kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রী বললেন

খাদ্যের অপচয় যেন না হয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খাদ্যের অপচয় যেন না হয়

গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্যের অপচয় কিভাবে রোধ করা যায় সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খাদ্যের অপচয় কমাতে হবে, অপচয় যেন না হয়। সারা বিশ্বে একদিকে খাদ্যের অভাব, অন্যদিকে প্রচুর খাদ্যের অপচয় হয়। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষের দিকে চলে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে গতকাল শনিবার এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের অপচয় যেন না হয় বরং যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে, সেগুলো আবার পুনর্ব্যবহার করা যায় কিভাবে সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। উদ্বৃত্ত যে খাদ্য থাকবে বা আপনি খেতে বসেও যে খাবারটা বেশি থাকবে—সেটাও কিভাবে পুনর্ব্যবহার করা, অন্য চাহিদা পূরণ করা যায় কি না—সেটাকেও গবেষণার মধ্যে রাখা দরকার।’

এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে তা নিশ্চিত করার আহবান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার উন্নয়ন করে যাবে। কিন্তু কৃষিজমি যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘কৃষিজমি সংরক্ষণ করেই আমাদের উন্নয়ন করতে হবে। কেননা আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে খাবারে বাংলাদেশে আর কোনো অভাব থাকবে না। তবে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। কাজেই নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা এবং শিক্ষা-চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা এবং বাংলাদেশে একটি মানুষকেও যাতে ঠিকানাবিহীন থাকতে না হয়, তাই প্রতিটি গৃহহীনের জন্য আমরা ঘর তৈরি করে দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজের ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছি এবং এই করোনাকালীনও আমি আহবান জানিয়েছি, আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে।’

করোনা মহামারির আগ্রাসনে বিশ্বের অনেক দেশেই খাদ্য সমস্যা দেখা দিলেও আমরা যেন আর কোনো দিন খাদ্যাভাবে না ভুগি, সে বিষয়ে সবাইকে সচেষ্ট হওয়ারও আহবান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলেই উত্তরবঙ্গ মঙ্গামুক্ত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উত্তরবঙ্গ আগামীতেও মঙ্গামুক্তই থাকবে। বাংলাদেশে আর যেন কখনো দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। আর কেউ যেন চক্রান্ত করে দুর্ভিক্ষ আনতে না পারে সেদিকে বিশেষভাবে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য চাহিদা ইনশাআল্লাহ আমরা পূরণ করে যাব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির পিতা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সমবায় পদ্ধতিতে সমন্বিত/যৌথ কৃষি খামারের প্রচলন করতে চেয়েছিলেন। তাঁর সেই বিশেষ পদ্ধতির চাষাবাদ ব্যবস্থায় শুধু কৃষি উন্নয়নই নয়, স্থানীয় রাজস্বে পল্লী উন্নয়নেরও রূপরেখাও নিহিত ছিল। প্রতি গ্রামে যৌথ চাষ হবে এবং ফসলের ভাগ যাবে মালিক, শ্রমিক, গ্রাম তহবিল—এ তিন জায়গায়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে একসময় অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বাধা দিলেও তাদের কথা শোনেননি বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেরা খাদ্য উৎপাদন করে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি করব। অর্থ উপার্জন করব। এটা আমরা পারি, পারব। উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যের মানও ঠিক রাখতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সার-বীজ কৃষকের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়েছি। অথচ এই সার চাইতে গিয়ে আন্দোলন করায় ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে খালেদা জিয়ার সরকার। বিদ্যুৎ চাওয়ায় ৯ জনকে হত্যা করা হয়। আর আজকে আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছি।’

সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের চাহিদা পূরণে বিনা পয়সায় খাবার বিতরণ করছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে সহায়তা করেছি। প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করেছি, তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত এক কোটি দুই লাখ ৭০ হাজার ১৪৩ জন ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছেন।’

তাঁর সরকার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভ্যালু চেইন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত বৈরী পরিবেশ সহনশীলসহ ৬৫৫টি উন্নত ফলনশীল জাতের ফসল এবং ৫৯১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কৃষি শিক্ষা-গবেষণা খাতে বরাদ্দ আরো বাড়িয়েছি। ফলে আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীরা কৃষি খাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে কৃষিতে বৈপ্লবিক সাফল্য এসেছে। আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ৯৪তম হলেও বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে বিশ্বে ১১তম স্থানে উঠে এসেছে। সূত্র : বাসস।



সাতদিনের সেরা