kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফেসবুকে ৬ ঘণ্টার বিপর্যয়

জাকারবার্গের আয় কমেছে ৫২ হাজার কোটি টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাকারবার্গের আয় কমেছে ৫২ হাজার কোটি টাকা

সময় মাত্র ছয় ঘণ্টা। গত সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার কাছাকাছি সময় থেকে রাতের শেষ প্রহর পর্যন্ত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ ফেসবুকের মালিকানাধীন সব সেবা বন্ধ ছিল। এতে বিশ্বে বিশাল এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রায় ৩০০ কোটি গ্রাহকই ভোগান্তিতে পড়েনি, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ৬০০ কোটি  মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫১ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকারও বেশি কমে গেছে। এই বিপর্যয় তাঁকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে  ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ৪ নম্বর থেকে ৫ নম্বরে নামিয়ে দিয়েছে। এর ফলে জাকারবার্গ সম্পদের দিক থেকে এখন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের পেছনে।

ইয়াহু ফাইন্যান্সের প্রতিবেদন অনুসারে মধ্য সেপ্টেম্বর থেকেই ফেসবুকের শেয়ারের দর ১৫ শতাংশের মতো কম। গতকালের ঘটনায় তা আরো ৪.৯ শতাংশ কমে গেছে। আর শেয়ারের দর কমায় মার্ক জাকারবার্গের নিট সম্পদের পরিমাণ কমে ১২ হাজার ১৬০ কোটি মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই বিপর্যয় সৃষ্ট বিভ্রান্তির কারণে ফেসবুক ইনকরপোরেশন নেটওয়ার্ক থেকে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয়। ফলে তাঁর আর্থিক ক্ষতি প্রবল হয়ে ওঠে।

প্রযুক্তিগত এ বিপর্যয়ের জন্য ফেসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মাইক শ্রোফার ব্যবহারকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। টুইটারে হোয়াটসঅ্যাপ বলেছে, ‘যারা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারেনি, তাদের কাছে আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

জাকারবার্গ নিজেও গতকাল বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় এক ফেসবুক পোস্টে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ‘ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার অনলাইনে ফিরে আসছে। এ সমস্যার জন্য দুঃখিত। আমি জানি পছন্দের মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকতে আমাদের সেবার ওপর আপনারা কতটা নির্ভর করেন।’

বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় চার কোটি ৮২ লাখ। এই সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ। এ তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনার প্ল্যাটফর্ম নেপোলিয়নক্যাটের। গত মে মাসে এ প্রতিষ্ঠানের পরিসংখান থেকে জানা যায়, ব্যবহারকারীর মধ্যে ৩০.৯ শতাংশ নারী এবং পুরুষ ৬৯.১ শতাংশ। ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৪ বয়সীরাই সবচেয়ে বেশি। তাঁদের সংখ্যা দুই কোটি ১২ লাখ। গত সোমবার দিনগত রাতটি ছিল দেশের এই বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য হতাশার।  প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছেও ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের এই বিপর্যয় বা বিভ্রাট বড় ধরনের বিস্ময়। ঘটনার সময় ওয়েবসাইট বা স্মার্টফোন কোনো ডিভাইস দিয়েই ফেসবুকের মালিকানাধীন এই মাধ্যমগুলোতে ঢোকা যাচ্ছিল না।

ডাউনডিটেক্টর নামে যে প্রযুক্তি দিয়ে এই মাধ্যমগুলোর ব্যবহার ট্র্যাক করা যায়, তারা জানায়, তাদের দেখা এটাই সবচেয়ে বড় বিভ্রাট। এ বিষয়ে একটি বিবৃতিতে ফেসবুক এই সমস্যার জন্য কারিগরি ত্রুটিকে দায়ী করে। এতে বলা হয়েছে, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ফেসবুকের তথ্যভাণ্ডারের সংযোগ তৈরি হয়, সেই সিস্টেমের (ব্যাকবোন রাউটার) কনফিগারেশনে কিছু পরিবর্তন করার কারণে বিশ্বব্যাপী এই সমস্যার তৈরি হয়। নেটওয়ার্ক ট্রাফিকে সমস্যা তৈরি হওয়ার কারণে ফেসবুকের তথ্যভাণ্ডার বা ডাটা সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয় এবং এতে  ফেসবুক সেবা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিভাবে তা  ঘটেছে, সে বিষয়টি  পরিষ্কার করেনি ফেসবুক। তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাকবোন রাউটার কনফিগারেশন পরিবর্তনের কারণে ছয় ঘণ্টা ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রাম বন্ধ থাকার যুক্তি মানা যাচ্ছে না। বলা হচ্ছে তাদের রাউটার কনফিগারেশনের কারণে ডিএনএ সার্ভারে প্রভাব পড়ে এবং পৃথিবী থেকে তাদের ডিএনএ সার্ভারগুলো হারিয়ে যায়। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানের জন্য ছয় ঘণ্টা কেন লাগবে? এ ধরনের সমস্যা সমাধানে তো ছয মিনিটও লাগার কথা না। এটা ভুল না অন্য কোনো কিছু—এ প্রশ্ন এখনো আছে।



সাতদিনের সেরা