kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জয় ‘ধরতে’ পারল না বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ, শারজা থেকে

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয় ‘ধরতে’ পারল না বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭১ রান করেও ৫ উইকেটের হারে বিমর্ষ বাংলাদেশ। ছবি : মীর ফরিদ শারজা থেকে

একটি ছাড়া আর সব কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল তাঁর। বারবার স্কুপ করতে গিয়েও ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না মুশফিকুর রহিমের। না হলেও চেষ্টা অব্যাহত ছিল। ক্রমাগত চেষ্টার ফলও পেলেন নিজেদের ইনিংসের একেবারে শেষ বলে। দুশমন্ত চামিরাকে স্কুপ করে মারা বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের ইনিংসও এমন জায়গায় গেল যে শারজার ক্রিকেট মরূদ্যানে আগাম জয়ের সৌরভ ছড়াতে শুরু করে দিয়েছিল।

কিন্তু বাছাই পর্বে সব প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে এবং গুঁড়িয়ে দিয়ে আসা শ্রীলঙ্কাকে তাতে বিচলিত করা গেল না। এই মাঠে যেখানে ১৪০ রানও বেশির ভাগ সময়ই নিরাপদ বলে প্রমাণিত, সেখানে পাল্টা আক্রমণে লঙ্কানরা ১৭১ তাড়া করতে ছুটল। দলে খুনে মেজাজের চারিথ আশালঙ্কারা থাকতে ছুটবে না কেন? রান তাড়া তাই পেল দুরন্ত গতিও। তাঁদের অবাধ রানস্রোতে তীব্রবেগে বৈঠা বাওয়া মাঝি সেই আশালঙ্কাই। শুরুর নড়বড়ে ভাব কাটিয়ে একই ধরনের ব্যাটিংয়ে তাঁর সঙ্গী ভানুকা রাজাপক্ষেও।

৩২ বলে ফিফটি করা আশালঙ্কা থাকলেন একেবারে শেষ পর্যন্ত। নাসুম আহমেদের বলে জয়সূচক বাউন্ডারিও তাঁর ব্যাটেই। পাঁচটি করে চার ও ছক্কায় তাঁর ম্যাচ জেতানো বিধ্বংসী ইনিংসটি ৪৯ বলে অপরাজিত ৮০ রানের। শুরুতে অস্বস্তিতে ভোগা রাজাপক্ষেও ছন্দ ধরে ফেলার পর ফিফটি করলেন আরো দ্রুততায়, মাত্র ২৮ বলে। দলের জয় থেকে সামান্য দূরে থাকতে আউট হওয়ার আগে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৩১ বলে তুলে গেলেন ৫৩ রানের আরেকটি ঝড়ও।

তাই জয়ের সৌরভের বদলে ফুলের কাঁটায়ই ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ। সুপার টুয়েলভ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় পুঁজি নিয়েও তাদের লোকসানের মুখ দেখতে হলো সাত বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটের হারে। অথচ সুযোগ তৈরি হয়েছিল জেতারও। লঙ্কানদের পাল্টা আক্রমণে যেদিন ভেসে যাচ্ছিলেন প্রায় সব বোলারই, সেদিনও ব্যতিক্রম ছিলেন এই ম্যাচে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে না পারা সাকিব আল হাসান। অন্যদের নিয়তি যখন মার খাওয়ার, তখন সাকিবের বোলিং উল্টো মার দেওয়ার।

নিজের প্রথম ওভারে মারদাঙ্গা ব্যাটিং উৎসবের মধ্যেও দিলেন মোটে ৫ রান। পরের ওভারে এসে তো ধরে দিলেন দলের হারানো ছন্দও। ততক্ষণে পাথুম নিশাঙ্কাকে নিয়ে ৬৯ রানের জুটিতে আশালঙ্কাও ম্যাচ প্রায় বের করে নিতে চলেছেন। ওই সময়েই নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে সাকিবের জোড়া আঘাত। চার বলের মধ্যে নিশাঙ্কা (২১ বলে ২৪) ও আভিস্কা ফার্নান্ডোকে (০) তুলে নিয়ে এই অলরাউন্ডার দেখালেন পথ।

পথ দেখানোর পর পথ হারানোর উপকরণও ছিল। বাংলাদেশ আর জয়ের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া আশালঙ্কা-রাজাপক্ষে জুটি ভাঙা জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেই কাজটি দুইবার হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও তৈরি হয়েছিল। যেমন জুটি ভাঙতে আফিফ হোসেনকে বোলিংয়ে নিয়ে এসেছিলেন অধিনায়ক। ওই ১ ওভারে মার খাওয়ার মধ্যেই ওঠে ক্যাচ। রাজাপক্ষে তখন মাত্র ১৪ রানে। সীমানায় তাঁর ক্যাচ ফেলেন লিটন কুমার দাস। সেখানেই শেষ হলে কথা ছিল। লিটন ক্যাচ ফেলায় মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ৬৩ রানে আরেকবার ‘জীবন’ পান আশালঙ্কা। ফিরে আসার এই শেষ সুযোগটিও হারানোয় বিফলে যায় ওপেনার নাঈম শেখ আর মুশফিকের দুর্দান্ত ইনিংস দুটিও।

জেতার জন্য এই ম্যাচে দুই দল সাজিয়েছিল ভিন্ন রণ পরিকল্পনাই। বাংলাদেশ যেখানে তাসকিন আহমেদকে বসিয়ে নাসুমকে একাদশে যোগ করে স্পিনসজ্জা বাড়িয়ে নেমেছিল, সেখানে লঙ্কানরা নামায় চার-চারজন পেসার। তাঁদের নিষ্ক্রিয় করা ব্যাটিংয়ে নাঈম দেখেন আসরে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি (৫২ বলে ৬২)। ৪৪ বলে ফিফটি করা এই বাঁহাতি দুশমন্ত চামিরার ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতির বলও ফ্লিক করে সীমানায় পাঠিয়েছেন। পেসারদের যেমন, তেমনি লেগস্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকেও সুবিধা করে উঠতে দেননি ৩২ বলে ফিফটি করা মুশফিক। ৩৭ বলে পাঁচটি চার ও দুই ছক্কায় অপরাজিত ৫৭ রানের ইনিংস খেলার পথে স্লগ সুইপে অবলীলায় চার-ছক্কাও মেরেছেন পেসার-স্পিনার-নির্বিশেষে।

এই শটটি তো ঠিকঠাক হচ্ছিলই, শেষে গিয়ে হয়েছিল স্কুপও। সুবাদে নিশ্চিন্ত থাকার মতো রান জমা করেও শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশের। রাজাপক্ষে ও আশালঙ্কার ক্যাচ ধরতে পারলেই না তা হতো বা হওয়ার সম্ভাবনা জাগত!

 



সাতদিনের সেরা