kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

মাগুরায় চার খুন

আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছে মানুষ

মাগুরা প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছে মানুষ

মাগুরার জগদল গ্রামে চার খুনের পর বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন অনেক বাড়ির পুরুষরা। আবার সংঘর্ষ ও লুটপাটের আশঙ্কায় গতকাল ঘরের মালপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন নারী সদস্যরাও। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছে মানুষ। এরই মধ্যে বেশির ভাগ বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়েছেন।

জগদল গ্রামটিতে তিন শতাধিক পরিবারের বাস। এ গ্রামের হাকিমের মোড়, সরদারপাড়া, মাঝিবাড়ী, দমদমাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ভয়ে পুরুষ সদস্যসহ কোনো কোনো পরিবারের সবাই গ্রাম ত্যাগ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুনরায় সংঘর্ষ ও লুটপাটের আতঙ্কে বাড়ির নারী সদস্যদের মালপত্র নিয়ে গ্রাম ত্যাগ করছে অনেকে। জগদল সরদারপাড়া এলাকার জাকির হোসেন, সায়েরা খাতুনসহ কয়েকজন জানান, আগেও দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে খুনের ঘটনা ঘটেছিল। তখন অন্য এলাকার দুর্বৃত্তরা এসে বাড়িঘর লুটপাট করেছিল। এই কারণে তাঁরা বাড়িতে মালপত্র রাখার সাহস পাচ্ছেন না।

শুক্রবারের ওই সহিংসতার ঘটনায় গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, লাশ দাফনের পর উভয় পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাগুরা সদর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম বলেন, তাঁরা গ্রামের লোকজনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে এলাকায় থাকতে বলেছেন। মালপত্র নিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে যাওয়া অনেককে রাস্তা থেকে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছেন। এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় (শনিবার) গ্রামের পৃথক কবরস্থানে চারটি লাশ দাফন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার বিকেলে জগদল ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুই সদস্য পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সৈয়দ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে এ সহিংসতায় খুন হন রহমান মোল্লা (৫৫), সবুর মোল্লা (৫২), কবির মোল্লা (৫০) ও ইমরান হোসেন (২৫)। নিহত সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা দুই ভাই। রহমান মোল্লা তাঁদের চাচাতো ভাই। সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অন্য দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত ওই গ্রামের মোল্লা গোষ্ঠীর দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরেই গতকালের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০০৩ সালে দুই পক্ষের বিরোধে খুন হয়েছিলেন তিনজন। তখন দুই পক্ষ মীমাংসা করে নিয়েছিল। তখন আইনানুগভাবে বিচার হলে শুক্রবারের সহিংসতার ঘটনা ঘটত না।

শুক্রবারের সহিংসতার বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানায়, ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় জগদল ইউপির নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য নজরুল ইসলাম মোল্লা এবারও প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে অনেক আগে থেকেই শত্রুতা চলে আসছে স্থানীয় সবুর মোল্লার। ওই ওয়ার্ডের সদস্য পদে সবুর মোল্লা তাঁর ঘনিষ্ঠ সৈয়দ হাসানকে প্রার্থী করেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় জগদল মাঝিপাড়া

এলাকায় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে মোল্লা গোষ্ঠীর ওই দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনজন খুন হন। ওই সময় উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নিয়েছিল। আইনগতভাবে বিচার না হওয়ায় খুনের দায় থেকে বেঁচে যাওয়া নজরুল মোল্লা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপি থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে স্থানীয় আধিপত্য আরো মজবুত করেন। জগদল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের প্রশ্রয়ের কারণেও নজরুল বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহত সবুর মোল্লার পরিবারের অভিযোগ, রফিকুলের উপস্থিতিতেই নজরুল ও তাঁর সমর্থকরা সবুর মোল্লাকে হত্যা করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে জগদল ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি মোল্লাদের গোষ্ঠীগত বিরোধ। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে থেকেই এ বিরোধ চলছে।’



সাতদিনের সেরা