kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বড় জয়ে ১২-তে বাংলাদেশ

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বড় জয়ে ১২-তে বাংলাদেশ

পরস্পরকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বাংলাদেশের বড় জয়ের দুই রূপকার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদ উল্লাহ। ছবি : মীর ফরিদ মাসকাট থেকে

মরুর তপ্ত দুপুর তাঁকে এমন হাঁপিয়ে তুলেছিল যে মাঠে চেয়ার এনেও জিরিয়ে নিতে হলো একটু। মাথায় ধরতে হলো ছাতাও। ক্লান্তি শরীর টেনে ধরতে চাইলেও ব্যাট হাতে সতেজ সাকিব আল হাসান এর আগে-পরে করলেন আসল কাজটিও। সুপার টুয়েলভ পর্বে যেতে যখন রানরেট বাড়িয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা, তখন দ্রুত রান তোলার দাবি মেটানো ব্যাটিংও করলেন এই অলরাউন্ডার।

একই কাজ তাঁর চেয়ে আরো দ্রুততায় করলেন মাহমুদ উল্লাহ। ওমানকে হারিয়ে প্রথম পর্ব থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কার মেঘ অনেকটা কেটে যেতেই যেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের চোখ-মুখ থেকে উধাও গত কয়েক দিনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। নির্ভার হয়ে যেতেই তাঁর ব্যাটেও দেখা গেল মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। মাত্র ২৭ বলে করলেন এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্রুততম ফিফটি।

সাকিব-মাহমুদের এগিয়ে রাখা কাজে শেষ প্রলেপ ছড়ালেন আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনরা। এতে বাংলাদেশের সংগ্রহও এমন জায়গায় গেল, যা আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি) জন্য আল আমরাত স্টেডিয়ামের আশপাশের উঁচু পাহাড়ের মতোই দেখাল। শেষ পর্যন্ত তাঁদের অবস্থাও হলো বিশালাকার সেই সব পাহাড়ের পাদদেশে হুমড়ি খেয়ে পড়ার মতোই। পিএনজিকে ৯৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ৮৪ রানের এমন বিশাল ব্যবধানে জিতল যে ওমান-স্কটল্যান্ড ম্যাচের অপেক্ষায় আর থাকতে হয়নি। এর আগেই সুপার টুয়েলভ পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল মাহমুদ উল্লাহর দল।

নিশ্চয়তার এই ছাড়পত্র সাকিবময়। এই বছর খেলা ১৯টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের  সর্বোচ্চ ১৮১ রানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন প্রথমে। ৩৭ বলে ৩ ছক্কায় ৪৬ রান করার পর সাকিবের ঘূর্ণিতে মূর্ছা যায় পিনএনজি। উইকেটশিকারি তিনি এদিন একই সঙ্গে ভীষণ মিতব্যয়ীও। মাত্র ৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডারের পায়ে এদিন লুটিয়ে পড়ল আরেকটি রেকর্ডও। স্কটল্যান্ড ম্যাচে লাসিথ মালিঙ্গাকে টপকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার আনন্দ বিষাদেই হারিয়ে গিয়েছিল। তবে কাল কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৯ উইকেট নিয়ে শীর্ষে থাকা শহীদ আফ্রিদিকে ছুঁয়ে ফেলার আনন্দ উদযাপন করলেন জয় দিয়েই।

আফ্রিদি খেলেছেন ৩৪ ম্যাচ, সাকিব তাঁকে ধরে ফেললেন ২৮ ম্যাচেই। পারফরমার হিসেবে এমনিতেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাকিবের সঙ্গে আরেকটি ক্ষেত্রে তাঁর সতীর্থদের ব্যবধান যেন কয়েক আলোক বর্ষের। ২০১৭-এর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা দিয়ে শুরু। এরপর ওয়ানডে এবং এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে আইসিসির আসরে কাল ষষ্ঠ জয় লিখল বাংলাদেশ। আর এই ছয়টি ম্যাচেই ম্যাচ সেরা সাকিব তাই আরো অনন্য।

অথচ শুরুটা বরাবরের মতো নড়বড়েই ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের প্রথম বলেই যেমন ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান আগের ম্যাচে ৬৪ রান করা নাঈম শেখ। বল উইকেটকিপার পর্যন্ত ‘ক্যারি’ না করায় টিকে যাওয়া এই ওপেনার পরের বলেই শিকার বাঁহাতি পেসার কাবুয়া মুরিয়ার। তবে ইদানীং দ্রুত বিদায় নিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা লিটন কুমার দাস এদিন থাকলেন। সঙ্গে ব্যাটিং অর্ডারে নিজের পুরনো তিন নম্বর জায়গাটা ফিরে পেলেন সাকিব। স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হওয়ার আগেই জুটি বাঁধা এই দুজন ৭ ওভারেই তুলে দেন ৫০ রান। আগের দুই ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে যেখানে ২৫ ও ২৯ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ, সেখানে এদিন উঠে যায় ৪৫। ছন্দটা ধরা হয়ে যায় তাতেই। তাই লিটন (২৩ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ২৯) শুরুর বিপর্যয় সামাল দিয়ে যেতে না যেতেই মুশফিকুর রহিমের (৫) দ্রুত বিদায়েও পথ হারায় না বাংলাদেশ।

দুর্দান্ত ফিল্ডিং দিয়ে নজর কাড়া পিএনজি ক্রিকেটের মুখ চার্লস আমিনি শূন্যে ভেসে অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে সাকিবকে ফিফটি বঞ্চিত করার পরেও ছুটতে থাকে বাংলাদেশের রানের গতি। ৩টি করে ছক্কা আর চারে ৫০ রান করে মাহমুদের বিদায়ের পরও সেটি বাধাগ্রস্ত নয়। ইনিংসের শেষ তিন বলে সাইফ উদ্দিনই দুটো ছক্কা আর চারে তুলে দেন ১৭ রান (নো বল থেকে ১ রান)। তাঁর ৬ বলে ১৯ রানের হার না মানা ইনিংসেই ১৭০ হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ পেরোয় ১৮০।

এই রান তাড়ায় পিএনজিকে চেপে ধরার শুরু সাইফ উদ্দিনেই। এক ওপেনারকে ফেরান তিনি। আরেক ওপেনার ও অধিনায়ক আসাদ ভালাকে তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। এরপর পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসা সাকিব শুরু করেন জোড়া শিকার দিয়ে। সেখানেই থামেন না বলে বাংলাদেশের সুপার টুয়েলভ পর্বের নিশ্চয়তা সাকিবময়ই!

গতকাল অপর ম্যাচে স্বাগতিক ওমানের বুক ভেঙেছে স্কটল্যান্ড। ৮ উইকেটের জয়ে গ্রুপ ‘বি’র শীর্ষ দল হয়ে সুপার টুয়েলভের টিকিট পায় কাইল কোয়ের্টজারের দল। বাঁচা-মরার ম্যাচে ওমান অলআউট মাত্র ১২২ রানে। ৩ ওভার হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্কটিশরা।



সাতদিনের সেরা