kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

অভিমত

শিশু-কিশোরদের বাড়তি যত্ন জরুরি

গোলাম কিবরিয়া

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু-কিশোরদের বাড়তি যত্ন জরুরি

দেশে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক দিকে ঝুঁকে পড়েছে। চলমান মহামারি পরিস্থিতির কারণে লেখাপড়ার জন্য তাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিতে হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক কিশোর-তরুণ হঠাৎ একটা ভিন্ন জগতের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। মিরপুরের ঘটনাবলির সঙ্গে এই পরিবর্তনের একটা যোগ থাকতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে শুধু সন্তানদের দায়ী করা ঠিক হবে না। মা-বাবার একটি বড় অংশও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভ্যস্থ হয়ে পড়ায় সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখতে পারছেন না। এটাও আরেক বাস্তবতা।

এ তো গেল মধ্যবিত্তদের কথা। এর বাইরে শিশু-কিশোরদের আরেকটি অংশ আছে। যারা বস্তিতে বা রাস্তায় অস্বস্তিকর অবস্থায় বেড়ে উঠছে। সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের জায়গায় অতটা উন্নত না হওয়ার কারণে এদের আরো বেশি নেতিবাচক কাজে জড়ানোর সুযোগ থাকছে। মূলত এরা পিছিয়ে পড়া শিশু-কিশোর-কিশোরী। সব মিলে অভিভাবকদের একটা বড়সংখ্যক অংশ তাঁদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন না বলা যায়। সার্বিকভাবে এমন কোনো শিক্ষাব্যবস্থা কি আমরা শিশুদের দিতে পারছি যে আমাদের শিশুরা ইতিবাচক আবহে বেড়ে উঠবে।

পশ্চিমা দেশের শিশুরা আইটিতে যেভাবে অভ্যস্ত, আমাদের শিশুরা ততটা নয়। তাদের বেসিক একটা ভিত আছে, তারা আইটিনির্ভর লেখাপড়া করে। পরীক্ষা বা অনেক কিছুই তারা ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমে সমাধান করে। তারা এর ইতিবাচক দিকগুলোই আগে থেকে নিচ্ছে।  আমাদের শিশুরাও অনেক কিছু শিখছে। কিন্তু এর নেতিবাচক সুযোগও আছে। শিশুদের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণও আসছে। করোনার কারণে আমাদের সমাজে এসব বেড়ে গেছে। তাই নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার করা এখন একটা বড় ইস্যু। শিশুরা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করবে, একটা সামাজিক পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠবে। এখন স্কুলের একটা বড় ভূমিকা, পরিবারের একটা বড় ভূমিকা। সেখানে আমাদের কাজ করতে হবে। এটা আমার একটা দীর্ঘদিনের গবেষণা।

আবার রাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখছে, তা-ও পরিষ্কার নয়। শিশুরা খারাপ বা ভুল করে কিছু করলে পুলিশ এসে তাদের হাতকড়া পরিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এটাই কি একমাত্র পথ? ওই এলাকার মুরব্বি, জনপ্রতিনিধিরা কি সঠিক ভূমিকা পালন করছেন। রাস্তায় দুটি শিশু মারামারি করলে কেউ কি তাদের ঠেকাচ্ছে! ঠেকাচ্ছি না।

কভিডের কারণে স্কুল প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। শিশুরা যে নৈতিক শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠবে, সে রকম সম্পর্ক গড়ে উঠছে না। আমি একটা শিশুর কথা বলি; তাকে কতটা শিক্ষক সহযোগিতা করছেন? কতটা অভিভাবক শিক্ষককে সহযোগিতা করছেন? আমাদের শিশুরা যে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠবে, এই অভাব বোধ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আগে থেকেই রয়ে গেছে। শিক্ষকের তো বড় একটা দায়িত্ব আছে। শিক্ষকরা অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন, বিশেষ করে রাজনীতি, দুর্নীতিতে। শিক্ষকরা কতটা শিশুর কাছে অনুকরণযোগ্য হচ্ছেন, ‘মডেল’ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছেন—সেটাও দেখার বিষয়। আবার অনেক ভালো শিক্ষকও আছেন। তাঁরা অবশ্যই মা-বাবার মতোই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন। শিক্ষককে শিশুরা মা-বাবার মতো মনে করবে—সেই জায়গাটার অভাব দিন দিন বাড়ছে।

আমার পরামর্শ থাকবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভুক্তভোগী পরিবার ও শিশুদের নিয়ে বসা উচিত। সবাইকে সচেতন করতে প্যারেন্টস মিটিংয়ে পুলিশের একজন ভালো কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে সমস্যাগুলোর গভীরতা নিয়ে আলাপ করা, সচেতন করা—এগুলো এখন দরকার। সমস্যা লুকিয়ে লাভ নেই।

গোলাম কিবরিয়া : আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (এডুকো বাংলাদেশের) শিক্ষা কোয়ালিটি অ্যাশিউর‌্যান্স বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা।

 



সাতদিনের সেরা