kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

পাথরে ফুটছে বিশ্বকাপের ফুল

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাথরে ফুটছে বিশ্বকাপের ফুল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আজ। মাসকাটে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দিনই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ছবি : মাসকাট থেকে মীর ফরিদ

পাথুরে পাহাড় তো আর কোদাল চালিয়ে কাটা যায় না। তাই ডিনামাইট বিস্ফোরণে ফাটানো হয়। এভাবেই পাহাড় ধসিয়ে, রাস্তা বানিয়ে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার তুঙ্গে পৌঁছাতে থাকা ওমান আজ আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েই আবির্ভূত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেট মানচিত্রেও।

১০ বছর আগেও যেখানে এই দেশে ক্রিকেট খেলা হতো কংক্রিটের উইকেটে, সেখানে আজ মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের পুরো সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আস্ত একটি স্টেডিয়ামও। এটি এমন এক উপলক্ষ যে ধনকুবের পঙ্কজ খিমজিও সহজলভ্য। তাঁর সাক্ষাৎ পেতে ১০ দিন আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় বলে শোনা গেল স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকেই। অথচ গতকাল না চাইতেই হাজির ওমান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট।

আল আমরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাঁর সগৌরব উপস্থিতি। বাংলাদেশ-স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাঁর কণ্ঠে প্রতিফলিত দেখিয়ে দিতে পারার অনির্বচনীয় অনুভূতিও, ‘যখন এই মাঠে বিশ্বকাপ হবে বলে ঠিক হয়, আমি বলেছিলাম আমাকে ৯০ দিন সময় দিতে। আজ ৮৯-তম দিন।’ এর মধ্যেই গড়ে ওঠা স্থাপনার অনেক কিছুই ছিল না এই কিছুদিন আগেও।

ওমান পর্বে আইসিসির মিডিয়া ম্যানেজার মেরি গডবিয়ার যেমন কয়েক দিন আগে এসেও অনেক কিছুই দেখতে পাননি, ‘আমি এসেছি ছয় দিন আগে। তখন আপনাদের জন্য এই মিডিয়া সেন্টারটি তৈরিই হয়নি, শুধু কাঠামোটি দাঁড়িয়েছিল। আশপাশের আরো অনেক কিছুই গত কয়েক দিনে হলো।’ স্টিলের কাঠামোর ওপর তিন তলা মিডিয়া সেন্টারটি বানানো হয়েছে এক সপ্তাহও হয়নি তাই। ‘মেইক শিফট’ ব্যবস্থাপনায় বেশির ভাগ কাজ সারলেও স্থায়ী কিছু অবকাঠামোও আছে।

যেটি দিয়ে পুরো বিশ্বকেই তিনি পেছনে ফেলতে পেরেছেন বলে দাবি পঙ্কজ খিমজির, ‘আমার ফ্লাডলাইট দেখুন। পৃথিবীর আর কোথাও এত আলোর লাইট নেই। অন্যান্য জায়গায় সর্বোচ্চ আছে ২৫০০ লাক্সের আলো। আমার এখানে ৩২০০ লাক্স।’ প্রথম পর্বের মোড়কে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ছয়টি ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া ওমান ক্রিকেট বোর্ড আসর শুরুর আগেই যেন আয়োজনের দিক থেকে তুলে নিয়েছে পুরো নম্বরই। তবে আয়োজনের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও আবার বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে তারা আরেক জায়গায়। সেটি উন্মাদনায় ও প্রচার-প্রচারণায়।

একবার ভাবুন তো, এই বিশ্বকাপই মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে হলে শুরুর আগের দিন নিশ্চিতভাবেই হাজারো উৎসাহী মানুষ হামলে পড়ত। কিন্তু ওমানে ক্রিকেট একরকম জনবিচ্ছিন্ন খেলাই। খিমজি পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতাই এখানে ক্রিকেট বাঁচিয়ে রেখেছে। স্থানীয় লোকজনের এখনো সেভাবে আকৃষ্টই করা যায়নি। ক্রিকেটটা এখানে খেলেনও অভিবাসী ভারতীয়, পাকিস্তানি ও শ্রীলঙ্কানরা। তাঁদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ক্রিকেট নিয়ে সাধারণ্যে তেমন কৌতূহলও নেই। ক্রিকেট তাই এখানে নীরবেই হয়ে যায়। আজ বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিনও সেই নীরবতা ভাঙেনি।

নিস্তরঙ্গ স্টেডিয়াম দেখে বোঝারই উপায় নেই যে আজ ক্রিকেটের এক মহাযজ্ঞই শুরু হতে চলেছে। শেষ মুহূর্তের প্রলেপ দিতে আসা কর্মীরা ছাড়া কেউই নেই। ওমানের স্থানীয় লোকদের টেনে আনা মুশকিল বলেই হয়তো মাসকাট শহরজুড়ে কোনো পোস্টার-ব্যানারও টানানোর প্রয়োজন মনে করেননি আয়োজকরা। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিশ্বকাপ নিয়ে আলাপ জমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মনে হলো তা বৃথাই। বিশ্বকাপের খোঁজ রাখা দূরের কথা, এর ভেন্যু আল আমরাত স্টেডিয়ামও যে চেনা কোনো জায়গা, এমন নয়। হলে শুক্রবার স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে ট্যাক্সি ড্রাইভার একাধিক ভুল রাস্তায় নিয়ে যেতেন না। স্টেডিয়ামের পথের বিশাল রাস্তাটিও ওমানের শানশওকতের সঙ্গে যায় না। অমসৃণ এবং অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা। তাই হেলুনি-দুলুনিও টের পেতে হয়। ওই পথ পেরিয়ে স্টেডিয়ামের মূল ফটকে আসতেই অন্য পৃথিবী। কাল সন্ধ্যায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লাডলাইটে সেখানে অন্য রকম এক মায়াবী আলোর বিচ্ছুরণই খেলে গেল। টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারে বাইরের পৃথিবী তো দেখবে শুধু এগুলোই, যেগুলো তৈরি হতে সময় লেগেছে মাত্র ৮৯ দিন। আয়োজক হিসেবে ওমান ডিনামাইটের মতো কার্যকর বলেই হয়তো তা সম্ভব হলো!  



সাতদিনের সেরা