kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জয়ে চোখ রেখে নামছে বাংলাদেশ

শাহজাহান কবির, মালদ্বীপ থেকে

৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জয়ে চোখ রেখে নামছে বাংলাদেশ

৫-০, ৫-০, ৮-০। ১-৩, ১-৩, ০-৫। প্রথম তিনটি ম্যাচ স্কোরলাইন ১৯৮৪-৮৫ সালের। বাংলাদেশের ফুটবলের তখন দাপটের সময়।

বিজ্ঞাপন

শেখ মোহাম্মদ আসলাম, কায়সার হামিদদের যুগ, যখন মালদ্বীপকে তাঁরা বলে-কয়ে গোল দিতেন। শেষ তিনটি স্কোরলাইনে সেই মালদ্বীপের বিপক্ষেই বাংলাদেশের সর্বশেষ তিন ম্যাচের হারের খতিয়ান। সময় বদলেছে। এমন ওলটপালটের পরও প্রশ্নটা উঠছে—আজকের ম্যাচে এই দুই দল কোথায় দাঁড়িয়ে?

শোনা যাক মালদ্বীপের কোচ আলী সুজেইনের কাছেই, ‘বাংলাদেশ আমাদের বিপক্ষে সর্বশেষ জিতেছে ২০০৩ সালে। এর পর থেকে আমরাই বেশি ভালো করেছি। কিন্তু পেছনের এই ইতিহাস আগামীকালের ম্যাচে কি আমাদের সাহায্য করবে? একসময় আমরাও তো ওদের কাছে ৮ গোল হজম করেছি। সেই সময়টা বদলেছে। আর এই বাংলাদেশও সেই আগের দল আর নেই। এখন নতুন কোচ, ভিন্নভাবে খেলাচ্ছেন তিনি দলটাকে। আমি নিশ্চিত এটা একটা ভিন্ন চ্যালেঞ্জই হবে আমাদের জন্য। ’

সাফের প্রথম দুই ম্যাচে এই সমীহ অন্তত অর্জন করেছে বাংলাদেশ। যে দলটি ২০১৬ সালে এই মালেতে এসে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়ে ফিরেছিল, সেই দলটি আর ব্রুজোনের এই দল এক নয়। ৫-০, ৮-০ আজকের ম্যাচের জন্য তাই বড়জোর স্মৃতিতে ঠাঁই পাবে। এখানে দুই দল শুরু করবে একই সমান্তরালে। পয়েন্ট টেবিলে তাকালে দেখা যাবে বাংলাদেশই এগিয়ে প্রথম দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট তুলে নিয়ে। সেখানে এই সাফের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের কাছ থেকে পয়েন্ট নেওয়ার গৌরবও আছে। আর মালদ্বীপ শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে নেপালের কাছে হেরে। বাংলাদেশের কাছে আজ পয়েন্ট হারালে তাদের ফাইনালের সম্ভাবনা একরকম শেষ হয়ে যাবে ঘরের মাঠের এ আসরে। আলী আশফাকরা আজ তাই জিততে মরিয়া। কিন্তু ব্রুজোন চাপটা রেখেছেন ওদের ওপরই, ‘ঘরের মাঠে এই পরিস্থিতি মালদ্বীপের জন্য উল্টো চাপ হবে। পয়েন্ট হারালেই টুর্নামেন্ট থেকে তারা ছিটকে পড়বে, এটা ভীষণ কঠিন সমীকরণ স্বাগতিক দলের জন্য। ’

ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থন নিয়ে অবশ্য এই চ্যালেঞ্জটা টপকাতে চাইবে সাফের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২০১৮ সালে ঢাকা থেকে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা নিয়ে ফিরেছে দলটি। সেবারও তাদের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি ড্র ছাড়া আর কিছু ছিল না। কিন্তু সেমিফাইনালে নেপালের পর ফাইনালে ভারতীয় তরুণদের বিপক্ষেও জেতে শিরোপা। আজ তাই তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর দিন। আর বাংলাদেশের ধারাবাহিকতা দেখানোর সেরা মঞ্চ। ব্রুজোন তা বেশ ভালোভাবেই জানেন, ‘আমরা কোনোভাবেই এই সুন্দর অবস্থানটা হাতছাড়া করতে চাই না। আজ জিতলে ফাইনালে যাওয়ার কাজটা সহজ হয়ে যাবে আমাদের। দল তাই একইভাবে উজ্জীবিত আছে এই ম্যাচে। ’

স্বাগতিক দর্শকের চাপটা অবশ্য নিতে হবে জামাল ভুঁইয়াদের। ১০ জনের দল হয়ে পড়েও বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরায় দর্শক সমর্থনের বড় ভূমিকা দেখেছিলেন ভারতের কোচ ইগর স্তিমাচ। মালদ্বীপের বিপক্ষে সেই সুবিধাটাই হারাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও মনে করছেন বাঁচা-মরার ম্যাচ জিততেই বাংলাদেশিদেরকে প্রাপ্য টিকিট না দেওয়াসহ সব রকম কৌশলই খাটাচ্ছে মালদিভিয়ানরা। জামাল নিজে অবশ্য এই ব্যাপারটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে মাঠে নামছেন, ‘ঘরের মাঠে তারা বেশি দর্শক সমর্থন পাবে, এটাই স্বাভাবিক। এটাকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখার কিছু নেই। সত্যি বলতে আমরা এই বিষয়গুলো মাথায়ই আনছি না। আমাদের পুরো মনোযোগ নিজেদের খেলায়। কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ঠিকঠাক করে এই ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট নেওয়ার জন্যই আমরা মাঠে নামব। ’

মালদ্বীপ অধিনায়ক আকরাম আব্দুল গনি দর্শক সমর্থনের বোনাস নিয়েও বাংলাদেশের ম্যাচটাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আমি আগেও খেলেছি। কিন্তু এই দলটাকে আগের সব সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে। এটা হয়েছে হয়তো বা কোচের কারণেই। তিনি এই খেলোয়াড়দের জানেন, এএফসি কাপে ওদের নিয়ে এখানে খেলে গেছেন। এটা তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে আমাদের সামনেও জয় ভিন্ন পথ নেই। প্রথম ম্যাচের হতাশাটা এই ম্যাচেই আমরা কাটাতে চাই। ’ নেপালের বিপক্ষে আক্রমণের ঢেউ বইয়ে দিয়েও গোল না পাওয়ার কারণগুলো এই কদিন খুঁজে বের করে কাজ করা হয়েছে বলেও তিনি জানালেন। ‘একটা গোল পেয়ে গেলেই আমাদের সমস্যা সব কেটে যাবে’ বলে মনে করছেন মালদ্বীপের অধিনায়ক।

আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই বাংলাদেশ দলেরও। আগের দুই ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল পেয়ে সেটা আরো বেড়েছে বরং। মালদ্বীপের এই চ্যালেঞ্জটা আজও তাই উতরে যাবে ব্রুজোনের দল, এমনটাই এখন আশা।

 

 



সাতদিনের সেরা