kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই

শেখ রাসেল দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই

গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

এই দেশে যেন পঁচাত্তরের মতো হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের পুনারাবৃত্তি না ঘটে এবং আর কোনো শিশুকে যেন শেখ রাসেলের ভাগ্য বরণ করতে না হয় সে ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘আমাদের আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটাই আহবান জানাব, এই শিশুদের নিরাপত্তা দেওয়া, ভালোবাসা দেওয়া, সুন্দরভাবে গড়ে তোলা, তাদের জীবনকে সার্থক এবং অর্থবহ করা—এই কর্তব্য পালনই যেন সকলের আদর্শ হয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র এবং পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট পরিবারের অন্যদের সঙ্গে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২১’-এর উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গতকাল সোমবার সকালে গণভবন থেকে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

শেখ রাসেলের নির্মম হত্যাকাণ্ড স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের আর কোনো শিশুর জীবনে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। তাদের জীবন যাতে সুন্দর হয়। কারণ একজন শিশুকে হত্যা করা মানেই লাখো কোটি শিশুর জীবনকে শঙ্কায় ফেলে দেওয়া।’

পঁচাত্তরে শিশু রাসেলসহ জাতির পিতার পুরো পরিবারের হত্যাকাণ্ড, এর পরবর্তী সময়ে একের পর এক ১৯টি ক্যু এবং ক্যু নিবৃত্ত করার নামে সামরিক অফিসার হত্যাকাণ্ড ও ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা, ২০০১-পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াতের সীমাহীন সন্ত্রাস, ২০১৩, ’১৪ ও ’১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শিশুসহ নিরীহ মানুষ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা ফুল পূর্ণাঙ্গভাবে ফোটার আগেই অকালে ঝরে যাবে, এটা কারো কাম্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ রকম চাই না। বরং চাই বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হবে। প্রত্যেকটি শিশুর জীবন এই দেশে অর্থবহ এবং সুন্দর হবে। কেউ অকালে ঝরে যাবে না।’

আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে দেশবাসীর কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের মানুষকে একটি উন্নত জীবন দেওয়ার সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা প্রদানে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালেই শিশু নিরাপত্তার জন্য আইন প্রণয়ন করে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ঘাতকের হাতে তাঁরই সন্তানদের মত্যুবরণ করতে হয়, হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বক্তব্য দেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিব এবং শিশু বক্তা আফসার জাফর সৃজিতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্পকলা-সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু—এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে প্রতিটি এক ভরি করে ১০টি ‘শেখ রাসেল স্বর্ণপদক’, ১০টি ল্যাপটপ ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এ ছাড়া শেখ রাসেল অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ১০টি ল্যাপটপ এবং লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলমেন্ট প্রকল্পের (এলইডিপি) আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ উপার্জনকারীদের মাঝে চার হাজারটি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিশুদের ভেতরের যে সুপ্ত প্রতিভা এবং জ্ঞান রয়েছে তা বিকশিত হোক এবং আগামীর বাংলাদেশ যেন স্বাধীন বাংলাদেশের আদর্শ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গড়ে উঠতে পারে।’

তাঁর সরকার একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, যে দেশে কোনো অন্যায়-অবিচার থাকবে না। মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে। সূত্র : বাসস।



সাতদিনের সেরা