kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

আইন না মেনে বিজ্ঞাপন চালানো বিদেশি টিভি চ্যানেল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইন না মেনে বিজ্ঞাপন চালানো বিদেশি টিভি চ্যানেল বন্ধ

দেশের আইন অনুযায়ী বিদেশি কোনো টিভি চ্যানেল এ দেশে চালানোর সময় অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপন চালানো যাবে না। ২০০৬ সালে এই আইন হলেও তা না মেনে এত দিন ধরে চ্যানেলগুলো চালানো হচ্ছিল। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ সম্প্রতি বিদেশি টিভি সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জনিয়ে দেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ক্লিন ফিড (বিজ্ঞাপনমুক্ত) নয় এমন চ্যানেল সম্প্রচার করা যাবে না। ওই সিদ্ধান্তের পর গতকাল শুক্রবার থেকে বিজ্ঞাপনমুক্ত নয়, এমন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে কেবল অপারেটররা।

গতকাল সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আইয়ের সম্প্রচারের ২৩তম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘বিদেশি টিভি ক্লিন ফিড না চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক হাজার কোটি টাকা, যা দেশে লগ্নি হতো, তা বিদেশের চ্যানেলে লগ্নি হয়। আইন ভঙ্গ করে বিদেশি চ্যানেলে যদি বিজ্ঞাপন না দেখানো হতো তবে দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হতো, অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি লাভবান হতো।’ তিনি আরো বলেন, ‘ক্লিন ফিড না চলার কারণে দেশের অর্থনীতি, শিল্পী, শিল্প, সংস্কৃতি ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সে কারণেই আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, খসড়া সম্পন্ন হয়েছে। নীতিমালা পাস হলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে তা অনুসরণ করতে হবে এবং কোনো ব্যত্যয় হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশি টিভি চ্যানেলের ক্লিন ফিড সম্প্রচার বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (এটকো) এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)। দেশের সব টিভিতে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে স্ক্রল প্রচারের পাশাপাশি বিজেসি এ নিয়ে লিখিত বিবৃতিও দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০০৬ সালের কেবল নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনে এ বিধান থাকলেও এর আগে কখোনই এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেসি। এতে দেশি টেলিভিশন চ্যানেল শিল্পের আর্থিক সংকট কমবে এবং উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সম্প্রচারকর্মীরাও এর সুফল পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিদেশি চ্যানেলগুলো ক্লিন ফিড অনুষ্ঠান না দিলে বিজ্ঞাপন কেটে বাদ দিয়ে সম্প্রচার করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। সে কারণে তাঁরা চ্যানেলগুলো দেখানোই বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা মেনে গতকাল থেকে এসব চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ওটিটিসহ অন্য প্ল্যাটফর্মে সব চ্যানেল চলছে। এখন এটা যদি অন্য খাতে চলে যায় তাহলে পথে বসবে কেবল অপারেটররা। পাঁচ লাখের বেশি মানুষ কেবল অপারেটিং শিল্পের সঙ্গে জড়িত।

 

 



সাতদিনের সেরা