kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বড় চ্যালেঞ্জ জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধ করা

কুন্তল রায়

২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড় চ্যালেঞ্জ জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধ করা

বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো যে গ্লাসগো জলবায়ু সম্মেলনে উন্নয়নশীল ও জলবায়ু দুর্যোগপ্রবণ রাষ্ট্রগুলোর তোপের মুখে পড়তে যাচ্ছে, তা সম্মেলনের প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়ন হতে যাচ্ছে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। ৪০টি ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের জোট অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটস (এওসিস) তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে।

কপের জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক দর-কষাকষির প্রথম দিনে এওসিসের প্রধান আলোচক লিয়া নিকলসন বলেছেন, তাঁরা চান ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের সব শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ যেন জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল ছয় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটা বিশ্বের মোট জিডিপির ৬.৮ শতাংশ।

প্রশ্ন হলো, কেন সারা বিশ্বে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে হয়? আর জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গেই বা এর সম্পর্ক কী? আইএমএফ বলছে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। তবে শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রতিরোধ নয়, নিজের পকেট বাঁচাতেও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি আসলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল; কিন্তু দামের কারণে যাতে এর ব্যবহার কমে না যায়, সে জন্য সরকারগুলো দাম কমিয়ে রাখতে বিশাল ভর্তুকি দেয়। জীবাশ্ম জ্বালানির সরবরাহ খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব—এ দুটি খরচ যুক্ত করা হলে দাম বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। এটি যে সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির তুলনায় আসলে সস্তা নয়, বরং অনেক বেশি ব্যয়বহুল তখনই তা বোঝা যাবে। তাহলেই বিকল্প ও সস্তা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের দিকে নজর পড়বে।

ভালো খবর হলো, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ ৩ ভাগের ১ ভাগ কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে, যদি ২০২৫ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধ করে এর সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব ও সরবরাহ খরচ যুক্ত করা হয়। এতে শুধু প্রতিবছর বায়ুদূষণের ফলে ঘটা ১০ লাখেরও বেশি মৃত্যু ঠেকানো যাবে, সেই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বেড়ে গিয়ে বৈশ্বিক জিডিপি বাড়বে প্রায় ৪ শতাংশ। এই অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে সামাজিক উন্নয়ন ও সবুজ জ্বালানির বিকাশের জন্য। আইএমএফ বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির দাম বাড়ানো অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার চেয়ে বড় নয়।

শুধু জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি বন্ধ নয়, এওসিস একাট্টা হয়েছে উন্নত দেশগুলোর জলবায়ু জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্যও। জাতিসংঘের প্রতি তারা আহ্বান করেছে, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোন দেশের কী করা উচিত, তার একটি মূল্যায়ন তৈরি করা হোক।

সেই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়নের ১০০ বিলিয়ন ডলার জোগান দিতে উন্নত অর্থনীতিগুলোর ব্যর্থতা মনে করিয়ে দিয়ে এওসিস ২০২৫-পরবর্তী অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য চাপ দিচ্ছে। যেমনটা আশা করা হচ্ছিল, সেভাবেই জলবায়ু অর্থায়ন কপের অন্যতম প্রধান আলোচনায় পরিণত হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষক মারিয়া পাশতুখোভা কালের কণ্ঠকে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির রোডম্যাপ অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী নিঃসরণের ‘নেট জিরো’ অর্জন করতে গেলে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সেখানে এক বছরে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকিতে খরচ হয়েছে ছয় ট্রিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন করা যেত।

লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক



সাতদিনের সেরা