kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্যান্ডোরা পেপারসের তথ্য

কর ফাঁকির স্বর্গে নামি তারকারাও

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর ফাঁকির স্বর্গে নামি তারকারাও

তাঁর কণ্ঠের জাদু আর নাচের মোহনীয়তায় উন্মাতাল সারা বিশ্ব। নিছক বিনোদন নয়, তাঁর গানে উঠে আসে দেশ, মানুষ আর মানবতার কথাও। প্যান্ডোরার ভয়ংকর বাক্স খুলে বেরিয়ে পড়েছে তাঁর নামও—শাকিরা। কর ফাঁকি দেওয়ার অব্যর্থ কায়দা অফশোর কম্পানি খোলার পথে হেঁটেছেন তিনিও।

শাকিরা একা নন। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামিয়েও যাঁরা আরো টাকা অর্জনের মায়া ছাড়তে পারেননি, সে রকম সেলিব্রিটির তালিকাটা লম্বাই। সংগীত, চলচ্চিত্র, ক্রীড়া, মডেলিংসহ নানা ক্ষেত্রের জনপ্রিয় আর সফল অনেকেরই নাম আছে সে তালিকায়।

রাজনীতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রের ধনকুবেরদের পাশাপাশি তাঁদের নামও চাঞ্চল্য জাগিয়েছে প্রচারমাধ্যমে।

কর ফাঁকির দায়ে শাকিরাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। প্যান্ডোরা পেপারসে এসেছে তাঁর ‘কীর্তি’র বিশদ। জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে সংগীত ব্যবসা চালাতে ২০১৯ সাল থেকে তিনটি অফশোর কম্পানি গঠন করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে ২০১৮ সালেই কর ফাঁকির অভিযোগে স্পেনে তদন্ত হয়। গত জুলাই মাসে স্পেনের এক আদালত বলেন, কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত এই গায়িকা ২০১২-১৪ সময়ের মধ্যে এক কোটি ৬৪ লাখ ডলার কর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। ফলে তাঁর মামলাটির বিচারকাজ চলবে।

শাকিরার জনসংযোগ এজেন্সি অবশ্য বলছে, সব সময়ই ঠিকঠাকমতো কর পরিশোধ করেছেন তিনি। বিনিয়োগকারী যে দেশের, তা থেকে আলাদা কোনো দেশে (যেখানে খুব কম বা শূন্য করের সুবিধা আছে) গঠন করা ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানই অফশোর কম্পানি। টাকাপাচার বা কর ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে এ পদ্ধতি সুপরিচিত।

কর ফাঁকি দেওয়া তারকাদের মধ্যে এ পর্যন্ত আরো যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে আছেন ভারতীয় অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ, ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী বিখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের ড্রামবাদক রিঙ্গো স্টার, সুপারমডেল ক্লডিয়া শিফার, গায়ক-গীতিকার জুলিও ইগলেসিয়াস এবং কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচিন টেন্ডুলকার।

গত রবিবার ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) ফাঁস করা নতুন নথিতে দেখা যায়, কিভাবে বিভিন্ন অফশোর কম্পানি ব্যবহার করে ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের (বিভিআই) মতো ট্যাক্স হ্যাভেনে অর্থ পাঠিয়েছেন রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও তারকাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের নামিদামি মানুষ।

আইসিআইজের প্রতিবেদনে বলা হয়, অফশোর কম্পানি ও ট্রাস্ট স্থাপন করা সহজ এবং অনেক ক্ষেত্রে বৈধ। যেমন—লন্ডন কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী একজন তারকা অফশোর কম্পানির নিবন্ধনের জন্য ‘গোপনীয়তা রক্ষার আইনগত অধিকারের’ বলেই আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে পারেন।

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, তারকারা খুব সহজে অফশোর কম্পানি খুলে হাজার হাজার, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোটি কোটি ডলার কর দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। সংগীতশিল্পী ও বিটলসের ড্রামার রিঙ্গো স্টারের নিট সম্পদ প্রায় ৪০ কোটি ডলারের। তিনি বাহামা দ্বীপপুঞ্জে দুটি রিয়েল এস্টেট কম্পানি গঠন করেছেন। তিনি পানামায়ও কমপক্ষে পাঁচটি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছেন। একটি ট্রাস্টে তাঁর রয়ালটি এবং লাইভ পারফরম্যান্স থেকে পাওয়া অর্থ জমা হয়। মন্তব্যের জন্য আইসিআইজের সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলেও স্টারের তরফে কোনো জবাব মেলেনি।

বিশ্বখ্যাত অন্তর্বাস ব্র্যান্ড ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেট, প্রসাধনী লরিয়েল ও কোমল পানীয় পেপসির বিজ্ঞাপন করে নব্বই দশকে তুমুল জনপ্রিয়তা পান জার্মান সুপারমডেল ক্লডিয়া শিফার। বিভিআইতে তাঁর অন্তত ছয়টি নিবন্ধিত কম্পানি এবং একটি ট্রাস্ট রয়েছে। শিফারের আইনজীবী বলছেন, যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা এই  সুপারমডেল সেখানকার কর আইন পুরোপুরি মেনে চলেন।

প্যান্ডোরা পেপারসে এসেছে ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার, তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি টেন্ডুলকার এবং শচীনের শ্বশুর আনন্দ মেহতার নামও। নথিতে বলা হয়েছে, বিভিআইতে সাস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি সংস্থায় শচীন, অঞ্জলি ও তাঁর শ্বশুর বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে শচীনের ৯টি শেয়ারের দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাত কোটি রুপি। অঞ্জলির ১৪টি শেয়ারের দাম প্রায় ১১ কোটি রুপি। শচীনের আইনজীবীর দাবি, সাবেক তারকার বিদেশে যেসব বিনিয়োগ রয়েছে, সেগুলো বৈধ এবং আয়কর বিভাগের কাছে সব তথ্যই রয়েছে।

প্যান্ডোরার বাক্স থেকে বেরিয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়ালস এবং কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মালিকদের নামও। সূত্র : আইসিআইজে, বিবিসি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

 



সাতদিনের সেরা