kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গণভবনে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ যেকোনো জাতীয় প্রয়োজনে এই বাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি মুজিব রেজিমেন্ট ও রওশন আরা রেজিমেন্টের কাছে নতুন পতাকা হস্তান্তর এবং সেনাবাহিনীর ১০টি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলাসহ আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। সরকারপ্রধান বলেন, ‘অপারেশন কভিড শিল্ড’-এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা করোনা প্রতিরোধকল্পে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে সম্মান ও মর্যাদা, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রামের হালিশহরস্থ আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ৪, ১২ ও ২০ ফিল্ড, ৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৫ ও ৭ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ১ ও ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ এবং এনসিও একাডেমিকে জাতীয় পতাকা প্রদান এবং মুজিব রেজিমেন্ট ও রওশন আরা রেজিমেন্টকে আর্টিলারির নতুন পতাকা প্রদান করেন। অনুষ্ঠান থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়।

আবহমানকাল থেকেই যুদ্ধের ময়দানে জাতীয় মর্যাদার প্রতীক ‘পতাকা’ বহন করার রীতি প্রচলিত আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলেন, ‘তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি’। তিনি বলেন, পতাকা হলো জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান এবং মর্যাদার প্রতীক। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব এবং জাতীয় পতাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যেকোনো ইউনিটের জন্য একটি বিরল সম্মান ও গৌরবের।

তিনি বলেন, আজ ‘জাতীয় পতাকা’ আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। এই বিরল সম্মান ও গৌরব অর্জন করায় আমি আপনাদের আন্তরিক অভিবাদন জানাই।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সরকার আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা তুলে ধরেন। সরকারপ্রধান বলেন, অত্যন্ত পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে তাঁর সরকার ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করে চলছি। তাঁর সরকারের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের বিয়য়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।’

এনসিও একাডেমির উন্নয়নে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই একাডেমি চৌকস এনসিওদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জুনিয়র লিডারে রূপান্তরিত করেছে। আমি আশাবাদী যে এই একাডেমি তার গুণগত উৎকর্ষতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করবে। তিনি এ সময় কভিড-১৯-এর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন। সূত্র : বাসস।



সাতদিনের সেরা