kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

নে সান লুইন

রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ নির্মূল করতে হবে

২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ নির্মূল করতে হবে

কালের কণ্ঠ : মহিব উল্লাহর মৃত্যু রোহিঙ্গাদের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে?

নে সান লুইন : মহিব উল্লাহ রোহিঙ্গা নেতা হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রোহিঙ্গা শিবিরের সবাই তাঁর কথা শুনত। তিনি অবিশ্বাস্য কাজ করেছিলেন। এখন প্রশ্ন, তাঁর অনুপস্থিতিতে সেগুলো কে করবে? এক ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মহিব উল্লাহ যে ধরনের সহিংস হামলার শিকার হয়েছেন, তা-ও সেখানে সব বাসিন্দার জন্য উদ্বেগের। মহিব উল্লাহর ভাই অভিযোগ করেছেন, আরসাই মহিব উল্লাহকে হত্যা করেছে। এটিই প্রথম নয়, এর আগে আরো অনেক রোহিঙ্গা সেখানে হত্যার শিকার হয়েছে। তিন বছর আগে আরিফ উল্লাহ নামের আরেক রোহিঙ্গা নেতা হত্যার শিকার হয়েছেন। এখন সবাই আতঙ্কে আছে।

বিশেষ করে, মহিব উল্লাহর ভাই ও মহিব উল্লাহর সংগঠনের সদস্যরা খুবই ভয়ে আছেন। আমরা মহিব উল্লাহ হত্যার ন্যায়বিচার ও সব রোহিঙ্গার সুরক্ষা চাই।

 

কালের কণ্ঠ : রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব কার?

নে সান লুইন : আমাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে যেকোনো অপরাধীকে নির্মূল করতে উদ্যোগ নিতে পারে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছেই নিরাপত্তা, সুরক্ষা চাই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কারিগরিসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া।

 

কালের কণ্ঠ : মহিব উল্লাহ বা তাঁর সংগঠনের কেউ কি কোনো হুমকি বা ঝুঁকির কথা আপনাদের বলেছিলেন?

নে সান লুইন : মহিব উল্লাহকে আমি ২০১২ সাল থেকে চিনি। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশে আসার পর থেকে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে সরব ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কোনো একদিন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া এবং সম্মান ও অধিকার নিয়ে নিজ দেশে বসবাস করাই এ সংকটের সমাধান। কিন্তু অনেকে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিরোধী। তারা হুমকি দিচ্ছিল।

শুধু মহিব উল্লাহ নন, আরো যাঁরা শান্তির বার্তা, প্রত্যাবাসনের পক্ষে কথা বলেছেন তাঁরা হুমকির শিকার হয়েছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, তাঁরা কেউই সুরক্ষা পাচ্ছেন না। এই মুহূর্তে আশ্রয় শিবিরে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের নির্মূল করা খুবই জরুরি।

 

কালের কণ্ঠ : যারা হুমকি দিচ্ছে তাদের কি আপনারা চিহ্নিত করতে পেরেছেন?

নে সান লুইন : আট মাস আগে আমার এক সহকর্মী অপহৃত হয়েছিলেন। মহিব উল্লাহর ভাই হাবিব উল্লাহ গত বুধবারের ঘাতকদলের তিনজনকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা হলেন আবদুর রহিম, মুর্শেদ ও লালু। আমি জানতে পেরেছি, আট মাস আগে তাঁরাই আমার সহকর্মী অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমার সহকর্মীকে মিয়ানমারের ভেতর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁকে তিন মাস পর মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আমি বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ অনেককেই জানিয়েছিলাম, কিন্তু তখন আমি এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো উদ্যোগ দেখিনি।

 

কালের কণ্ঠ : প্রত্যাবাসনের পক্ষে বলার কারণেই কি মহিব উল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন?

নে সান লুইন : রাজনীতিতে অনেক মত থাকে। কেউ আমার সঙ্গে একমত হতে পারে, আবার কেউ না-ও হতে পারে। লোকজনই তার নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে কি যাবে না, সে সিদ্ধান্ত প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবেই নেবে। মহিব উল্লাহ কাউকে জোরজবরদস্তি করেননি। তিনি ফেরার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। কেউ তাঁর সঙ্গে একমত না হলে কথা বলতে পারেন, কিন্তু এভাবে মেরে ফেলতে পারেন না। এমন সহিংসতা করার অধিকার কারো নেই।

 



সাতদিনের সেরা