kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহকে গুলি করে হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ও কক্সবাজার   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহকে গুলি করে হত্যা

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহ। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর পরিচালিত সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে গুলি করে বন্দুকধারীরা।

মহিব উল্লাহ এআরএসপিএইচের চেয়ারম্যান ছিলেন। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের দায়িত্বে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক জানান, এশার নামাজের পর রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে রোহিঙ্গা শিবিরের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ সুপার নাঈমুল হক জানান, সন্ত্রাসীরা মহিব উল্লাহকে লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি করে। এর মধ্যে তিনটি গুলি তাঁর দেহে বিদ্ধ হলে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর মরদেহ উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডের পর শিবিরগুলোতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক রোহিঙ্গা কান্নায় ভেঙে পড়ে। জানা গেছে, কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের সাধারণ রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে চায়। নিহত রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহ সাধারণ রোহিঙ্গাদের দাবিদাওয়া নিয়েই লড়ে আসছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই সাধারণ রোহিঙ্গারা প্রকাশ্যে বলছে, দীর্ঘদিন ধরে শিবিরগুলোতে দাপট দেখানো সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠীই মহিব উল্লাহকে হত্যা করে থাকতে পারে। ওই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো মিয়ানমারে ফিরতে চায় না। বরং যারা মিয়ানমারে ফেরার পক্ষে কথা বলে, তাদের ওপর হামলা চালায়। মহিব উল্লাহ সাধারণ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে উদ্বুদ্ধ করে আসছিলেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীগোষ্ঠী মহিব উল্লাহকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। কিন্তু দমাতে না পেরে তাঁকে চিরতরে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢলের বার্ষিকীতে মহিব উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশে থাকতে চান না, যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরতে চান।

 



সাতদিনের সেরা