছিলেন, ‘ওরা সব আজই চলে গেল। ’

দেশে ফিরে ভারতীয় দলও নতুন মোড়ক পরে শুরু করবে শূন্য থেকে। বিশ্বকাপের আগেই কোহলি ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন যে এই আসরের পর টি-টোয়েন্টিতে তিনি আর অধিনায়ক থাকছেন না। রবি শাস্ত্রীর জায়গায় রাহুল দ্রাবিড়কে কোচ করার ঘোষণাও হয়ে গেছে আগেই। তাই নতুন অধিনায়ক আর কোচ নিয়ে ভারতের আবার নতুন করে শুরুর আগে এই প্রশ্নও আসছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই আইপিএল খেলে তাহলে প্রস্তুতিটা হলো কোথায়? যদিও আইপিএল শেষে বিশ্বকাপ আসতে আসতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবহাওয়ার বদলই ভারতের বিপর্যয়ের কারণ বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

আইপিএলে আগে ব্যাট করা দল ১২৫-৩০ রান করেও অনেক সময় ম্যাচ বের করে নিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই মধ্যপ্রাচ্যে শীতেরও আগমনী হাওয়ায় ‘টস ফ্যাক্টর’ও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতে রাতের কুয়াশা পরে বোলিং করা দলকে একটু হলেও সমস্যায় ফেলছে। বিশেষ করে দুবাই স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং নেওয়া দলেরই জয়ের হার যেখানে একচ্ছত্র, সেখানে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে আগে ব্যাটিং পাওয়া ভারতীয় দলের নেতিবাচক ভাবনাও যেন ফুটে উঠেছিল তাদের শরীরী ভাষায়। পাকিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে আসর শুরুর পর কিউইদের বিপক্ষেও অজানা আশঙ্কায় ছটফট করা দলের সেমিফাইনাল নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে গিয়েছিল সেদিনের হারেই। এরপর ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ চার ভাগ্য ঝুলে ছিল অন্যের হাতেই।

তাই আসরের আকর্ষণ অনেকখানি কেড়ে নিয়ে বিরাট কোহলিদের বিদায়ের হতাশার মাঝে এই বিশ্বকাপে ভারতীয় উপমহাদেশের পতাকা এখন পাকিস্তানের হাতে। শোয়েব মালিকের মতো ৪০ ছুঁইছুঁই অভিজ্ঞের সঙ্গে তারুণ্যের শক্তি হয়ে যারা এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্যই।

অথচ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ক্রীড়া বিশ্বেরই অন্যতম নামি ব্র্যান্ড। বিশ্বের সব তারকাই উদগ্র আগ্রহী নিয়ে তাকিয়ে থাকেন এই আসরের নিলামে, যদি নামটা ওঠে! বহুকাল হলো সেই নিলামে পাকিস্তানের কারো নাম উচ্চারিত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কাকতালীয়ভাবে সেই পাকিস্তান এখন দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টির রাজদণ্ড দখলের অপেক্ষায়। আর আইপিএল এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটের অঘোষিত শাসক ভারত সেমিফাইনালের আগেই ফিরে গেছে দেশে।

কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার নিজ দেশের প্রস্থানের পর দারুণ একটি উপমা টেনেছেন, ‘আইপিএল হলো ইপিএলের (ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ) মতো। ইপিএল দেখলে মনে হবে ইংল্যান্ড বুঝি ফুটবল বিশ্বকাপের জোর দাবিদার। ’ কিন্তু বাস্তব চিত্রটা তো সবারই জানা। গত ১০ বছরে ভারতও বৈশ্বিক কোনো আসর জেতেনি। টি-টোয়েন্টিতে একবারই শিরোপা জিতেছিল ভারত, ২০০৭ সালে। ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ জেতা পাকিস্তানের সামনে আরেকটি শিরোপার হাতছানি।

 

 



সাতদিনের সেরা