kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এবারও কি জয় অধরাই থাকবে?

৩১ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবারও কি জয় অধরাই থাকবে?

‘উডস অব গড!’

সুগন্ধি ব্যবসায়ীদের কাছে আগরগাছের মহিমা এমন যে তাঁরা এটিকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলেই মনে করে থাকেন। বিশ্বজুড়ে এই গাছের ছাল থেকে বানানো সুগন্ধির শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একজন আবার বাংলাদেশিও। এই দূর মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৬৫টি দেশে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড আল হারামাইন পারফিউম রপ্তানি করে আসছেন মাহতাবুর রহমান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান স্টেটে দুই লাখ স্কয়ার ফুটের কারখানায় যখন বিশ্বব্যাপী চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অবিরত সুদৃশ্য মোড়কে বন্দি হচ্ছে হারামাইন পারফিউম, তখন বাংলাদেশেরই আরেক ব্র্যান্ড রীতিমতো ‘ভ্যালু’ হারিয়ে বসে আছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে টানা তিন হারে সেমিফাইনালের আগেই বিদায়ের দুয়ার প্রায় দেখে ফেলা বাংলাদেশের খেলা দেখা নিয়ে এখানকার বাংলাদেশিদের আগ্রহেও তাই এখন ভাটার টান। আল হারামাইনের স্বত্বাধিকারী মাহতাবই যেমন বলছিলেন, ‘অন্তত একটি ম্যাচ মাঠে গিয়ে দেখব বলে ঠিক করেছিলাম, কিন্তু এখন আর যাব না। যেভাবে হার আমাদের পিছু নিয়েছে...।’

হার পিছু নিয়েছে নাকি টেনে আনা হয়েছে, তা নিয়েও তর্কের অবকাশ খুব বেশি নেই। মাঝখানের ইংল্যান্ড ম্যাচটি বাদ দিলে আগে-পরে একই ছবি। ম্যাচে নিজেরা লম্বা সময় চালকের আসনে থেকেও শেষ পর্যন্ত ‘স্টিয়ারিং’ প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে হারার সেই ছবিও কম মর্মান্তিক নয়। শ্রীলঙ্কা ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দু-দুটি ক্যাচ ছাড়ার মাসুল গুনতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচেও তিন-তিনটি ক্যাচ ফেলা বাংলাদেশের তবু জেতার পথ উন্মুক্ত ছিল। সম্ভব ছিল রান তাড়ায় সব ভুলিয়ে দেওয়া জয়ে সেমিফাইনাল সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখাও। কিন্তু ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ২৪ বলে ৩৩ রানের সমীকরণও দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে শেষে। জয়ের সুগন্ধি ছড়ানো ‘আগর’ হয়ে উঠতে পারেনি কারো ব্যাটই। না সাকিব আল হাসানের, না লিটন কুমার দাসের, না সবার শেষে অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর!

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে জয়সূচক শটে যেখানে ‘জাতীয় বীর’-এর মর্যাদায় অন্তত কয়েকটি দিন পার করার নিশ্চয়তা ছিল, সেখানে শেষ বলে জেতার জন্য ৪ রানের সমীকরণ মেলাতে না পেরে দায়ও নিজের কাঁধেই নিয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ। জয়ের চৌকাঠ থেকে এভাবে ফিরে আসায় শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনাও অধিনায়কের ভাষায় এখন অত্যন্ত ‘ক্ষীণ’। জটিল মারপ্যাঁচের গাণিতিক সেই সম্ভাবনায় আস্থা রাখা আর ঢাকার আগারগাঁওয়ে রাতারাতি বুর্জ খলিফা তৈরি করে ফেলার দিবাস্বপ্ন দেখা একই। এর সঙ্গে তাকে জিততে হবে বা তার কাছে একে হারতে হবে, এমন অঙ্ক এত যে এর একটি একটু এদিক-সেদিক হলেই সেই গাণিতিক সম্ভাবনাও আর থাকবে না। কাজেই শেষ দুই ম্যাচ খেলে দেশে ফেরার বিমান ধরাই এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নিয়তি হয়ে আছে মাহমুদদের।

তাই বলে আবার এমনও নয় যে সেমিফাইনাল সম্ভাবনা থেকে ছিটকে পড়া দলের পাওয়ার আর কিছু নেই। সে জন্যই কিনা আগের দিন ক্যারিবীয়দের কাছে হারের পরও মাহমুদকে বলতে শোনা গেছে যে, ‘এখনো অনেক কিছুই পাওয়ার আছে আমাদের।’ পূরণ করার আছে এখনো অর্জিত না হওয়া বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্যটিও। বিশ্বকাপ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে দলের পক্ষ থেকে সেমিফাইনাল খেলার আশার কথা বলা হয়েছে ঠিকই, একই সঙ্গে সর্বশেষ পাঁচ আসরের মূল পর্বে কোনো ম্যাচ না জেতার অজেয় আকাঙ্ক্ষার কথাই শোনা গেছে বেশি। সেই ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টির প্রথম বিশ্ব আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে হৈচৈ ফেলে দেওয়া দলের ১৪ বছরের হাহাকারও ঘুচতে পারত ক্যারিবীয়দের দিয়েই। তা না হলেও হওয়ার সুযোগ আছে এখনো। বর্তমান বাস্তবতায় হারে হারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া দলের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো মুশকিল যদিও, তবু প্রথম দুই ম্যাচ হারা ওয়েস্ট ইন্ডিজও তো সেমিফাইনাল সম্ভাবনায় ফেরার আগে জিতেছে নিজেদের বিধ্বস্ত মনের সঙ্গে লড়াইয়েও। ২ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা ও ৪ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই মাহমুদদেরও থাকছে নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। আবার মাঠেও আছে আরো কিছু লড়াই। যেমন সুযোগ এলে ক্যাচ না ছাড়ার এবং ব্যাট হাতে জেতার পথও মাড়িয়ে না আসার।

এসব ব্যর্থতায় যেভাবে ফুটনোট হিসেবে দুর্ভাগ্য শব্দটিও জুড়ে দিচ্ছেন মাহমুদ, তাতে মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপ থেকে এখনো কিছু পেতে আরো দুটো জিনিস দরকার বাংলাদেশের।

‘হ্যান্ডস অব গড’ এবং সেই সঙ্গে ‘উডস অব গড’ও।



সাতদিনের সেরা