kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগে সহিংসতার শঙ্কা

মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসির বৈঠক

বিশেষ প্রতিনিধি   

৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগে সহিংসতার শঙ্কা

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে বেশিসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব করেছেন মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগে আরো সহিংসতার শঙ্কার কথা জানিয়ে ভোটের আগে বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন তাঁরা। এসব কর্মকর্তা তাঁদের নিজস্ব ফোর্স ঘাটতির কথা বলে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পুলিশ ফোর্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে এক ধাপে এত বেশিসংখ্যক ইউপির ভোট না করারও  পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পর্যালোচনা সভায় অংশ নিয়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব প্রস্তাব ও পরামর্শ দেন। সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর উপস্থিতিতে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে  সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথের সঞ্চালনায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা এ সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওই সব প্রস্তাবে খুব একটা আশার বাণী শোনাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘করোনায় নির্বাচনের জট লাগার কারণে প্রতিটি ধাপে একসঙ্গে অনেক ইউনিয়নে ভোট করতে হচ্ছে। প্রতি ধাপে ৩০০ থেকে ৩৫০টি করে ইউপি নির্বাচন করতে পারলে এই সমস্যা হতো না। সময়সংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে যে জনবল হয়েছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। তার পরও আমি আমাদের সচিবকে বলব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে ফোর্স বাড়ানোর কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটা দেখতে। ’

সিইসি আরো বলেন, ‘সবার বক্তব্য শুনে আমরা আশ্বস্ত। আশা করি, সুন্দর নির্বাচন হবে। এখানে খুলনা ও ঢাকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে খুলনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ঢাকার বিষয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হব। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হবে। ’

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম ধাপের নির্বাচন ভালো হয়েছে। তবে এরপর সহিংসতা বেড়েছে। এ জন্য আমরা বিব্রত ও উদ্বিগ্ন। কেন পরিস্থিতির অবনতি, কেনই বা প্রাণহানি, তা জানি না। এই বিষয়টি মোটেও কাম্য নয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের বলব, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ’

নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘প্রথম ধাপের নির্বাচন ভালো হয়েছে। কিন্তু এর পরে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে তার কারণে কমিশন উদ্বিগ্ন। আশা করি, পরবর্তী ধাপগুলোর নির্বাচনও সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে। ’

সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তারা সম্প্রতি কাপ্তাইয়ের সহিংস ঘটনা এবং অতীতের বাঘাইছড়ির ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বলে জানান।



সাতদিনের সেরা