kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঘাটে এসে ফেরিডুবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও আঞ্চলিক (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘাটে এসে ফেরিডুবি

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে গতকাল সকালে ১৭টি ট্রাক নিয়ে কাত হয়ে ডুবে যায় রো রো ফেরি শাহ আমানত। সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায় উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ছবি : শেখ হাসান

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকসহ রো রো ফেরি আমানত শাহ কাত হয়ে ডুবে গেছে। ফেরিতে থাকা ১৭টি ট্রাকের মধ্যে দুটি কাভার্ড ভ্যান পন্টুনে নামতে সক্ষম হলেও বাকি ট্রাকগুলো ফেরির সঙ্গে পানিতে ডুবে যায়। ফেরিতে ৮-৯টি মোটরসাইকেল ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে পাটুরিয়ার পাঁচ নম্বর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, নৌবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখার সময় রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত

কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তখন পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা পানিতে নিমজ্জিত ফেরি থেকে তিনটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পেরেছেন। মুন্সীগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় রাতে আসার কথা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে সকাল ৯টার দিকে শাহ আমানত নামের ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। মাঝনদীতে ফেরিটি ডান দিকে কাত হতে থাকে। ফেরির চালক দ্রুত ফেরি চালিয়ে পাটুরিয়া ঘাটের দিকে আসেন। পাঁচ নম্বর ঘাটে ফেরি ভেড়ালে দুটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুত ফেরি থেকে নামতে পারে। বাকি যান নিয়ে ফেরিটি ডুবে যায়।

সুজন নামের এক যাত্রী জানান, তিনি যশোর থেকে মোটরসাইকেলে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে ওঠেন। পাটুরিয়া ঘাটে আসার পর কিছু বুঝে ওঠার আগে ফেরিটি পানিতে ডুবে যায়। তিনি কোনো মতো পন্টুনে উঠে আসেন।

ফেরিতে থাকা ওমর আলী নামের এক ট্রাকচালক বলেন, ফেরিতে ওঠার পর থেকেই ফেরিটি একদিকে হেলে ছিল। বিষয়টি ফেরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানালে তাঁরা বলেন, ঘাটের কাছে পানি কম থাকার কারণে এমনটি হচ্ছে। পরে মাঝনদীতে এসে ফেরিটি আরো ডান দিকে হেলতে থাকে।

বিআইডাব্লিউটিএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নূরুল আলম বলেন, ডুবে যাওয়া ফেরির ওজন এক হাজার টনের ওপর। আর উদ্ধারকাজে যাওয়া জাহাজ হামজা ৬০ টন নিতে সক্ষম। এ জন্য ফেরিটি উদ্ধার করতে দেরি হচ্ছে। প্রত্যয় নামের যে উদ্ধার জাহাজটি আসছে সেটা ২৫০ টন নিতে সক্ষম। এটি এসে পৌঁছলে ফেরিটি দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

বিআইডাব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের এজিএম (মেরিন) আব্দুস সাত্তারের কাছে ডুবে যাওয়া ফেরির ইঞ্জিন মাস্টার ও চালকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিআইডাব্লিউটিসির নৌযানের তালিকা অনুযায়ী, আমানত শাহ ১৯৮০ সালে তৈরি। এই ফেরি ৩৩৫ যাত্রী ও ২৫টি যান বহন করতে পারে। সর্বোচ্চ ১০.২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে পারে।

তদন্ত কমিটি গঠন : দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নৌপরিবহন সচিবের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সুলতান আব্দুল হামিদকে কমিটির আহ্বায়ক এবং বিআইডাব্লিউটিসির পরিচালক (কারিগরি) মো. রাশেদুল ইসলামকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এদিকে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তিনি জানান, ফেরি ডোবার ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পথে জোড়াতালি দিয়েই চলছে বেশির ভাগ ফেরি : এই নৌপথে বেশির ভাগ ফেরি তিন যুগের বেশি পুরনো। অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই ফেরিগুলো চালানো হয়। কয়েক দিন চললেই ফেরিগুলো আবার বিকল হয়ে পড়ে। সাময়িক মেরামতের নামে ভাসমান কারখানায় নিয়মিত চলে জোড়াতালির কাজ। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পথে ১২টি রো রো, ছয়টি ইউটিলিটি এবং দুটি কে-টাইপ মিলে মোট ২০টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যান পারাপার করা হয়।

এ বিষয়ে পাটুরিয়া ঘাটের বিআইডাব্লিউটিসির প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, এই নৌ রুটে চলাচলকারী রো রো ফেরিগুলো অনেক দিনের পুরনো হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে বিকল হয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ফেরিতে সমস্যা দেখা দেয়। এ জন্য প্রকৌশল বিভাগকে সারা বছরই ব্যস্ত থাকতে হয়।

 



সাতদিনের সেরা