kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল এএসআইর

রংপুর অফিস   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল এএসআইর

রংপুরে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পিয়ারুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে রংপুরের হারাগাছ থানার বাহারকাছনা এলাকায় মাদক মামলার আসামির ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাদক কারবারি পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হারাগাছ থানার ওসি শওকত আলী সরকার। নিহত পিয়ারুল কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতি চন্দ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আব্দুর রহমান মিন্টু মিয়ার ছেলে। ২০১১ সালে কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগদান করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে হারাগাছ থানার এএসআই পিয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাহারকাছনা এলাকায় মাদক কারবারি পলাশকে ১৫১ পিস ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করে। এ সময় এএসআই পিয়ারুলকে ছুরি দিয়ে গুরুতর আহত করে পলাশ। আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে দ্রুত রংপুর  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল সোয়া ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।  হারাগাছ থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান, এ ঘটনায় হত্যা ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলারই বাদী পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, পিয়ারুল চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ময়নাতদন্ত শেষে রংপুর পুলিশ লাইনসে প্রথম জানাজার পর গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর অকালমৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন স্ত্রী হাবিবা আক্তার হেনা। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পিয়ারুলের দুই ছেলের মধ্যে বড় চার বছরের হাম্মাম অবাক নয়নে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে সবার দিকে। আর ছোট ছেলে দেড় বছর বয়সের আবরার বুঝতেই পারছে না তার বাবা আর পৃথিবীতে নেই, কখনো তাকে আদর করে কোলে তুলে নেবেন না। চার ভাই-বোনের মধ্যে পুলিশের এএসআই পিয়ারুল ছিলেন সবার বড়। বাকি ভাই-বোন স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে।

পিয়ারুলের বাবা আব্দুর রহমান মিন্টু মিয়া কোনো কিছু বলতে পারছিলেন না। শুধু বলছেন, ‘আমার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।’ স্বজনরা বলছে, পিয়ারুলকে ঘিরে স্কুলশিক্ষক বাবা মিন্টু মিয়া অনেক স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর মতো করে বাকি তিন ছেলে-মেয়েকেও মানুষ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সে আশা আর পূরণ হলো না। পিয়ারুলের ছোট ভাই মাসুদুর রহমান জানান, ছুটি পেলেই বাড়িতে ছুটে আসতেন পিয়ারুল। সবার খোঁজখবর নিতেন। ছোট ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচও দিতেন তিনি। এলাকায় একজন ভালো মানুষ হিসেবে পিয়ারুলের সুনাম ছিল খুব।

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ছোট তিন ভাই-বোন তাঁর মতো হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি অকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, এখন কী হবে জানি না।’ খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা