kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার : মো. তাজুল ইসলাম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

সংসদ এলাকায় রাজাকারের কবর থাকতে পারে না

► গ্রিডলাইন করা গেলে সংকট হলেই নদীরপানি নেওয়া যাবে
► মানসম্মত রাস্তার জন্য দরকার মানসম্মত ইট ও বিটুমিন

১ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



সংসদ এলাকায় রাজাকারের কবর থাকতে পারে না

‘আমার বিবেক কখনোই এখানে এমন একজনের কবর থাকার বিষয়টি সায় দেয় না’—কালের কণ্ঠকে বলছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কবর থাকবে টুঙ্গিপাড়া আর জাতির গৌরবোজ্জ্বল স্থানে থাকবে স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর?।’ সরকারের বর্তমান মেয়াদের শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা তাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ডেঙ্গু সমস্যাসহ রাজনৈতিক কিছু বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। অনেক জনপ্রতিনিধিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া মানে পেশাদারিকে সম্মানিত করা।’ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি হায়দার আলী। সঙ্গে ছিলেন নিজস্ব প্রতিবেদক জহিরুল ইসলাম।

 

কালের কণ্ঠ : ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে মন্ত্রণালয়ের সাফল্য-ব্যর্থতার কী মূল্যায়ন করেন?

তাজুল ইসলাম : ২০১৯ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর চরম তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় ডেঙ্গু নিয়ে। ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করছে কলকাতা, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, এমনকি ইউরোপেরও কোনো কোনো অঞ্চল। এসব অভিজ্ঞতা পুঁজি করে এখন লড়াইটা করছি। আমরা দেখেছি, বৃষ্টির পানি জমলে এডিস মশার লার্ভা হয়, সেখানে আমরা ওষুধ দিতে পারি। ফুলের টব, বাড়ির ছাদ ও ফ্রিজের নিচে জমানো পানিও তিন দিন পর পর পরিষ্কার করতে পারি। পরিষ্কার করা না গেলে একটু কেরোসিন দিতে পারলেও লার্ভা দমন হয়। এর ওপর বিজ্ঞাপন বানিয়ে গত বছর আমরা প্রচার করেছি, এখনো প্রচার করছি। মানুষ সচেতন হয়েছে। যে কারণে ২০২০ সালে আক্রান্ত কমে এসেছিল এক হাজার ৪০৫ জনে। আমরা মনে করি, পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় এটা সফল ছিল।

আমরা সিটি করপোরেশনের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করেছি। এর আলোকে তিন হাজার লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওষুধ মজুদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওষুদেরও এমন মাত্রা নির্ধারণ করেছি, যাতে মশা মরে, কিন্তু মানুষের ক্ষতি না হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউন্সিলরদের নিয়ে প্রতি মাসে বৈঠক করেছি, কখনো কখনো মেয়রদের সঙ্গেও  বৈঠক করেছি। সব মিলিয়ে এ বছরও আমরা আশা করেছিলাম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, কিন্তু লকডাউন ও ঈদের কারণে মানুষ দীর্ঘদিন গ্রামে থাকায় আবাসনগুলোতে ওষুধ স্প্রে করা যায়নি। এসব কারণে এবার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তবে এর পরও আমাদের অবস্থা ভিয়েতনামের মতো  হয়নি। যেমন ২১ জুলাই ভিয়েতনামে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার, মালয়েশিয়ায় ১৪ হাজার। কেউ কেউ এমনও বলে, আমরা গুরুত্ব সহকারে কাজ না করলে চার-পাঁচ লাখ লোক আক্রান্ত হতে পারত।

 

কালের কণ্ঠ : আগামী মৌসুমের জন্য কেমন প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছেন?

তাজুল ইসলাম : আমরা আরো প্রশিক্ষণ নেব, কোনো দুর্বল জায়গা থাকলে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেব। আগামী দিনে লকডাউন না থাকলে সমস্যা হবে না বলেও মনে করি।

 

কালের কণ্ঠ : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকায় আপনি কি সন্তুষ্ট?

তাজুল ইসলাম : অভিযোগ উঠেছে, উত্তরে যতটা তৎপরতা রয়েছে, দক্ষিণে ততটা নেই। তৎপরতা কিছুটা কমবেশি থাকতে পারে, তবে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি আমি দেখিনি।

 

কালের কণ্ঠ : মহানগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনার ভাবনাটা যদি বলেন...

তাজুল ইসলাম : উন্নত বিশ্বে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ২০১৯ সালে মন্ত্রী হওয়ার পরপরই এই প্রক্রিয়া শুরু করি। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে অনুমোদন করেছি। ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় প্রক্রিয়াধীন। বর্জ্যকে ব্যবস্থাপনা যদি না করতে পারি, দুর্গন্ধ ও ময়লা ছড়াবে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। পলিথিন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে, পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।

 

কালের কণ্ঠ : অভিযোগ আছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা ‘বাণিজ্য’ করেন...

তাজুল ইসলাম : আমাদের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে—এ বিষয়ে আমি দ্বিমত করব না। কিছু অভিযোগ রয়েছে। আমি একটি মডেল দাঁড় করাতে যাচ্ছি। তারা যেন কাজ দরপত্রের মাধ্যমে ৃেদয়। এখানে যদি বাসাবাড়ি থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ৫০-১০০ টাকা করে নেন তাতে কিছু আয়ও হলো, দুর্নীতিও বন্ধ হলো।

 

কালের কণ্ঠ : আপনার মন্ত্রণালয়েও কেউ কেউ দুর্নীতি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাজুল ইসলাম : আমি মনে করি, আগের চেয়ে বেশি স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যতগুলো প্রকল্প হবে শতভাগ গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে। যেন প্রাক্কলন ও  সুপারভিশন ঠিকমতো হয়, কাজ সময়মতো হয়। এগুলো করলে আমার মনে হয় দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।

 

কালের কণ্ঠ : ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আপনি। বাস্তবায়ন কতটুকু হলো?

তাজুল ইসলাম : আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর ১০-১২টি সভা করেছি। কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ করা দরকার আমরা তা চিহ্নিত করেছি। সব সমন্বয় করা হচ্ছে। আরো কেউ যদি কথা বলতে চায়, তাদের কথা শুনব। তারপর সেমিনার করে গেজেট আকারে প্রকাশ করব।

 

কালের কণ্ঠ : নদী দখলমুক্ত করার বিষয়ে আপনার মতামত কী?

তাজুল ইসলাম : রাজধানীর অনেক খাল সিটি করপোরেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা অনেকটির দখলদারদের উচ্ছেদ করেছে। জলাশয়গুলো স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করতে না পারলে অনেক সমস্যা হবে। এগুলো সংরক্ষণ করতে হলে দখলমুক্ত করে খননকাজও চালাতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের ধারণাটা কেমন?

তাজুল ইসলাম : সিইও নিয়োগ করতে পারলে কাজের স্বচ্ছতা ও সেবার মান বাড়বে। পৌরসভার আয় বৃদ্ধি করা, স্বনির্ভর করা এবং কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটর করা যাবে। যার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি সিইও নিয়োগ করার জন্য। আমি কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর কাছে, তিনি এটি অনুমোদন দিয়েছেন। অনেক জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অন্যগুলোতে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান।

 

কালের কণ্ঠ : অভিযোগ আছে, পৌরসভায় কর্মচারীদের বেতন ঠিকমতো হয় না, অনেক সময় আন্দোলনের খবর পাওয়া যায়!

তাজুল ইসলাম : আমি যখন এই দায়িত্বে আসি ৩০-৩৫টি পৌরসভা ঠিকমতো বেতন দিতে পারত। এখন প্রায় সবাই বেতন দিতে পারছে। মাত্র ৬০-৭০টি পৌরসভা পুরো বেতন দিতে পারছে না। প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে। আমার কাছে পাঁচজন মেয়রের বিদেশ সফরের চিঠি এলো। আমি তখন লিখলাম, কর্মচারীদের বেতন ঠিকমতো হয়েছে কি না? তথ্যসহ উত্থাপন করুন। দেখা গেল, চারটির বেতন ঠিকমতো হয় না। তখন আমি লিখলাম, যাঁদের বেতন ঠিকমতো হচ্ছে না, তাঁদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য বিদেশ সফরের কোনো সুযোগ নেই। এতে স্বাভাবিকভাবে বার্তা চলে গেছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করতেও কাজ করছি। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে নিরপেক্ষ অডিটর নিয়োগ করেছি। সিটি করপোরেশনগুলোকে তিন মাস পর পর আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে বলা হয়েছে। অনেক জনপ্রতিনিধিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া মানে, যারা পেশাদার তাদের সম্মানিত করা। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের রাস্তার আইডি নম্বর করতে বলা হয়েছে। আইডি নম্বর না থাকলে সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হবে না। কিছু পৌরসভায় আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হিসাব নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পাওয়া গেলে বাতিল করা হচ্ছে। আয় কত হয়, আরো কিভাবে বাড়তে পারে—প্রাক্কলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধির তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে—এতে তাঁরা দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। তাঁরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে ভালো অর্জনও হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : প্রধানমন্ত্রীঘোষিত ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্প বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

তাজুল ইসলাম : আমরা টিএ (টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স) প্রকল্প নিয়েছি। করোনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও এখন শেষ করে এনেছে। ‘আমার গ্রাম আমার শহর’-এর মর্মার্থ হচ্ছে, শহরের সব সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া। নিজ নিজ মন্ত্রণালয় তাদের কাজ করবে, প্রকল্প নেবে। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি। গ্রামে শহরের সুবিধা যাওয়া মানে গাড়ির সংখ্যাও বাড়বে, তখন রাস্তা আরো বেশি লাগবে। হাউজিংগুলো এমনভাবে করতে হবে যেন পয়োনিষ্কাশন, পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

 

কালের কণ্ঠ : রাস্তা ডিজাইনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

তাজুল ইসলাম : উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে ডিজাইন করতে বলা হয়েছে। কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে ডিজাইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমি দেখলাম, মানসম্মত ইট তৈরি করা হয় না। তাই ডিসি-ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরিপত্র জারি করা হয়েছে ইটের সাইজ যেন ইউনিক হয়, মান যেন ঠিক থাকে। মানসম্মত বিটুমিনও যাতে আমদানি হয় সে জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। তারা যেন কাস্টমস পয়েন্টে কোয়ালিটি নিশ্চিত করে, বিএসটিআই যেন টেস্ট করে।

 

কালের কণ্ঠ : ন্যাশনাল ওয়াটার গ্রিড লাইন সম্পর্কে জানতে চাই।

তাজুল ইসলাম : প্যানপ্যাসিফিক অঞ্চলের মন্ত্রীদের বৈঠকে কথাটা আমি তুলেছিলাম। বিশ্বে অনেক দেশে পানির সংকট রয়েছে, আমাদের দক্ষিণাঞ্চলেও লবণাক্ততা রয়েছে। আমরাও যদি পাইপলাইনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, যেখানেই সংকট হবে, সেখানেই নদ-নদীর পানি নেওয়া যাবে। সে জন্য একটি প্রাইমারি স্টাডি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ রকম মেগাপ্রকল্প নিয়ে কাজ করতে হলে আগামী ৫০ বছর পরের চিত্র কী হবে—যেমন ব্রহ্মপুত্রের উজানে চীন বাঁধ দিচ্ছে, ভারত অনেক নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা কী হবে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : ১০ বছর পর বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান?

তাজুল ইসলাম : আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে দেখতে চান। শুধু স্বপ্ন নয়, সেই লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণ করেছেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করছি। আমি বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী ১০ বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাছাকাছি চলে যাবে। শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে, খোলা স্থানে মলত্যাগ জিরোতে আনতে সক্ষম হয়েছি। মেট্রো রেল হচ্ছে, পদ্মা সেতু হচ্ছে, ফ্লাইওভার হয়েছে, কর্ণফুলী ট্যানেল হয়েছে, ইকোনমিক জোন হচ্ছে, মেরিন ড্রাইভ হয়েছে। দু-এক বছরের মধ্যে আরো অনেক কাজ শেষ হবে। তখন বাংলাদেশের অবস্থা আরো অভূতপূর্ব পরিবর্তন হবে। গোটা জাতি এই পরিবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নেতৃত্বের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : এর পরও তো কোনো কোনো মহল দেশ-বিদেশ থেকে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে...

তাজুল ইসলাম : উন্নয়নে তাদের গা জ্বালা শুরু হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘে গেছেন, তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। সমসাময়িক কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে প্রশংসা করা হয়নি। সঠিক নেতৃত্ব রয়েছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান আমলে ২৫ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছিল ৬৬ ডলার, বিএনপি ও অন্যান্য দলের ২১ বছরে বাড়ে ৬২ ডলার; আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ বছরে এক হাজার ৫০০ ডলার বাড়িয়েছেন। মানবসূচকেও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এর পরও নেতৃত্ব নিয়ে যারা বিতর্ক করে তাদের বলব, দেশ-জাতির শত্রু না হলে কেউ এই বিতর্ক করতে পারে না। বিএনপি বলে থাকে—সময়ের ব্যবধানে এই উন্নয়ন হয়েছে, সরকার যেই থাকুক উন্নয়ন হতো। তাহলে কেন ২১ বছরে ৬২ ডলার হলো? এখন কেন ১২ বছরে এক হাজার ৫০০ ডলার হলো?

 

কালের কণ্ঠ : সংসদ এলাকায় জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কিছুদিন ধরে জোর বিতর্ক চলছে...

তাজুল ইসলাম : আমার বিবেক বলছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে ওতপ্রোত যোগসাজশ ছিল—এমন একজনের কবর পবিত্র জায়গায় থাকতে পারে না। জাতিকে পবিত্র করার জন্য জনগণের সোচ্চার হওয়া উচিত। লুই আই কানের নকশায় কোনো কবরস্থান রাখা হয়নি। রাজাকার খান এ সবুরকে কেন এখানে কবর দিতে হলো, সেটাই বড় বিস্ময়। বঙ্গবন্ধুর কবর থাকবে টুঙ্গিপাড়া আর জাতির গৌরবোজ্জ্বল স্থানে স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর থাকবে? যাঁরা দেশটাকে স্বাধীন হতে দিতে চাননি, তাঁদের কবর এখানে থাকবে? জাতির বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন থাকল।

 

কালের কণ্ঠ : মাননীয় মন্ত্রী, আপনাকে ধন্যবাদ।

তাজুল ইসলাম : আপনাদেরও ধন্যবাদ।

 



সাতদিনের সেরা