kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শীতে করোনা বাড়ার শঙ্কা, সতর্ক থাকতে হবে

যৌক্তিক না হলে বনের মামলা প্রত্যাহার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




শীতে করোনা বাড়ার শঙ্কা, সতর্ক থাকতে হবে

গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

শীতের আগমনে দেশে আবারও করোনাভাইরাস যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শীতকাল আসছে, পৃথিবীর সব দেশেই কিন্তু আবার করোনাভাইরাস দেখা দিচ্ছে। ইউএসএ, ইংল্যান্ড বা ইউরোপের দেশগুলোতে এর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই বাংলাদেশের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে শীত মৌসুমের আগে তাঁর ত্রাণ গুদামের জন্য বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) দুস্থদের জন্য ২৬ লাখ ৪৫ হাজার কম্বল গ্রহণকালে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “শীতকাল এলেই একটু ঠাণ্ডা লাগে; সর্দি, কাশি হয়। আর এটা হলেই এই করোনাভাইরাসটা আমাদের সাইনাসে গিয়ে বাসা বানাতে পারে। কাজেই সেদিকে সবাইকে একটু সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এবং খাদ্যতালিকায় ‘ভিটামিন সি’ যাতে একটু বেশি থাকে এবং যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে নজর দিতে হবে। ” তিনি এ সময় মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজি এবং তরিতরকারি বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ৩৭টি বেসরকারি ব্যাংকের কাছ থেকে এই কম্বল গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের জন্য ১০ লাখ টাকার চেকও গ্রহণ করেন তিনি। বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকা দেওয়ার পরে কারো করোনা হলে তার হয়তো ক্ষতির পরিমাণটা বেশি হবে না, তবে তার থেকে ছড়াতে পারে, তাই মাস্কটা ব্যবহার করতেই হবে। তিনি এ ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সবাইকে সতর্ক করার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণাটা দরকার। একটু সতর্ক হলে এই করোনাভাইরাস আর বাংলাদেশের মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ দেশের সব মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এলেও তাঁর সরকার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশে কোনো কিছু যাতে স্থবির না হয় এবং সচল থাকে। ‘সেদিক থেকে আমি মনে করি বাংলাদেশ যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে’, বলেন তিনি।

মানুষের দুঃসময়ে সব সময় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ব্যাংক এগিয়ে আসে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের এবারের শীতার্ত জনগণের সহায়তায় এগিয়ে আসায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই বড় কথা। ’

যৌক্তিক না হলে বনের মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বনের জমি, গাছ কাটাসহ বনসংক্রান্ত যে মামলাগুলোর যৌক্তিকতা নেই সেগুলো প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।  

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সভার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার কথা জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আটিয়া বন (সংরক্ষণ) আইন ২০২১’ নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।  

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেমন : মধুপুর গড়, শেরপুরের গারো পাহাড়, হিল ট্র্যাক্ট, সুন্দরবন—এসব এলাকায় অনেক মামলা-মোকদ্দমা আছে। একজনের বিরুদ্ধে ৫০টি মামলাও আছে। মন্ত্রীদের অনেকে বলেছেন, দরকার হলে পাঁচ বছরের জেল দিয়ে দেন। তা-ও মামলা থেকে মুক্ত করে দেন। একজনের ১০টি, ৪০ থেকে ৫০টি মামলায় হাজিরা দিতে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। পরে প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন, এ মামলাগুলো রিভিউ করে যেগুলোর যৌক্তিকতা নেই সেগুলো যথাসম্ভব উইদড্রো করতে হবে। মানুষকে কমফোর্ট দিতে হবে। ব্যাপক প্রচার করতে হবে যে মানুষ যেন এগুলোতে না যায়। যে মামলাগুলো এক্সট্রিম পর্যায়ে সেগুলো আইন মন্ত্রণালয় দেখে ব্যবস্থা নেবে।    

তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইলের আটিয়াতে ৪৫-৪৬ হাজার একর জমি রয়েছে। ব্রিটিশরা আইন করে সংরক্ষিত করে গিয়েছিল। যেটা বন আইন। কেউ ঢুকতে পারবে না, কেউ দখল করতে পারবে না। এটা রিজার্ভ ফরেস্ট হিসেবে থাকবে। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৯ সালে পাকিস্তান সরকার ১০০ বছরের জন্য এটা কার্যকর করে। আইনে কেউ ঢুকলে জেল হবে। কেউ গাছ কাটলে অজামিনযোগ্য অপরাধ হবে।

তিনি বলেন, এরপর ১৯৮২ সালে একটি অর্ডন্যান্স জারি করা হয় ‘আটিয়া ফরেস্ট প্রটেকশন অর্ডন্যান্স’। সেখানেও বনের কেউ ক্ষতি করলে বা ধ্বংসাত্মক কাজ করলে জামিন অযোগ্য অপরাধের মধ্যে পড়ে যাবে। সেটা যেহেতু অর্ডন্যান্স ছিল, এটা আজকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। পাঁচটি ধারা, এগুলো রিটেক করে যাওয়া হয়েছে অর্ডন্যান্সে, যা আছে সেই অনুযায়ী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি ডিজিটাল সার্ভে করতে বলেছেন শিগগিরই।

এটি আটিয়া থেকেই শুরু হোক। ৪৫ হাজার একরের মধ্যে কতটুক এখনো ইনটেক ফরেস্ট আছে এবং কতটুকু জায়গার মধ্যে বিভিন্ন মানুষ বসবাস করে। ওই সব এলাকায় অনেক লোক বসবাস করে। এই যে লোকজন বসবাস করে, তাদের স্ট্যাটাসটা কী এবং তাদের তো এখন তোলাও যাবে না ইমিডিয়েটলি। কোথায় যাবে তারা? সুতরাং তাদেরও কিভাবে একটি সলিউশন করা যায়। যদি তারা ফরেস্ট এরিয়ায় না থাকে, তাহলে তাদের কী ওইখানে সেটলমেন্ট দেওয়া যায় কি না অথবা অন্য জায়গায় খাসজমি থাকলে শিফট করানো যায় কি না, তাদের আবাসনের একটি নিশ্চয়তা কিভাবে ব্যবস্থা করা যায়, এটার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , দেশে মোট বনভূমি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। এর মধ্যে দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ একর বনভূমি অবৈধ দখলে রয়েছে। সূত্র : নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাসস।

 



সাতদিনের সেরা