kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাহিত্যে নোবেল

শরণার্থীদের দুর্দশার কথা লিখে নোবেল জয়

সাব্বির খান, সুইডেন থেকে   

৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরণার্থীদের দুর্দশার কথা লিখে নোবেল জয়

আবদুলরাজাক গুরনাহ

তানজানিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহ এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি ২০২১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। গুরনাহ ১৯৪৮ সালে ভারত মহাসাগরের জানজিবার দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই কেটেছে তাঁর শৈশব। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি শরণার্থী হিসেবে ইংল্যান্ডে আসেন। ২১ বছর বয়সে সেখানে শরণার্থী হিসেবে তাঁর লেখকজীবন শুরু। এ পর্যন্ত তাঁর ১০টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। তিনি অনেক ছোটগল্পও লিখেছেন।  

দ্য রয়াল সুইডিশ একাডেমির চেয়ারম্যান আন্দেরস উলসন সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী গুরনাহর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘গুরনাহ তাঁর উপন্যাসে ঔপনিবেশিকতার প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক ও মহাদেশীয় বিচ্ছিন্নতার মধ্যে উপসাগরে শরণার্থীজীবনের টানাপড়েনকে আপসহীন ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিতে অসামান্য ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন। এ জন্য আবদুলরাজাক গুরনাহকে ২০২১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো।

গুরনাহ তাঁর উপন্যাসে শরণার্থী জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত অত্যন্ত জোরালোভাবে চিত্রিত করেছেন। তিনি আফ্রিকার অন্যতম প্রধান উত্তর-ঔপনিবেশিক লেখক হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর ১০টি উপন্যাসে উপনিবেশবাদ এবং শরণার্থী জীবনে নির্বাসনের প্রভাব আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি শরণার্থীর মূলহীনতাকে নতুন এক দৃষ্টিকোণ থেকে রুপায়িত করেছেন, যা সর্বকালীন এবং সর্বজনবিদিত হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

সোয়াহিলি তাঁর মাতৃভাষা হলেও ২১ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে শরণার্থী জীবনে ইংরেজি ভাষায়ই তিনি সাহিত্য রচনা শুরু করেন। কথা প্রসঙ্গে গুরনাহ একবার বলেছিলেন, জানজিবারে বসবাসের সময় সোয়াহিলি ভাষার সাহিত্যে তাঁর প্রবেশাধিকার উল্লেখ করার মতো নয়। আরবি ও ফার্সি কবিতা, বিশেষ করে দ্য অ্যারাবিয়ান নাইটস তাঁর লেখালেখির প্রাথমিক উৎস। কিন্তু ইংরেজি ভাষার ঐতিহ্য, বিশেষ করে শেকসপিয়ার, ভি এস নাইপল তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে।

১৯৯৪ সালে গুরনাহর উপন্যাস প্যারাডাইস অ্যান্ড ডিজারশন প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। উপন্যাসটির কাহিনী বিকশিত হয়েছে ২০ শতকের গোড়ার দিকে তানজানিয়ায় বেড়ে ওঠা এক বালকের গল্প নিয়ে। উপন্যাসটি বুকার জেতার পর ঔপন্যাসিক হিসেবে গুরনাহর নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো পাকাপোক্ত হয়।

নোবেল জয়ের প্রতিক্রিয়ায় গুরনাহ বলেছেন, ‘এত বড় একটি পুরস্কার, অসাধারণ সব লেখকদের পাশে আমার নাম, বিশ্বাসই হতে চাইছে না। আমি এতটাই বিস্মিত যে বিশ্বাস করার আগে নিজে কানে ওই ঘোষণা শোনা পর্যন্ত সত্যি সত্যি অপেক্ষা করেছি।’

৭৩ বছর বয়সী আবদুলরাজাক গুরনাহর জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ওলে সোয়েনকা, নগুগি ওয়া থিয়াঙ্গো, সালমান রুশদির মতো উত্তর ঔপনিবেশিক লেখকদের লেখা তিনি পাঠদানের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে ওলে সোয়েনকার পর গুরনাহই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান, যিনি সাহিত্যে নোবেল পেলেন। তাঁর আশা, তাঁর এই পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে শরণার্থী সংকট আর ঔপনিবেশিকতাবাদের দুষ্ট ক্ষত হয়তো আলোচনায় আসবে।

১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস, ‘মেমোরি অব ডিপচার’। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হয় প্যারাডাইস (১৯৯৪), ‘অ্যাডমায়ারিং সাইলেন্স’ (১৯৯৬), ‘বাই দ্য সি’ (২০০১), ‘ডিজারশন’ (২০০৫), ‘দ্য লাস্ট গিফট’ (২০১১)  প্রভৃতি।

 

 



সাতদিনের সেরা