kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

‘শেষের শুরু’তে হিসাবের খাতা খোলার আশা

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে

২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘শেষের শুরু’তে হিসাবের খাতা খোলার আশা

সামনে তাকিয়ে মাহমুদ উল্লাহ, পেছনে দুঃস্মৃতি। আজ নতুন কিছু হবে? হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ? ছবি : মীর ফরিদ, দুবাই থেকে

ভরদুপুরের ছবিতে হিসাবের শূন্য খাতা আর ভরা পাতা একদম পাশাপাশিই রাখা। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশ ঘেঁষে যাওয়া রাস্তার বাঁ দিকে ঘুরে আরেকটু এগিয়ে গেলেই যে আইসিসির গ্লোবাল ক্রিকেট একাডেমি মাঠ, সেখানে গতকাল একই সঙ্গে অনুশীলনে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান দল। অনেক কষ্টেসৃষ্টে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে আসা মাহমুদ উল্লাহরা তিন ম্যাচই হেরে অঙ্ক থেকে ছিটকে পড়লেও বাবর আজমরা টানা জিতে সেমিফাইনালে এক পা দিয়েই রেখেছেন।

এখান থেকে যখন তাঁরা দূর সাফল্যের চূড়াও দেখতে পাচ্ছেন, তখন বাংলাদেশকে ভাবতে হচ্ছে ‘শেষের শুরু’ নিয়েই।

বিজ্ঞাপন

দেশে ফেরার জন্য আর মাত্র দিন চারেকের অপেক্ষা। এর আগে বাকি থাকা দুই ম্যাচের প্রথমটিতে আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হচ্ছে  এখন পর্যন্ত ‘কাগুজে বাঘ’ই হয়ে থাকা দল। যদিও রাসেল ডমিঙ্গো তা মানছেনই না, ‘দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে ক্লোজ দুটি ম্যাচ হারা দিয়ে এই দলকে বিচার করা হলে সেটি অবিচারই হবে। ’

বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করার আগে মাহমুদ উল্লাহদের হেড কোচ এটিও চান যেন তাঁর ছেলেরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি সুবিচার করে যেতে পারেন। ভার্চুয়ালি হওয়া ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাই বলছিলেন, ‘দুটি ম্যাচই (শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) আমরা জিততে পারতাম এবং আমিও তাহলে এখানে এসে অন্য মেজাজেই বসতাম। ওই দুই ম্যাচে আমাদের ভালো দিকগুলোই নিচ্ছি আমরা। সেই সঙ্গে এই উপলব্ধিও আছে যে কিছু জায়গায় উন্নতিও করতে হবে। এখান থেকেই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। ’

এগিয়ে যাওয়ার পথে একটি কাঁটাও এরই মধ্যে বিছানো আছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া সাকিব আল হাসানকে পাওয়া যাচ্ছে না। এটিকে ‘দলের ভারসাম্যে বড় ক্ষতি’ ধরে নিয়েই প্রোটিয়াদের জন্য রণপরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে ডমিঙ্গোকে। তবে সাকিবের না থাকাও আবার কারো জন্য খুলে দিচ্ছে সৌভাগ্যের দরজা, ‘সে না খেললে একজন বোলার বা ব্যাটার কম নিয়ে খেলতে হয়। কিংবা অনিয়মিত বোলার খেলাতে হয়। তবে এটিই হয়তো নতুন কাউকে বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে নামার সুযোগ করে দিচ্ছে। তরুণ একজন ক্রিকেটারের জন্য সেটি হবে ইতিবাচক দিক। ’

বড় মঞ্চে তাই আজ অভিষেক হয়ে যাচ্ছে শামীম হোসেনের। জায়গা ধরে রাখছেন সৌম্য সরকারও। একাদশে এই দুজনের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি আরেকজনের না থাকাও নিশ্চিত করে দিলেন ডমিঙ্গো। তিনি নুরুল হাসান। তলপেটের ব্যথা এখনো না সারায় কাল অনুশীলনের সময়ও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গেছে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে। ব্যথা নিয়েই ইংল্যান্ড ম্যাচ খেলার পর তা বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ খেলতে নুরুলের উন্মুখ হয়ে থাকার খবর দিলেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার, ‘ও একটা পাগলা। আজও এসে বলেছে যে সে খেলতে চায়। ’

প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের অন্যদের মধ্যেও এমন মরিয়া মনোভাবই দেখতে পেয়েছেন বলে মনে হলো হেড কোচের কথায়, ‘ওদের খুব কঠিন কয়েকটি দিন গেছে। ওরা জানে দেশে ওদের নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল। এটিও জানে যে জয়ের পথে শেষ বাধা পেরোতে না পেরে ওরা অনেককে হতাশও করেছে। তবু আগামীকাল (আজ) ওরা দেশের জন্যই খেলবে। এবং খেলবে যার যার শতভাগ দিয়েই। ’

সাকিব না থাকায় বোলিং রণসাজ অবশ্য পূর্ণতা পাচ্ছে না। আজ এই অলরাউন্ডারের টিম হোটেল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে উড়ে যাওয়ার দিনে তাই স্পিন পরিকল্পনার অনেকটা জুড়েই থাকবেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। কারণ আবুধাবির উইকেটে নিজ দেশের বিপক্ষে জয়ের আশায় ডমিঙ্গোর বাজি সেই স্পিনই। একসময় প্রোটিয়াদের হেড কোচ হওয়ার সুবাদে তাঁদের পুরনো দুর্বলতাই কাজে লাগাতে চান তিনি, ‘ওরা এই মুহূর্তে ভালো খেলছে। তবে দীর্ঘদিন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কাজ করার সূত্রে জানি, ওদের স্পিন খেলার ধরন নিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে সব সময়ই। আশা করি, কন্ডিশনও আমাদের সুবিধা করে দেবে। ’ তবে প্রোটিয়াদের চোখও বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতার দিকেই। ফাস্ট বোলার ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের মুখে শোনা গেল সেটিই, ‘এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের দলগুলো পাওয়ার প্লে নিয়েই বেশি ভাবছে। কারণ এর মধ্যে কিছু উইকেট হারালেই দলগুলো বেশ বিপদে পড়ে যাচ্ছে। ’

তিন ম্যাচের দুটি জিতে এই ম্যাচ খেলতে নামার আগে প্রোটিয়াদেরও অজানা নয় যে এই আসরে পাওয়ার প্লের সুবিধা নিতে না পেরে উল্টো ভুগছে বাংলাদেশ। সেই ভোগান্তি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে এখন হিসাবের শূন্য খাতায় কিছু টুকে নেওয়াকেই যেন মাহমুদদের অনুপ্রেরণার উৎস করে তুলতে চাইছেন ডমিঙ্গো, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মূল পর্বে জিতেছে একটি ম্যাচই। দুই ম্যাচ জিতে সেই রেকর্ডটিকে উন্নত করার সুযোগ এখনো আছে আমাদের। তা করা গেলেও বিরাট পদক্ষেপই ফেলা হবে। হিসাবের খাতা আমাদের খুলতেই হবে। ’

এই আশাতেই আজ ঘরে ফেরার আগে ‘শেষের শুরু’ বাংলাদেশের!



সাতদিনের সেরা