kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

তৌহিদ হোসেন

প্রত্যাবাসন প্রশ্নে পশ্চিমারা নীরব মৃত্যু নিয়ে সরব

২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রত্যাবাসন প্রশ্নে পশ্চিমারা নীরব মৃত্যু নিয়ে সরব

কালের কণ্ঠ : রোহিঙ্গা শিবিরের এই ঘটনা রাষ্ট্রের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?

তৌহিদ হোসেন : এটা বলা খুব কঠিন। তবে এই ঘটনায় আমাদের রাষ্ট্রের ওপর কেন প্রভাব পড়বে সেটিও ভাবনার বিষয়।

 

কালের কণ্ঠ : মহিব উল্লাহ রোহিঙ্গা নেতা ছিলেন। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। পশ্চিমা বন্ধুরা এখন বিবৃতি দিচ্ছেন, উদ্বেগ জানাচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি হঠাৎ করে আবার বাংলাদেশ আলোচনায়।

তৌহিদ হোসেন : রোহিঙ্গা নেতা মারা গেছেন। তাতে করে আমাদের রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব পড়বে কেন? আমরা যে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছি সেটি আরো শক্ত করতে পারি। হ্যাঁ, নেতা একজন মারা গেছেন। তাঁর জায়গা তো আর খালি থাকবে না। কেউ না কেউ নিশ্চয়ই পূরণ  করবেন। কে মারল, কেন মারল এগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। কিছু কিছু কারণ অনেকে বলছে। কেউ কেউ আরসাকে দোষ দিচ্ছে। যেহেতু এই ভদ্রলোক ছিলেন ফিরে যাওয়াপন্থী। অনেকে আছে, রোহিঙ্গাদের এখানেই রাখতে চায়, স্থিতাবস্থা রেখে তাদের অপরাধমূলক বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে চায়। তারা ফিরে যেতে চায় না। তারা এর (ফিরে যেতে আগ্রহীদের) বিরোধী। এটা আছে ওখানে। একটা আশঙ্কা আছে যে এতে করে তারা শক্তিশালী হয়ে গেল কি না, মহিব উল্লাহকে সরিয়ে দিয়ে তারা তাদের অবস্থান শক্ত, সংহত করতে পারল কি না। সেটা যাতে না হয়, না করতে পারে সেটা দেখতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : রোহিঙ্গা শিবির পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কি যথেষ্ট গুরুত্ব দেইনি? এর আগেও রোহিঙ্গা শিবিরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অপরাধ হয়েছে।

তৌহিদ হোসেন : আমার মতে, আমরা অনেকখানি চোখ বুজে ছিলাম। সাধারণ রোহিঙ্গারা অপরাধী না। অপরাধীর সংখ্যা সামান্য কিছু। সব সমাজেই তাই। তাদের সব সময় ‘ফ্রি রেইন’ (অবাধে কাজ করার সুযোগ) দিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো ব্যবস্থা কখনো নেওয়া হয়নি। ওরা মারামারি করছে, যা খুশি করছে করুক—এ রকম একটা মনোভাব ছিল। এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই যে গ্রুপটা বা মুষ্টিমেয় বা স্বল্পসংখ্যক মানুষ ক্যাম্পের লোকদের জিম্মি করে তাদের অপরাধমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেউ বাধা দিতে গেলে মেরে ফেলছে—এটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে, বের করে নিয়ে আসতে হবে। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে বাংলাদেশের সরকারের ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যারা জড়িত তাদের মূলোৎপাটনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটিই সামনের কাজ।

 

কালের কণ্ঠ : মহিব উল্লাহ হত্যার তদন্তের দায়িত্ব কি বাংলাদেশের?

তৌহিদ হোসেন : অবশ্যই। বাইরের কেউ তো বলেনি যে তারা করবে। বরং তারা (পশ্চিমারা) বাংলাদেশকেই তদন্ত করার জন্য বলছে। তারা বলছে, তদন্ত করে বিচার করার ব্যবস্থা করতে হবে। একটা জিনিস সব সময় বিরক্তিকর ঠেকে। এত দিন সেখানে এত অপকর্ম ঘটছে, আমাদের পশ্চিমা বন্ধুরা এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল না। এর কারণ হলো, একটা দেশ থেকে তাদের বিতাড়িত করে একটি ক্যাম্পেও ভেতরে রাখা হয়েছে। তাদের দরকার ছিল সহায়তা করা, যাতে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। সেখানে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে এখন মহিব উল্লাহ মারা গেছেন এটি নিয়ে খুব চেঁচামেচি করছে। মহিব উল্লাহ তো একজন ব্যক্তি। এ রকম আরো অনেক ব্যক্তি সেখানে মারা গেছে। হয়তো তারা এত বিখ্যাত ছিল না কিংবা তারা তাদের (পশ্চিমাদের) কাছে কম প্রিয় হতে পারে।

না, আমি নিজেও দুঃখিত। মহিব উল্লাহর মতো একজন ইতিবাচক ব্যক্তি যিনি ইতিবাচক কথা বলতেন, তাঁকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এর বিচার অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু পশ্চিমাদের একপেশে, একচোখা নীতি এখানে স্পষ্ট। মূল কারণের ব্যাপারে তাদের কোনো দ্বিধা নেই। মিয়ানমারের ওপর তাদের কোনো চাপ নেই। কিন্তু মহিব উল্লাহ মারা গেছেন এটা নিয়ে তারা একেবারে আকাশ-পাতাল করে ফেলছে!

 



সাতদিনের সেরা